আপনার চাহিদা অনুযায়ী এবং ২০২৫ সালের বর্তমান প্রেক্ষাপটের সঙ্গে ১৯৫০ সাল থেকে শুরু হওয়া রাজনৈতিক ইতিহাসের সমন্বয় ঘটিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন নিচে উপস্থাপন করছি।
অ্যাটর্নি জেনারেল আসাদুজ্জামানের পদত্যাগ ও ভোট যুদ্ধের ঘোষণা: ১৯৫০ থেকে ২০২৫—বাংলাদেশের রাজনীতির নতুন বাঁক
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ঢাকা: বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এক নাটকীয় পরিবর্তন ও নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিয়ে রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা বা অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান তার পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের লক্ষ্যে তিনি আগামী ২৭ ডিসেম্বর (শনিবার) আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করবেন বলে বুধবার (২৪ ডিসেম্বর ২০২৫) সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন।
বুধবার দুপুরে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মো. আসাদুজ্জামান বলেন, "আমি ভোট করব। আমি মনোনয়ন চেয়েছি। আমি এখন পর্যন্ত অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি, তবে পদ ছেড়ে দিয়ে আমি নির্বাচনের মাঠে নামব।"
জানা গেছে, তিনি ঝিনাইদহ-১ (শৈলকুপা) আসন থেকে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে লড়তে চান। এর আগে গত ৫ নভেম্বর তিনি এই আসনে নির্বাচন করার প্রাথমিক ইচ্ছার কথা জানিয়েছিলেন। গতকাল মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) তার পক্ষে শৈলকুপা উপজেলা বিএনপির নেতারা ইতোমধ্যেই মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করেছেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ৮ আগস্ট ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার তাকে অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিয়োগ দেয়। আসাদুজ্জামান বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক এবং দলটির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ১৯৫০-এর দশকে যে রাজনৈতিক আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল, তার মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল অধিকার ও ন্যায়বিচার।
উত্থান ও সংগ্রাম (১৯৫০-১৯৭১): ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে আইনজীবীরা অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। ১৯৫৪-এর যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন এবং ১৯৭০-এর সাধারণ নির্বাচন ছিল জনগণের ম্যান্ডেট পাওয়ার প্রধান হাতিয়ার।
গণতন্ত্রের পালাবদল (১৯৭৫-১৯৯০): ১৯৭৫ সালের পটপরিবর্তনের পর এবং আশির দশকে এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে আইনি অঙ্গন ও রাজপথ এক হয়ে গিয়েছিল। ১৯৯০ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান দেশে পুনরায় সংসদীয় গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনে।
বিগত ১৫ বছর ও জুলাই অভ্যুত্থান: ২০০৯ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত আওয়ামী লীগ শাসনের একদলীয় আধিপত্যের অবসান ঘটে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে। শহীদ শরিফ ওসমান হাদির মতো অসংখ্য প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত এই 'দ্বিতীয় স্বাধীনতা'র পর ২০২৫ সালটি এখন রাষ্ট্র সংস্কার ও একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রতীক্ষায়।
নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও ২০২৫-এর নির্বাচন: প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বুধবারই জানিয়েছেন যে, গণহত্যার দায়ে অভিযুক্ত এবং রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগ আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না। এই শূন্যতা এবং রাজনৈতিক মেরুকরণের মাঝে আসাদুজ্জামানের মতো পেশাজীবীদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, একজন অ্যাটর্নি জেনারেলের পদত্যাগ করে নির্বাচনে নামার ঘটনা বাংলাদেশে বিরল। এটি প্রমাণ করে যে ২০২৫ সালের নির্বাচনটি সব মহলের কাছে কতটা গুরুত্ব বহন করছে। ১৯৫০ সাল থেকে চলে আসা গণতন্ত্রের আকাঙ্ক্ষা ২০২৫ সালে এসে একটি টেকসই কাঠামোর সন্ধানে রয়েছে।
সূত্র: ১. বাংলাদেশ অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয় ও সুপ্রিম কোর্ট রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (এসসিআরএ)। ২. নির্বাচন কমিশন বাংলাদেশ ও ঝিনাইদহ জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়। ৩. জাতীয় আর্কাইভ ও বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস পর্যালোচনা (১৯৫০-২০২৫)।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |