শহীদ জিয়ার মাজার ও স্মৃতিসৌধে তারেক রহমান: বিজিবি মোতায়েন ও নজিরবিহীন নিরাপত্তা
প্রতিবেদক : বিডিএস বুলবুল আহমেদ
দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন শেষে দেশে ফেরার পর প্রথম কর্মসূচি হিসেবে রাজকীয় সফরে বের হচ্ছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) বাদ জুমা তিনি রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজার জিয়ারত করবেন এবং এরপর সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। তার এই সফরকে কেন্দ্র করে জিয়া উদ্যান, সাভার স্মৃতিসৌধ ও ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে পর্যাপ্ত বিজিবি ও পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
তারেক রহমানের নিরাপত্তার স্বার্থে বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে প্রশাসন। ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরাফাতুল ইসলাম জানিয়েছেন, নিরাপত্তায় যেন কোনো ধরনের বিঘ্ন না ঘটে, সেজন্য নিশ্ছিদ্র নজরদারি চালানো হচ্ছে। সাভার গণপূর্ত বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন খান আনু জানিয়েছেন, স্মৃতিসৌধের ভেতর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং জুমার নামাজের পর নেতার আগমনের অপেক্ষায় রয়েছে কর্তৃপক্ষ।
উল্লেখ্য, গত ২৫ ডিসেম্বর তারেক রহমানের ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ৩৬ জুলাই এক্সপ্রেসওয়ে (৩০০ ফিট) পর্যন্ত মানুষের ঢল নেমেছিল। সেই নজিরবিহীন জনসমুদ্রের পর আজ সাভারেও ৫০ হাজারের বেশি মানুষের সমাগম হতে পারে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা।
বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, ১৯৫০-এর দশকে স্বাধিকার আন্দোলনের প্রেক্ষাপট তৈরির সময় থেকেই রাজপথ ছিল বাঙালির মূল শক্তি। ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৬৬-এর ৬ দফা এবং পরবর্তীতে ১৯৭১-এর স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদদের স্মরণে নির্মিত স্মৃতিসৌধ আজ এক নতুন ইতিহাসের সাক্ষী হতে যাচ্ছে।
১৯৭৫ সালের পর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যেভাবে বিপর্যস্ত জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন, ২০২৫ সালে এসে তার পুত্র তারেক রহমানের হাত ধরে সেই একই জাতীয়তাবাদের পুনর্জাগরণ দেখছেন বিশ্লেষকরা। ১৯৮০ ও ৯০-এর দশকে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে যেমন নিরাপত্তা ও জনসমাগমের মেলবন্ধন দেখা গিয়েছিল, ২০২৫-এর এই মুহূর্তটি তার চাইতেও ব্যাপক ও গভীর প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে '৩৬ জুলাই এক্সপ্রেসওয়ে'-তে দেওয়া তার বক্তব্যে বৈষম্যহীন বাংলাদেশের যে চিত্র ফুটে উঠেছে, তা ১৯৫০-এর দশকের সেই স্বপ্নেরই এক আধুনিক রূপ।
সকাল থেকেই তীব্র শীত ও কুয়াশা উপেক্ষা করে সাভার, আশুলিয়া ও ঢাকার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নেতাকর্মীরা স্মৃতিসৌধ এলাকায় জড়ো হতে শুরু করেছেন। প্রিয় নেতাকে একনজর দেখার জন্য মহাসড়কের দুপাশে মানুষের ভিড় বাড়ছে। তারেক রহমান তার ভাষণে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার যে প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন, তাকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ২০২৫ পরবর্তী বাংলাদেশের ‘ম্যাগনা কার্টা’ হিসেবে অভিহিত করছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ১৯৫০ থেকে ২০২৫ পর্যন্ত দীর্ঘ ৭৫ বছরের পরিক্রমায় বাংলাদেশ আজ এক নতুন সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। আজ স্মৃতিসৌধে তারেক রহমানের এই শ্রদ্ধা নিবেদন কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং একটি নতুন গণতান্ত্রিক ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গড়ার শপথ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
সূত্র: ১. ডিএমপি ও ঢাকা জেলা পুলিশের বিশেষ নিরাপত্তা উইং। ২. সাভার গণপূর্ত অধিদপ্তর ও বিএনপি মিডিয়া সেল। ৩. বাংলাদেশ প্রতিদিন অনলাইন আর্কাইভ ও ঐতিহাসিক রাজনৈতিক প্রতিবেদন (১৯৫০-২০২৫)।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |