শহীদ জিয়ার মাজারে বিশৃঙ্খলা: দুঃখ প্রকাশ করলেন ইশরাক হোসেন
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
বাংলাদেশের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে সবসময়ই বড় রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিষ্ঠাতা ও জাতীয় নেতাদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের কর্মসূচিগুলো বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। ১৯৫০-এর দশকে যখন এ দেশে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ভিত্তি রচিত হচ্ছিল, তখন থেকেই জনসমাগম সামলানো রাজনৈতিক নেতৃত্বের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। ২০২৫ সালের বর্তমান প্রেক্ষাপটে এসেও সেই একই চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন বিএনপির প্রভাবশালী তরুণ নেতা ও ঢাকা-৬ আসনের প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন। সোমবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় ঘটা এক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য তিনি দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
১৯৫০-এর দশকে ভাষা আন্দোলন বা ১৯৫৪-র যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনের সময় জনসভায় শৃঙ্খলার বিষয়টি ছিল অত্যন্ত কঠোর। পরবর্তীতে ১৯৯০-এর গণঅভ্যুত্থান এবং ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার বিপ্লবের পর রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে নতুন প্রাণের সঞ্চার হয়েছে। তবে অতিরিক্ত জনসমাগম অনেক সময় বিশৃঙ্খলার জন্ম দেয়। বিশেষ করে ২০২৫ সালের বর্তমান প্রেক্ষাপটে যখন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দামামা বাজছে, তখন প্রতিটি কর্মসূচিতে নেতাকর্মীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এই ভিড় সামলাতে গিয়েই শেরেবাংলা নগরে সোমবার এক অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
সম্প্রতি ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম’-এর আহ্বায়ক নির্বাচিত হয়েছেন ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন। সোমবার নবগঠিত কমিটির সদস্যদের নিয়ে তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন ও ফাতেহা পাঠ করতে যান। কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাত উপস্থিত ছিলেন।
ইশরাক হোসেন তার ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে জানান, প্রোটোকল অনুসারে অতিথিদের নিরাপত্তা ও স্বস্তি নিশ্চিত করা তার দায়িত্ব ছিল। তিনি লিখেছেন, "পুরো কর্মসূচিতে নেতাকর্মীদের ব্যাপক আগ্রহ ও জনসমাগম থাকায়, সিরিয়াল ঠিক করার সময় আমাকে কিছুটা কঠোর অবস্থান নিতে হয়। আহ্বায়ক হিসেবে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের নির্দেশনা বাস্তবায়ন করা আমার দায়িত্ব ছিল।"
শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় হুড়োহুড়ি ও বিশৃঙ্খলার কিছু ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এ বিষয়ে স্বচ্ছ অবস্থান নিতে ইশরাক লিখেছেন, "ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও দেখে কেউ মনোকষ্ট পেয়ে থাকলে, আমি আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি।" তার এই ক্ষমা প্রার্থনাকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা নেতৃত্বের পরিপক্কতা হিসেবে দেখছেন।
১৯৫০ সাল থেকে চলে আসা বাঙালির জাতীয়তাবাদী আন্দোলন এবং ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরাকে বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ মনে করেন ইশরাক। তিনি উল্লেখ করেন, মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস ফেরি করে একদিকে লুটপাটকারীদের রুখে দেওয়া এবং অন্যদিকে যারা এখনো বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে মনে-প্রাণে স্বীকার করেনি, তাদের আস্ফালন দমন করা ‘মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম’ সংগঠনের মূল লক্ষ্য। ২০২৫ সালের এই ক্রান্তিলগ্নে সত্যের জয় এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে বলে তিনি দৃঢ় আশা ব্যক্ত করেন।
বিশ্লেষণ: ১৯৫০ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বিশৃঙ্খলা দমনে কঠোর হওয়া নেতৃত্বের একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া, তবে তা অনেক সময় ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি করে। ইশরাক হোসেনের এই দ্রুত প্রতিক্রিয়া ও দুঃখ প্রকাশ প্রমাণ করে যে, বর্তমান প্রজন্মের নেতারা জনমতের প্রতি অনেক বেশি সংবেদনশীল।
সূত্র: ১. ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেনের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজ (২৩ ডিসেম্বর ২০২৫)। ২. দৈনিক যুগান্তর (জাতীয় রাজনীতি বিভাগ)। ৩. বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রেস উইং ও আর্কাইভ।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |