প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬-কে সামনে রেখে প্রার্থীদের হলফনামা যাচাই-বাছাইয়ে বেরিয়ে আসছে নানা কৌতূহলোদ্দীপক তথ্য। ফরিদপুর-২ (সালথা ও নগরকান্দা) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এবং দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ ইসলাম নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে নিজের দ্বৈত নাগরিকত্ব বর্জন করেছেন। ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় ভোটকে সামনে রেখে গত ২০ নভেম্বর তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ত্যাগ করেন।
বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে প্রবাসী বাংলাদেশিদের অবদান অনস্বীকার্য। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে প্রবাসীদের সক্রিয় সমর্থন যেমন ছিল, তেমনি বর্তমান ২০২৬ সালের পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটেও বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা দক্ষ বাংলাদেশিরা দেশের রাজনীতিতে ফিরছেন। শামা ওবায়েদের মতো প্রভাবশালী নেতাদের দ্বৈত নাগরিকত্ব ত্যাগ করে পূর্ণাঙ্গভাবে দেশীয় রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়া বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার এক নতুন অধ্যায়। ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন থেকে ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার বিপ্লব—প্রতিটি মোড়েই দেশের মানুষ একটি স্বচ্ছ ও দায়বদ্ধ নেতৃত্বের প্রত্যাশা করেছে।
গত ২৮ ডিসেম্বর নির্বাচন কমিশনে দাখিল করা শামা ওবায়েদের হলফনামা ও ২০১৮ সালের হলফনামা পর্যালোচনা করে এক বিস্ময়কর চিত্র পাওয়া গেছে। গত সাত বছরের ব্যবধানে তার বার্ষিক আয় কমলেও অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে।
আয় ও সম্পদের তুলনামূলক চিত্র:
| বিবরণ | ২০১৮ সালের হলফনামা | ২০২৬ সালের হলফনামা (বর্তমান) | পরিবর্তন |
| বার্ষিক আয় | ৩০ লাখ ০৬ হাজার ৮২৫ টাকা | ২১ লাখ ৮৯ হাজার ৭১ টাকা | ৮ লাখ ১৭ হাজার টাকা (কমেছে) |
| অস্থাবর সম্পদ | ১ কোটি ৫৩ লাখ ৮২ হাজার ২৮৭ টাকা | ৩ কোটি ৬২ লাখ ৮৫ হাজার ৮০৬ টাকা | ২ কোটি ০৯ লাখ টাকা (বেড়েছে) |
| স্থাবর সম্পদ | ৭ কোটি ০৩ লাখ ২০ হাজার টাকা | ৬ কোটি ৯৩ লাখ ২০ হাজার টাকা | ১০ লাখ টাকা (কমেছে) |
শামা ওবায়েদ হলফনামায় নিজেকে একজন সফল ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। তিনি বর্তমানে অ্যালিউর বিল্ডার্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং অ্যাভোসিল্ক সলিউশনের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার আয়ের প্রধান উৎসগুলোর মধ্যে রয়েছে অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া (১২.৬০ লাখ টাকা), চাকরি থেকে আয় (৭.৮৬ লাখ টাকা) এবং শেয়ার ও সঞ্চয়পত্রের মুনাফা।
আশ্চর্যের বিষয় হলো, ২০১৮ সালে শামা ওবায়েদের ৩ কোটি ৫ লাখ টাকার ব্যাংক ঋণ থাকলেও এবারের হলফনামায় তিনি কোনো ঋণের কথা উল্লেখ করেননি। অর্থাৎ বিগত সাত বছরে তিনি সম্পূর্ণ ঋণমুক্ত হয়েছেন। উত্তরাধিকার সূত্রে তিনি ৪৫০ শতাংশ অকৃষিজমি এবং বনানীতে ৩২৪৫ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট পেয়েছেন। এছাড়া বিয়ের উপহার হিসেবে পাওয়া স্বর্ণের পরিমাণ ২০১৮ সালের ৬০ তোলা থেকে বর্তমানে ৫০ তোলায় নেমে এসেছে।
দ্বৈত নাগরিকত্ব নিয়ে আইনি বাধ্যবাধকতা এড়াতেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন। শামা ওবায়েদ বলেন, "আগে দ্বৈত নাগরিকত্ব নিয়ে তেমন কঠোরতা ছিল না। তবে এবারের নির্বাচনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে আমি যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের মাধ্যমে নাগরিকত্ব বাতিল করেছি।"
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শামা ওবায়েদের মতো কেন্দ্রীয় নেতাদের এই সচেতন অবস্থান দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে। ২০২৪-এর ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর ২০২৬ সালের এই নির্বাচনটি হবে মূলত নেতৃত্বের স্বচ্ছতা ও জনমতের লড়াই। ফরিদপুর-২ আসনে বিএনপির এই হেভিওয়েট প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ হওয়া এবং আইনি জটিলতা মুক্ত হওয়া দলটির জন্য বড় একটি স্বস্তির খবর।
সূত্র:
১. ঢাকা জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়।
২. শামা ওবায়েদের দাখিলকৃত হলফনামা (২০১৮ ও ২০২৫-২৬)।
৩. সমকাল, প্রথম আলো ও যুগান্তর অনলাইন আর্কাইভ।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |