| বঙ্গাব্দ

পোস্টাল ভোট বিডি অ্যাপে নিবন্ধনের সময় বাড়ল ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত: ইসি আপডেট।

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 24-12-2025 ইং
  • 2970810 বার পঠিত
পোস্টাল ভোট বিডি অ্যাপে নিবন্ধনের সময় বাড়ল ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত: ইসি আপডেট।
ছবির ক্যাপশন: পোস্টাল ভোট

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ২০২৬: পোস্টাল ভোটে প্রবাসীদের ব্যাপক সাড়া, নিবন্ধনের সময় বাড়ল ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

ঢাকা: বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে যাচ্ছে আগামী ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে। এই নির্বাচনে প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে এবং নির্বাচনী দায়িত্ব পালনকারীদের সুবিধার্থে ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধনের সময়সীমা আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বৃদ্ধি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বুধবার (২৪ ডিসেম্বর ২০২৫) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে এক ব্রিফিংয়ে ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানান।

নিবন্ধনের সময়সীমা ও বর্তমান অবস্থা

ইসি সচিব জানান, পূর্বে পোস্টাল ভোটের নিবন্ধনের সময়সীমা ২৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্ধারিত থাকলেও ভোটারদের সুবিধার্থে তা ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। যারা এখনো নিবন্ধন করেননি, তারা এই অ্যাপের মাধ্যমে দ্রুত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারবেন। বুধবার সন্ধ্যা সোয়া ৫টা পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ৬ লাখ ৮১ হাজার ৬০ জন ভোটার ইতোমধ্যেই নিবন্ধন করেছেন।

এছাড়া, প্রবাসীদের কাছে পোস্টাল ব্যালট পাঠানোর কাজও পুরোদমে শুরু হয়েছে। ‘আউট অব কান্ট্রি ভোটিং সিস্টেম অ্যান্ড ইমপ্লিমেন্টেশন (ওসিভি-এসডিআই)’ প্রকল্পের টিম লিডার সালীম আহমাদ খান নিশ্চিত করেছেন যে, গত পাঁচ দিনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ১ লাখ ৬৮ হাজার ৯০০ জন প্রবাসী ভোটারের কাছে ব্যালট পাঠানো হয়েছে।

প্রার্থীদের সুবিধার্থে শনিবার খোলা থাকবে ব্যাংক

সচিব আখতার আহমেদ আরও জানান, প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র দাখিলের সুবিধার্থে এবং ব্যাংকিং সংক্রান্ত কাজ সম্পন্ন করতে আগামী শনিবার তফসিল ব্যাংকগুলো খোলা রাখার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংককে অনুরোধ করা হয়েছে। নির্বাচনে আচরণবিধি কঠোরভাবে প্রতিপালন করার জন্য তিনি সকল সম্ভাব্য প্রার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান।

১৯৫০ থেকে ২০২৫: ভোটাধিকারের দীর্ঘ লড়াই ও ডিজিটাল উত্তরণ

বাংলাদেশের রাজনীতির মূল চালিকাশক্তি হলো জনগণের ভোটাধিকার। ১৯৫০-এর দশকে যখন বাঙালি জাতি স্বায়ত্তশাসনের দাবি তুলছিল, তখন ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন ছিল প্রথম বড় গণতান্ত্রিক বিজয়। এরপর ১৯৭০-এর নির্বাচনে ঐতিহাসিক বিজয় দেশটিকে স্বাধীনতার পথে নিয়ে যায়।

স্বাধীনতার পর থেকে বিভিন্ন সময়ে নির্বাচনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও ১৯৯০ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার মাধ্যমে একটি নতুন ধারার সূচনা হয়। তবে ২০০৯ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত দীর্ঘ ১৫ বছর দেশের নির্বাচন ব্যবস্থা চরম সংকটের মুখোমুখি হয়। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান এবং ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৫ সালটি বাংলাদেশের জন্য 'রাষ্ট্র সংস্কার' ও 'প্রকৃত গণতন্ত্র' ফিরে পাওয়ার বছরে পরিণত হয়েছে।

২০২৫ সালের এই পোস্টাল ভোট ব্যবস্থা এবং প্রবাসীদের সরাসরি অংশগ্রহণের সুযোগ ১৯৫০ সাল থেকে শুরু হওয়া ভোটাধিকারের লড়াইয়ের এক ডিজিটাল ও আধুনিক রূপ। এটি নিশ্চিত করছে যে, ভৌগোলিক সীমানা পেরিয়েও প্রতিটি বাংলাদেশির রায় এখন রাষ্ট্র গঠনে ভূমিকা রাখবে।

বিশ্লেষকদের মত

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পোস্টাল ভোট এবং ডিজিটাল অ্যাপের ব্যবহার ২০২৬ সালের নির্বাচনকে একটি অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে। তবে ৯২ শতাংশ ভোটার যেহেতু সহিংসতামুক্ত নির্বাচনের প্রত্যাশা করছেন (ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের জরিপ অনুযায়ী), তাই নির্বাচন কমিশনকে শুধু প্রযুক্তিগত নয়, মাঠ পর্যায়ের নিরাপত্তাতেও সর্বোচ্চ জোর দিতে হবে।


সূত্র: ১. বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের প্রেস ব্রিফিং ও ওয়েবসাইট ডেটা। ২. আউট অব কান্ট্রি ভোটিং সিস্টেম অ্যান্ড ইমপ্লিমেন্টেশন (ওসিভি-এসডিআই) প্রকল্প রিপোর্ট। ৩. বাংলাদেশ জাতীয় আর্কাইভ ও ১৯৫০-২০২৫ সালের ঐতিহাসিক নির্বাচনী নথি।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency