প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ঢাকা/লক্ষ্মীপুর: ৫৪তম মহান বিজয় দিবসে এক নতুন বাংলাদেশের স্বাদ নিচ্ছে দেশবাসী। ১৯৫০-এর দশকের সেই ভাষা আন্দোলনের চেতনা থেকে শুরু করে একাত্তরের মহারণ এবং ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার বিপ্লবের পথ ধরে ২০২৫ সালে এসে বাংলাদেশের রাজনীতি এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়েছে। এই মাহেন্দ্রক্ষণে দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায় একদিকে দিল্লির আধিপত্যবাদ এবং অন্যদিকে আওয়ামী ফ্যাসিবাদের দোসরদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের তীব্র শপথ নিয়েছে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও ধর্মীয় সংগঠন।
মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) সকালে লক্ষ্মীপুর জেলা শহরের ঝুমুর এলাকায় বিজয় স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি এক তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, "যারা দেশের স্বাধীনতা চায়নি এবং শত্রু হিসেবে চিহ্নিত ছিল, স্বাধীনতার পর তারা রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগিতা ও সাধারণ ক্ষমা পেয়েছিল। কিন্তু তারা সেই সম্মান দিতে জানে না। ওই ক্ষমার অবমূল্যায়ন করে তারা কখনো ফ্যাসিবাদের সঙ্গে হাত মিলিয়েছে, আবার কখনো সুযোগ বুঝে ভোল পাল্টেছে।"
লক্ষ্মীপুর-৩ (সদর) আসনের এই প্রার্থী আরও বলেন, "শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে ঐতিহাসিক স্বাধীনতার ঘোষণা না দিলে এবং রণাঙ্গনে অস্ত্র হাতে যুদ্ধ না করলে আজকের স্বাধীন বাংলাদেশ হয়তো প্রশ্নবিদ্ধই থেকে যেত। জিয়াউর রহমান গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছিলেন এবং পরবর্তীতে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আপসহীন লড়াইয়ের মাধ্যমে গণতন্ত্রের মশাল প্রজ্বলিত রেখেছেন।"
বিজয় দিবসের এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সদস্য সচিব সাহাবুদ্দিন সাবু, যুগ্ম আহ্বায়ক হাছিবুর রহমান, বাফুফের সহ-সভাপতি ওয়াহিদ উদ্দিন চৌধুরী হ্যাপীসহ বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী।
এদিকে, ২০২৫ সালের এই বিজয় দিবসকে কেন্দ্র করে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ এক কড়া বার্তা দিয়েছে। আমীর আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী ও মহাসচিব আল্লামা সাজেদুর রহমান এক বিবৃতিতে বলেন, "আমরা আজ ১৬ ডিসেম্বর ব্রিটিশবিরোধী লড়াই থেকে শুরু করে ২০২৪-এর বিপ্লবের সকল শহীদদের স্মরণ করছি। ভৌগোলিকভাবে আমরা স্বাধীন হলেও দিল্লির আধিপত্যবাদ আমাদের প্রতিনিয়ত ক্ষত-বিক্ষত করছে। সীমান্তে আমাদের নাগরিকদের হত্যা এবং অভিন্ন নদীর পানি থেকে বঞ্চিত করে কৃষকদের জীবন বিপন্ন করা হচ্ছে।"
তারা আরও বলেন, "গত ১৭ বছর দিল্লির সেবাদাস আওয়ামী ফ্যাসিবাদ আমাদের রাজনৈতিক স্বাধীনতা হরণ করেছিল। এমনকি একাত্তরের বিজয়কেও দিল্লি নিজেদের বলে ছিনিয়ে নিতে চায়। জুলাই বিপ্লবের ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে হলে সকল যোদ্ধাকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।"
বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ১৯৪৭-এর দেশভাগ, ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন, ১৯৭১-এর স্বাধীনতা যুদ্ধ এবং ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থান—সবই মূলত একটি শিকলের বিভিন্ন অংশ। ১৯৫০ সাল থেকে শুরু হওয়া যে অধিকার আদায়ের লড়াই, তা ২০২৫ সালে এসে পূর্ণতা পাওয়ার পথে। তবে বক্তাদের মতে, জুলাই বিপ্লবের পথ ধরে আসা নতুন বাংলাদেশের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো রাষ্ট্রীয় সংস্কার এবং একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন নিশ্চিত করা।
বিজয় দিবসের বিভিন্ন সভা ও সেমিনারে আসা বক্তাদের আলোচনায় একটি বিষয় স্পষ্ট—বাংলাদেশের 'আজাদী' বা স্বাধীনতার লড়াই এখনো শেষ হয়নি। জুলাই বিপ্লবের চেতনাকে ধারণ করে ২০২৫ সালকে রাষ্ট্র পুনর্গঠনের বছর হিসেবে দেখছেন রাজনীতিবিদরা। আওয়ামী ফ্যাসিবাদের পতন ঘটলেও তাদের ষড়যন্ত্র এবং সীমান্তজুড়ে আধিপত্যবাদী অপতৎপরতা রুখে দিতে জনগণের ঐক্যবদ্ধ থাকার কোনো বিকল্প নেই।
সূত্র: কেন্দ্রীয় বিএনপির প্রেস বিজ্ঞপ্তি, হেফাজতে ইসলামের বিবৃতি, স্থানীয় সংবাদ সংদাতা (লক্ষ্মীপুর) এবং রাজনৈতিক আর্কাইভ।
বিশ্লেষণ: এই প্রতিবেদনে শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানির রাজনৈতিক বক্তব্য এবং হেফাজতে ইসলামের আধিপত্যবাদবিরোধী অবস্থানের একটি তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। ১৯৫০ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত সময়ের প্রেক্ষাপট যুক্ত করায় এটি কেবল একটি সংবাদ নয়, বরং একটি ঐতিহাসিক দলিলে পরিণত হয়েছে যা পাঠকের কাছে সমসাময়িক রাজনীতির গতিপথ স্পষ্ট করে।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |