| বঙ্গাব্দ

শফিক তুহিনের ভাইরাল গান ‘আপসহীন নেত্রী’: ১৯০০-২০২৬ রাজনৈতিক বিশ্লেষণ

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 05-01-2026 ইং
  • 1865669 বার পঠিত
শফিক তুহিনের ভাইরাল গান ‘আপসহীন নেত্রী’: ১৯০০-২০২৬ রাজনৈতিক বিশ্লেষণ
ছবির ক্যাপশন: শফিক তুহিন

শফিক তুহিনের ‘আপসহীন নেত্রী’: ১৯০০ থেকে ২০২৬-এর রাজনৈতিক ইতিহাসে এক আবেগী অধ্যায়

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

ঢাকা: বাংলাদেশের রাজনৈতিক আকাশে এক নক্ষত্রের পতন এবং সেই শোককে সুরে বেঁধেছেন সংগীতাঙ্গনের জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব শফিক তুহিন। তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির চেয়ারপারসন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে উৎসর্গ করে তার গাওয়া ‘আপসহীন নেত্রী’ গানটি এখন সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল। এই গানটি কেবল একটি সুর নয়, বরং ১৯০০ সাল থেকে শুরু হওয়া এ অঞ্চলের রাজনৈতিক লড়াই এবং ২০২৬-এর বর্তমান পরিস্থিতির এক মেলবন্ধন।

ভাইরাল গান: ‘আপসহীন নেত্রী’ গীতিকার, সুরকার ও কণ্ঠশিল্পী শফিক তুহিন গত ৩০ ডিসেম্বর গানটি প্রকাশ করেন। গানের কথায় ফুটে উঠেছে খালেদা জিয়ার আপসহীন চারিত্রিক দৃঢ়তা— ‘আপসহীন নেত্রী তুমি আপস করোনি বলে/ দেশের মানুষ দেশের প্রয়োজনে তোমার কথাই বলে/ তোমার নামে স্লোগান দিলে/ রক্তে আগুন জ্বলে’

শফিক তুহিন জানান, ২০২৫ সালের শুরুর দিকে গানটি লেখা হয়েছিল। বেগম খালেদা জিয়া চিকিৎসার পর যখন দেশে ফিরেছিলেন, তখন তিনি নিজে গানটি শুনেছিলেন। কথা ছিল বড় আয়োজনে এর মিউজিক ভিডিও করার, কিন্তু নেত্রীর শারীরিক অবস্থার অবনতি এবং পরবর্তীতে চিরবিদায়ের কারণে তা আর সম্ভব হয়নি। অবশেষে তার চলে যাওয়ার দিনেই গানটি উৎসর্গ করে প্রকাশ করা হয়েছে।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: ১৯০০ থেকে ১৯৫২ বাঙালির রাজনৈতিক লড়াইয়ের ইতিহাস শুরু হয়েছিল বিশ শতকের প্রারম্ভে। ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ এবং ১৯১১ সালে তা রদ করার মধ্য দিয়ে এই ভূখণ্ডে নেতৃত্বের যে বীজ বপন হয়েছিল, তা ১৯৪৭-এর দেশভাগ ছাড়িয়ে ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলনে চূড়ান্ত রূপ নেয়। এই দীর্ঘ সময়ে শেরে বাংলা এ.কে. ফজলুল হক থেকে শুরু করে মওলানা ভাসানী—সবাই শোষণের বিরুদ্ধে আপসহীন থাকার শিক্ষা দিয়ে গেছেন।

স্বাধীনতা থেকে বেগম জিয়ার রাজনীতি: ১৯৭১-২০২৪ ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের পর বাংলাদেশের রাজনীতিতে ১৯৮০-এর দশকে আবির্ভাব ঘটে বেগম খালেদা জিয়ার। ৯ বছরের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে তার অবিচল ভূমিকা তাকে ‘আপসহীন নেত্রী’ খেতাব এনে দেয়। ১৯০০ সাল থেকে শুরু হওয়া যে গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা বাঙালি লালন করে আসছিল, খালেদা জিয়া ১৯৯১ সালে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তনের মাধ্যমে তা বাস্তবে রূপ দেন।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার বিপ্লবের পর যখন দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হয়, তখন বন্দিদশা থেকে মুক্ত হয়ে তিনি আবারও মানুষের মাঝে আশার আলো হয়ে এসেছিলেন। ২০২৫ সাল জুড়ে চলা সংস্কার প্রক্রিয়ার মধ্যেও তিনি ছিলেন জাতীয় ঐক্যের প্রতীক।

২০২৬: এক যুগের অবসান ও আগামীর বাংলাদেশ ২০২৬ সালের শুরুতেই দেশনেত্রীর প্রয়াণ বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক বিশাল শূন্যতা তৈরি করেছে। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়কালে এবং আসন্ন ২০২৬-এর ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের ঠিক আগ মুহূর্তে এই গানের জনপ্রিয়তা প্রমাণ করে যে, সাধারণ মানুষের হৃদয়ে তার অবস্থান কতটা সুদৃঢ়। সামাজিক মাধ্যমে অনেকেই লিখছেন, "১৯০০ সালের ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের তেজ আর ২০২৪-এর ছাত্র আন্দোলনের আবেগ যেন শফিক তুহিনের এই গানের সুরেই মিশে আছে।"

বিশ্লেষণ: ইতিহাসের আয়নায় দেখলে, ১৯০০ সাল থেকে ২০২৬ পর্যন্ত সময়ে অনেক নেতা এসেছেন এবং গেছেন। কিন্তু যারা আদর্শের সাথে আপস করেননি, তাদের জন্য এ দেশের শিল্পী ও সাধারণ মানুষ সবসময় শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে। শফিক তুহিনের এই গানটি সেই ঐতিহাসিক শ্রদ্ধারই এক আধুনিক সংস্করণ।


সূত্র: ১. শফিক তুহিনের ব্যক্তিগত ফেসবুক প্রোফাইল ও সাক্ষাৎকার।

২. বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয় (মিডিয়া উইং) থেকে প্রাপ্ত তথ্য।

৩. বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস ও জাতীয় সংবাদপত্রের ডিজিটাল আর্কাইভ (১৯০০-২০২৬)।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency