| বঙ্গাব্দ

বিজয় দিবসের ৫৪ বছর: ইসলাম ও কোরআনের আলোকে বিজয়ের তাৎপর্য ও করণীয়

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 16-12-2025 ইং
  • 3026723 বার পঠিত
বিজয় দিবসের ৫৪ বছর: ইসলাম ও কোরআনের আলোকে বিজয়ের তাৎপর্য ও করণীয়
ছবির ক্যাপশন: বিজয় দিবসের ৫৪ বছর


বিজয় দিবসের ৫৪ বছর: ইসলামি ভাবধারায় বিজয়ের তাৎপর্য ও ঐতিহাসিক পরিক্রমা

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

ঢাকা: আলহামদুলিল্লাহ! আজ ১৬ ডিসেম্বর, ২০২৫। বাংলাদেশের বিজয়ের ৫৪ বছর পূর্ণ হলো। বিজয় মানে কেবল একটি ভৌগোলিক মানচিত্রের স্বাধীনতা নয়; বিজয় মানে জুলুমের শৃঙ্খল ভেঙে আত্মমর্যাদা ও ন্যায়ের আলোয় উদ্ভাসিত হওয়া। পরাধীনতার অন্ধকার ছিন্ন করে ১৯৭১ সালের এই দিনে বাংলার আকাশে উদিত হয়েছিল স্বাধীনতার রক্তিম সূর্য। ইসলাম ও কোরআনের আলোকে এই বিজয় দিবসের গুরুত্ব এবং ১৯৫০ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিবর্তনের এক অনন্য অধ্যায় আজ আমাদের সামনে।

১৯৫০-১৯৭১: শোষণের বিরুদ্ধে সংগ্রামের ইতিহাস

বাঙালির বিজয়ের বীজ বপন করা হয়েছিল ১৯৫০-এর দশকে। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন ছিল মূলত আত্মপরিচয় রক্ষার প্রথম ধাপ। এরপর দীর্ঘ ২৩ বছরের রাজনৈতিক লড়াই, শোষণ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর মহাকাব্য। পাকিস্তান নামক রাষ্ট্রটি ইসলামি আদর্শের ভিত্তিতে গঠিত হওয়ার দাবি করলেও পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী এ দেশের মানুষের ওপর ধর্মীয় ও রাজনৈতিক যে জুলুম চালিয়েছিল, তার অবসান ঘটে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর। ইসলাম কোনোভাবেই মানুষের ওপর জুলুম বা বৈষম্য সমর্থন করে না; বরং তা রুখে দেওয়াকে ইবাদত হিসেবে গণ্য করে।

ইসলামি দৃষ্টিতে বিজয় ও স্বাধীনতা

অনেকে মনে করেন বিজয় দিবস উদযাপন ইসলামের সঙ্গে সাংঘর্ষিক, যা পুরোপুরি ভুল। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) নিজেও বিজয় ও স্বাধীনতাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছেন। ৮ম হিজরিতে মক্কা বিজয়ের পর তিনি কৃতজ্ঞতার সাথে পবিত্র নগরীতে প্রবেশ করেছিলেন।

তিরমিজি শরিফের ৩৯২৬ নম্বর হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, নবীজি (সা.) হিজরতের সময় অশ্রুসিক্ত চোখে নিজের জন্মভূমি মক্কার উদ্দেশ্যে বলেছিলেন— "হে মক্কা! তুমি আমার কাছে কতই না প্রিয়। আমার স্বজাতি যদি আমাকে বিতাড়িত না করত, তবে আমি তোমাকে ছাড়া অন্য কোথাও বসবাস করতাম না।" এই মাতৃভূমি প্রেমই ছিল আমাদের ১৯৭১-এর বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মূল প্রেরণা।

কুরআনুল কারিমের আলোকবর্তিকা ও বিজয়ের করণীয়

পবিত্র কুরআনে ‘সুরা আন-নসর’ নামে একটি পূর্ণাঙ্গ সুরা নাজিল হয়েছে বিজয়ের ওপর ভিত্তি করে। ২০২৫ সালের এই বিজয় দিবসে দাঁড়িয়ে আমাদের সেই শিক্ষা গ্রহণ করা জরুরি। সুরা আন-নসরের নির্দেশনা অনুযায়ী বিজয়ের চারটি প্রধান করণীয় হলো:

১. কৃতজ্ঞতা: বিজয়কে মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে আসা বিশেষ অনুগ্রহ মনে করা। ২. পবিত্রতা (সুবহানাল্লাহ): বিজয়োল্লাসে মহান রবের মহিমা ঘোষণা করা। ৩. প্রশংসা (আলহামদুলিল্লাহ): আল্লাহর কৃতজ্ঞতা আদায় করা। ৪. ক্ষমা প্রার্থনা (ইস্তিগফার): বিজয়ের আনন্দে উদ্বেলিত হয়ে অহংকারী না হয়ে আল্লাহর কাছে নিজের ভুলভ্রান্তির জন্য ক্ষমা চাওয়া।

১৯৭১ থেকে ২০২৫: বিজয়ের নতুন শপথ

বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫৪ বছরের ইতিহাসে বহু চড়াই-উতরাই এসেছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশ এক দ্বিতীয় স্বাধীনতার স্বাদ পেয়েছে। ২০২৫ সালের এই বিজয় দিবসে দেশবাসী তাই এক নতুন সংস্কারের শপথ নিচ্ছে।

মক্কা বিজয়ের দিন রাসুল (সা.) আট রাকাত ‘বিজয়ের নামাজ’ (সালাতুল ফাতহ) আদায় করেছিলেন। আজকের দিনেও বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য আত্মদানকারী শহীদদের মাগফিরাত কামনা এবং মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো প্রতিটি নাগরিকের ঈমানি দায়িত্ব। ‘বিজয় মেলা’ বা ‘আলোচনা সভা’র মাধ্যমে ইতিহাস বিকৃত না করে সঠিক দেশপ্রেমের শিক্ষা ছড়িয়ে দেওয়া ইসলামের মূল দর্শনেরই অংশ।

উপসংহার

বিজয় দিবস আমাদের জন্য কেবল আনন্দের দিন নয়; এটি কৃতজ্ঞতা, দায়িত্ববোধ ও আত্মশুদ্ধির দিন। ইসলামি মূল্যবোধের আলোকে বিজয় উদযাপন করে আমরা যেন একটি ন্যায়ভিত্তিক, দুর্নীতিমুক্ত ও স্বাধীন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারি—এই হোক ২০২৫ সালের বিজয় দিবসের দৃপ্ত শপথ।


সূত্র: আল কুরআন (সুরা আন-নসর), সুনানে তিরমিজি, বাংলাদেশ প্রতিদিন আর্কাইভ ও জাতীয় ইতিহাস তথ্যশালা।


বিশ্লেষণ: ১৯৫০ সাল থেকে ২০২৫ সালের পরিক্রমায় দেখা যায়, বাংলাদেশের মানুষ বারবার অন্যায়ের বিরুদ্ধে জয়ী হয়েছে। ইসলামের বিজয় নীতি হলো—বিনয় এবং ক্ষমা। ১৯৭১-এর ১৬ ডিসেম্বর যেমন আমরা জুলুমমুক্ত হয়েছিলাম, ২০২৫-এর এই দিনেও আমাদের শপথ হতে হবে ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধের ভিত্তিতে একটি বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গঠন করা।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency