প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য না আসলেও দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলা থেকে উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম জব্দ করার দাবি করেছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। শুক্রবার (৮ মে, ২০২৬) মার্কিন জ্বালানি বিভাগ এক ঘোষণায় জানায়, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নেতৃত্বে কারাকাসের একটি পুরোনো গবেষণা চুল্লি থেকে ১৩.৫ কেজি (প্রায় ৩০ পাউন্ড) ইউরেনিয়াম সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) জানিয়েছে যে, এই তেজস্ক্রিয় পদার্থটি কারাকাস থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরের একটি স্থান থেকে অত্যন্ত সংবেদনশীল প্রক্রিয়ায় সংগ্রহ করা হয়েছে। স্থল ও জলপথ পাড়ি দিয়ে ইউরেনিয়ামটি বর্তমানে দক্ষিণ ক্যারোলিনায় মার্কিন জ্বালানি বিভাগের একটি কমপ্লেক্সে নিরাপদ হেফাজতে রাখা হয়েছে। ব্রিটেন, যুক্তরাষ্ট্র এবং ভেনেজুয়েলার এই যৌথ অভিযানকে ওয়াশিংটন তাদের জন্য একটি 'বড় জয়' হিসেবে দেখছে।
গত ৩ জানুয়ারি ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটকের নির্দেশের পর বর্তমানে কারাকাসের সঙ্গে সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছে হোয়াইট হাউস।
ট্রাম্প বর্তমানে মাদুরোর ভাইস-প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজকে স্বীকৃতি দিয়েছেন।
ভেনেজুয়েলার জ্বালানি ও খনি খাত মার্কিন কোম্পানিগুলোর জন্য উন্মুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
দীর্ঘ সাত বছর পর দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক বিমান চলাচল এবং মার্কিন দূতাবাস পুনরায় চালু হয়েছে।
তবে এই সমঝোতা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। একদিকে ব্যবসায়ীরা তেলের খনিগুলোতে বিনিয়োগের সুযোগ দেখছেন, অন্যদিকে গণতন্ত্রকামী কর্মীরা অভিযোগ করেছেন যে ট্রাম্প নির্বাসিত বিরোধী নেত্রী ও নোবেলজয়ী মারিয়া করিনা মাচাদোকে পাশ কাটিয়ে রদ্রিগেজের সাথে আপস করেছেন।
বিশ্ব রাজনীতির এই কৌশলী পরিবর্তন ও পরাশক্তির আধিপত্য বিস্তারের লড়াই বাংলাদেশের জন্য সবসময়ই এক গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষার বিষয়। ১৯০০ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত এদেশের ইতিহাসও বড় শক্তির প্রভাব এবং নিজেদের সার্বভৌমত্ব রক্ষার লড়াইয়ের এক চিত্রপট।
বিংশ শতাব্দীর শুরু ও ব্রিটিশ আমল (১৯০০-১৯৪৭): ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ উত্তরকালে ব্রিটিশদের 'ভাগ করো ও শাসন করো' নীতি এবং সম্পদের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার যে কৌশল ছিল, বর্তমানের বৈশ্বিক জ্বালানি ও পরমাণু রাজনীতিতে তার আধুনিক রূপ লক্ষ্য করা যায়।
স্বাধীনতা ও আত্মমর্যাদা (১৯৭১): ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সেই ঐতিহাসিক ভাষণ ছিল মূলত শোষণ থেকে মুক্তির অঙ্গীকার। মুক্তিযুদ্ধের সময়ও পরাশক্তিগুলোর পক্ষ পরিবর্তন এবং নিজেদের স্বার্থে জোট গঠনের বিষয়টি বাংলাদেশের কূটনৈতিক ইতিহাসে বড় শিক্ষা হয়ে আছে।
গণতন্ত্র ও ২০২৬-এর নতুন বাংলাদেশ: ১৯৯০ সালের স্বৈরাচার পতনের পর বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক যাত্রায় বৈদেশিক ভারসাম্য রক্ষার চেষ্টা করে। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর ২০২৫-২৬ সালে বাংলাদেশ এখন এক নতুন রাষ্ট্র সংস্কারের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই সময়ে ভেনেজুয়েলা বা ইরানের মতো দেশগুলোর সাথে পরাশক্তিগুলোর দরকষাকষি বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক বাণিজ্যের ওপর প্রভাব ফেলে।
বিশ্লেষকদের মতে, গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর তেহরানের হাতে থাকা ৪০৮ কেজি ইউরেনিয়াম জব্দ করার লক্ষ্য থাকলেও ট্রাম্প সেখানে সফল হতে পারেননি। সেই তুলনায় ভেনেজুয়েলার এই ১৩.৫ কেজি ইউরেনিয়াম জব্দ করা একটি প্রতীকী সাফল্য মাত্র। ইতিহাস সাক্ষী, ১৯০০ সালের পরাধীন আমল থেকে ২০২৬ সালের এই উত্তাল সময় পর্যন্ত পরাশক্তিগুলো সবসময়ই ছোট দেশের সম্পদ ও সার্বভৌমত্বের ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছে। বাংলাদেশের জন্য বর্তমান চ্যালেঞ্জ হলো এই বৈশ্বিক মেরুকরণের মাঝে নিজের জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করা।
সূত্র: ১. মার্কিন জ্বালানি বিভাগ ও আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) রিপোর্ট (৮ মে, ২০২৬)। ২. ঐতিহাসিক দলিল: বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও কূটনৈতিক বিবর্তন (১৯৭১-২০২৬)। ৩. দৈনিক যুগান্তর (মূল সংবাদ ও বিশ্লেষণ সূত্র)।
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ সিনিয়র এসইও কনসালট্যান্ট ও ডিজিটাল পাবলিশার
ওয়েবসাইট:
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |