তারেক রহমানের ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন: ১৯৫০ থেকে ২০২৫ পর্যন্ত বাংলাদেশের ক্ষমতার পালাবদল ও এক নতুন অধ্যায়
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘ দুই দশকের প্রতিক্ষার অবসান ঘটতে যাচ্ছে। আগামী ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে দেশে ফিরছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তার এই প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে দেশজুড়ে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা এবং রাজনৈতিক মহলে নতুন মেরুকরণের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। রোববার (২১ ডিসেম্বর) রাতে ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের পক্ষ থেকে এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক অনুমতি পাওয়ার পর বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। ১৯৫০ সালের গোড়ার দিক থেকে শুরু করে ২০২৫ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, তারেক রহমানের এই প্রত্যাবর্তন কেবল একটি রাজনৈতিক দলের নেতার দেশে ফেরা নয়, বরং এটি দেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণের এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
বাঙালির রাজনৈতিক অধিকার আদায়ের যাত্রা শুরু হয়েছিল ১৯৫০-এর দশকে ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে। এরপর ১৯৬৬-এর ৬ দফা এবং ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের মর্মান্তিক ঘটনার পর দেশের রাজনীতিতে আমূল পরিবর্তন আসে। ১৯৭৭ সালে জিয়াউর রহমান ক্ষমতা গ্রহণ করে বহুদলীয় গণতন্ত্রের সূচনা করেন, যা বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ভিত্তি স্থাপন করে। ১৯৮২ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত সামরিক স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে দীর্ঘ সংগ্রামের পর ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে গণতন্ত্রের পুনর্জন্ম হয়।
১৯৯১ সালে সংসদীয় গণতন্ত্রে ফেরার পর বিএনপি তিনবার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসে। এই সময়েই জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার জ্যেষ্ঠ পুত্র তারেক রহমানের রাজনৈতিক উত্থান ঘটে। ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপির বিশাল বিজয়ে তার তৃণমূল সমন্বয় ছিল প্রশংসনীয়। তবে ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি (১/১১) সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় আসার পর তারেক রহমানকে কারাবরণ করতে হয়। ২০০৮ সালে উন্নত চিকিৎসার জন্য তিনি লন্ডনে পাড়ি জমান এবং দীর্ঘ ১৭ বছর প্রবাসে থেকেই দলের নেতৃত্ব প্রদান করেন।
আওয়ামী লীগের ১৫ বছরের শাসনকালে তারেক রহমান ও তার পরিবারের ওপর অসংখ্য মামলা ও দণ্ডাদেশ প্রদান করা হয়। তবে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের এক অভূতপূর্ব গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন ঘটে। ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পদত্যাগের পর বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক নতুন শূন্যতা ও সম্ভাবনার সৃষ্টি হয়। ৮ আগস্ট ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হলে দেশজুড়ে বিচার ও সংস্কারের দাবি ওঠে।
২০২৫ সালটি বাংলাদেশের জন্য পুনর্গঠনের বছর। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সংস্কার প্রক্রিয়ার মধ্যেই তারেক রহমানের দেশে ফেরার ঘোষণা রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন প্রাণের সঞ্চার করেছে। ২১ ডিসেম্বর রাতে বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান নিশ্চিত করেন যে, ২৫ ডিসেম্বরের সংবর্ধনার জন্য ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার শরফ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরীর কাছ থেকে লিখিত অনুমতি পাওয়া গেছে। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী এই অনুমতিপত্র গ্রহণ করেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ১৯৫০ সাল থেকে শুরু হওয়া অধিকার আদায়ের লড়াই ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার বিপ্লব পেরিয়ে ২০২৫ সালে এক নতুন বন্দোবস্তে উপনীত হয়েছে। তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন এই গণতান্ত্রিক রূপান্তরকে আরও বেগবান করবে বলে মনে করা হচ্ছে। বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই ঐতিহাসিক মুহূর্ত উদযাপনে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।
সুত্রসমূহ: ১. বাংলাদেশ প্রতিদিন অনলাইন আর্কাইভ (বিএনপি ও তারেক রহমান সংক্রান্ত বিশেষ সংবাদ)। ২. ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয় (দাপ্তরিক অনুমতি পত্র ও সংবাদ বিজ্ঞপ্তি)। ৩. বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস: ১৯৫০-২০২৫ (গুগল এনালাইসিস ও ঐতিহাসিক নথি)।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |