প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন কেবল একটি নির্বাচন নয়, বরং এটি রাষ্ট্র সংস্কার ও নেতৃত্বের পরিবর্তনের এক ঐতিহাসিক দলিল। ১৯০০ সালের বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের সময় থেকে শুরু করে ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন, ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার মহাবিপ্লব—প্রতিটি বাঁকেই এ দেশের মানুষ নিজেদের অধিকার আদায়ে রাজপথে রক্ত দিয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় রোববার (৪ জানুয়ারি ২০২৬) বিএনপির বহিষ্কৃত ২৩ নেতার দলে ফেরা এবং দেশের বিভিন্ন আসনে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের ঘটনাপ্রবাহ রাজনীতিতে নতুন প্রাণের সঞ্চার করেছে।
বাংলার রাজনৈতিক মানচিত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, ১৯৩৭ সালের শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের কৃষক প্রজা পার্টির উত্থান ছিল সাধারণ মানুষের রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের প্রথম বড় মাইলফলক। এরপর ১৯৭০-এর নির্বাচনে বঙ্গবন্ধুর নিরঙ্কুশ জয় এবং ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতন পরবর্তী সময়ে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার—প্রতিটি ঘটনা প্রমাণ করে যে, এ দেশের মানুষ সবসময় স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার। বিশেষ করে ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণের পর ২০২৬-এর এই নির্বাচনকে দেখা হচ্ছে 'নতুন বাংলাদেশের' দর্পণ হিসেবে।
দলের শক্তি বৃদ্ধি ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। রোববার (৪ জানুয়ারি ২০২৬) দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ২৩ নেতার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন। বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার হওয়া উল্লেখযোগ্য নেতাদের মধ্যে রয়েছেন:
ময়মনসিংহ: ফুলবাড়িয়া পৌর বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শামিম আহমেদ।
রাজবাড়ী: জেলা মহিলা দলের সাবেক সহসভাপতি কাজী শারমিন আক্তার টুকটুকি।
চাঁদপুর ও কক্সবাজার: হাজীগঞ্জের আলহাজ্ব ইমাম হোসেন ও আবু সুফিয়ান রানা এবং কক্সবাজারের জাহানারা বেগম।
বগুড়া ও গাইবান্ধা: সারিয়াকান্দির লুৎফুল হায়দার রুমি, মতিউর রহমান মতিনসহ একঝাঁক নেতা এবং গাইবান্ধার শিল্পী খাতুন।
একই সঙ্গে সুনামগঞ্জের মদিনা আক্তার ও মৌলভীবাজারের মতিন বকশের পদের স্থগিতাদেশও প্রত্যাহার করা হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের আগে তৃণমূল পর্যায়ে কোন্দল মিটিয়ে দলকে একতাবদ্ধ করতেই ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের এই দূরদর্শী পদক্ষেপ।
দিনাজপুরের ৬টি আসনে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ে বড় চমক দেখা গেছে। দিনাজপুর-৫ আসনে বেগম খালেদা জিয়ার পরিবর্তে বিএনপির এ কে এম কামরুজ্জামানের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। অন্যদিকে, ঢাকা-১২ আসনে আমজনতার দলের সদস্যসচিব তারেক রহমান নিজেকে সবচেয়ে ‘গরিব প্রার্থী’ হিসেবে তুলে ধরেছেন, যার হলফনামায় সম্পদের পরিমাণ মাত্র ১০ লাখ টাকা। বিপরীতে ফেনী-১ আসনে বেগম জিয়ার স্থলাভিষিক্ত রফিকুল আলম মজনুর হলফনামায় ১৮ কোটি টাকার সম্পদ ও ১৬৮টি মামলার তথ্য ভোটারদের মাঝে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
রোববার সন্ধ্যা ৭টায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতাদের সাথে বৈঠক করেন তারেক রহমান। বৈঠকে স্কয়ার গ্রুপের তপন চৌধুরী, মেঘনা গ্রুপের মোস্তফা কামাল, প্রাণ গ্রুপের আহসান খান চৌধুরীসহ শীর্ষ করপোরেট ব্যক্তিত্বরা উপস্থিত ছিলেন। তারেক রহমান ব্যবসায়ীদের আশ্বস্ত করে বলেন, "রাজনীতিতে প্রতিযোগিতা থাকবে, কিন্তু বিভাজনের সংস্কৃতি এড়িয়ে চলতে হবে। আমাদের লক্ষ্য এখন জাতীয় স্বার্থে ঐক্য ধরে রাখা।" একই দিন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হকের সাথে বৈঠকে তিনি দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি ও ২০২৬-এর নির্বাচন নিয়ে আলোচনা করেন। তারেক রহমান স্মরণ করিয়ে দেন যে, ১৯০০ সাল থেকে এ পর্যন্ত যতবার জাতি বিভাজিত হয়েছে, ততবারই গণতন্ত্র বিপন্ন হয়েছে।
২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের রাজনীতি এখন এক জটিল কিন্তু সম্ভাবনাময় মোড়ে দাঁড়িয়ে। একদিকে বিএনপির সাংগঠনিক গোছগাছ ও জাতীয় ঐক্যের ডাক, অন্যদিকে প্রার্থীদের সম্পদের বিশাল বৈষম্য ও ইসির যাচাই-বাছাই—সব মিলিয়ে ভোটাররা এখন প্রার্থীর হলফনামা আর তাদের স্বচ্ছতা দেখে নেতা নির্বাচনের অপেক্ষায়। ১৯০০ সাল থেকে চলে আসা এই দীর্ঘ রাজনৈতিক পরিক্রমার চূড়ান্ত ফল জানা যাবে নির্বাচনের ব্যালট বক্সে।
সূত্র: ১. বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে ইস্যুকৃত প্রেস বিজ্ঞপ্তি (৪ জানুয়ারি ২০২৬)। ২. নির্বাচন কমিশন (ইসি) ও রিটার্নিং কর্মকর্তার হলফনামা রেকর্ড (২০২৬)। ৩. বাংলাদেশ প্রতিদিন আর্কাইভ ও জাতীয় দৈনিকসমূহের রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক পর্যালোচনা (১৯৭১-২০২৬)।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |