| বঙ্গাব্দ

বেগম জিয়ার প্রয়াণ: বিজিএমইএ-র শোক ও পোশাক কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা।

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 30-12-2025 ইং
  • 1931241 বার পঠিত
বেগম জিয়ার প্রয়াণ: বিজিএমইএ-র শোক ও পোশাক কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা।
ছবির ক্যাপশন: বিজিএমইএ-র শোক ও পোশাক কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা।

রাষ্ট্রীয় শোক ও পোশাক কারখানায় ছুটি: বেগম জিয়ার বিদায়ে স্তব্ধ শিল্পাঞ্চল

প্রতিবেদক : বিডিএস বুলবুল আহমেদ

বাংলাদেশের রাজনীতির এক কিংবদন্তি, তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণে গোটা জাতি আজ গভীর শোকাহত। ১৯৫০-এর দশকে যে রাজনৈতিক চেতনার বিকাশ ঘটেছিল, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের এই দিনে এসে তার একটি বিশাল অধ্যায়ের অবসান হলো। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোরে তাঁর মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর সরকার তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক এবং বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) একদিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে। সরকারের এই সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান জানিয়ে দেশের অর্থনৈতিক হৃৎপিণ্ড হিসেবে পরিচিত তৈরি পোশাক শিল্পেও (আরএমজি) সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

বিজিএমইএ-র সাধারণ ছুটি ঘোষণা

তৈরি পোশাক উৎপাদন ও রপ্তানিকারক উদ্যোক্তাদের সংগঠন বিজিএমইএ এক জরুরি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আগামীকাল বুধবার তাদের সদস্যভুক্ত সকল কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে। সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সচিব মেজর মো. সাইফুল ইসলামের (অব.) সই করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সরকারের ঘোষিত রাষ্ট্রীয় শোক ও সাধারণ ছুটির অনুসরণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান এক শোকবার্তায় বলেন, "বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে আমরা সমগ্র পোশাক শিল্প পরিবার গভীরভাবে শোকাহত। দেশ একজন অভিভাবক ও কালজয়ী দেশপ্রেমিক নেতাকে হারালো।"

১৯৫০ থেকে ২০২৫: মুক্তবাজার অর্থনীতি ও খালেদা জিয়ার অবদান

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, ১৯৫০-এর দশকে বাঙালির যে অর্থনৈতিক মুক্তির স্বপ্ন ছিল, তার একটি বাস্তব রূপরেখা তৈরি হয়েছিল নব্বইয়ের দশকে বেগম খালেদা জিয়ার হাত ধরে। বিজিএমইএ-র বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, নব্বইয়ের দশকের শুরুতে তাঁর সরকারের বলিষ্ঠ নেতৃত্বেই বাংলাদেশে মুক্তবাজার অর্থনীতির পূর্ণাঙ্গ পথচলা শুরু হয়।

গুগল এনালাইসিস ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ এবং ২০০১ থেকে ২০০৬—এই সময়কালে তৈরি পোশাক শিল্পের বিশ্বব্যাপী প্রসারে খালেদা জিয়ার সময়োপযোগী ও সাহসী সিদ্ধান্তগুলো ছিল মাইলফলক। বেসরকারি খাতকে বিকাশের অবারিত সুযোগ করে দিয়ে তিনি বাংলাদেশের অর্থনীতিকে একটি শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড় করিয়েছিলেন।

আন্তর্জাতিক শোক ও শেষ বিদায়ের প্রস্তুতি

বেগম জিয়ার মৃত্যুতে কেবল দেশের ভেতরেই নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও শোকের ছায়া নেমেছে। ইতিমধ্যে পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ইসহাক দার জানাজায় অংশ নিতে ঢাকা আসার ঘোষণা দিয়েছেন। আগামীকাল বুধবার বাদ জোহর জাতীয় সংসদ ভবন মাঠ ও মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর তাঁকে তাঁর স্বামী সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পাশে দাফন করা হবে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পটপরিবর্তন পরবর্তী ২০২৫ সালের এই ক্রান্তিলগ্নে বেগম খালেদা জিয়ার চলে যাওয়া বাংলাদেশের জাতীয় জীবনে এক অপূরণীয় শূন্যতা তৈরি করেছে। শিল্প ও বাণিজ্যের ইতিহাসে তাঁর অর্থনৈতিক দর্শন চিরকাল অম্লান হয়ে থাকবে।


তথ্যসূত্র: ১. বিজিএমইএ-র ভারপ্রাপ্ত সচিব মেজর মো. সাইফুল ইসলামের (অব.) সই করা সরকারি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি। ২. বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খানের শোক বিবৃতি (৩০ ডিসেম্বর ২০২৫)। ৩. গুগল নিউজ এনালাইসিস ও বাংলাদেশের অর্থনৈতিক বিবর্তন ইতিহাস (১৯৫০-২০২৫)।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency