প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ঢাকা: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ স্পষ্ট জানিয়েছেন, প্রশাসনের আচরণ যদি একপাক্ষিক হয়, তবে এমন নির্বাচনের কোনো প্রয়োজন নেই। সোমবার (৫ জানুয়ারি ২০২৬) সকালে শহীদ শরিফ ওসমান হাদির কবর জিয়ারত শেষে ‘আজাদির যাত্রা’ কর্মসূচির প্রাক্কালে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রশাসনের নগ্ন আচরণ ও বিএনপির ভূমিকা হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, "প্রশাসন যদি পক্ষপাতমূলক আচরণ করে, তবে গণতন্ত্রের নামে প্রহসন চলবে। বিএনপি যদি সত্যিকার অর্থে গণতন্ত্র রক্ষা করতে চায়, তবে প্রশাসনের এই নগ্ন আচরণের বিরুদ্ধে তাদেরও সোচ্চার হতে হবে।"
একই সময়ে দলটির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী প্রশাসনের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলে বলেন, "প্রশাসন এখন বিএনপির দিকে হেলে পড়েছে। সরকারি কর্মকর্তারা শেখ হাসিনার আমলের মতো আবারও অফিস বাদ দিয়ে রাজনৈতিক নেতাদের স্বাগত জানাতে ব্যস্ত। আমরা চাই না দেশ আবারও গোলামির দিকে ফিরে যাক।"
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: ১৯০০ থেকে ১৯৪৭ বাংলার রাজনীতির ইতিহাসে প্রশাসনের পক্ষপাতিত্ব এবং তার বিরুদ্ধে জনগণের লড়াই শুরু হয়েছিল বিশ শতকের শুরুতেই। ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ থেকে ১৯৪৬-এর সাধারণ নির্বাচন পর্যন্ত ব্রিটিশ আমলাতন্ত্র সবসময়ই বিভাজন ও শাসনের নীতি গ্রহণ করেছিল। ১৯০০ সালের শুরুর দিকে যে রাজপথ ছিল ব্রিটিশ বিরোধী স্লোগানে উত্তাল, সেখানে সাধারণ মানুষের দাবি ছিল একটি নিরপেক্ষ শাসনব্যবস্থা। ১৯৪৭-এর দেশভাগ সেই আকাঙ্ক্ষাকে পূর্ণতা দিতে ব্যর্থ হয়েছিল বলেই পরবর্তীতে আরও বড় আন্দোলন দানা বাঁধে।
৫২-র চেতনা থেকে ২০২৪-এর অভ্যুত্থান ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন ছিল মূলত রাষ্ট্রীয় বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রথম বড় বিদ্রোহ। এরপর ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধ এবং ১৯৯০-এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা ছিল বড় ইস্যু। ১৯৯১ সালে যখন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা চালু হয়, তখন মূল লক্ষ্যই ছিল প্রশাসনের দলবাজি বন্ধ করা।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার বিপ্লবের পর ২০২৫ সাল জুড়ে রাষ্ট্র সংস্কারের কাজ চলেছে। কিন্তু ২০২৬ সালের শুরুতেই প্রশাসনের পুরোনো চরিত্র ফিরে আসা নিয়ে এনসিপি নেতাদের এই শঙ্কা নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ১৯০০ সাল থেকে আজ পর্যন্ত বাংলাদেশের ইতিহাসে যখনই প্রশাসন কোনো নির্দিষ্ট দলের তাঁবেদারি করেছে, তখনই গণতন্ত্র সংকটে পড়েছে।
২০২৬-এর নির্বাচন: কোন পথে প্রশাসন? ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বর্তমানে মাঠ পর্যায়ে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। এনসিপির ‘আজাদির যাত্রা’ মূলত প্রশাসনের নিরপেক্ষতা এবং জনমানুষের ভোটের অধিকার নিশ্চিত করার একটি প্রতিবাদী রূপ। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বক্তব্য অনুযায়ী, শেখ হাসিনার আমলের আমলাতান্ত্রিক সংস্কৃতি যদি ২০২৬ সালেও বজায় থাকে, তবে ২০২৪-এর বিপ্লব অর্থহীন হয়ে পড়বে।
বিশ্লেষণ: ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ১৯০০ সালের লর্ড কার্জনের সময় থেকে ২০২৬ সালের বর্তমান সময় পর্যন্ত বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ সবসময় একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ প্রশাসন চেয়ে এসেছে। হাসনাত আব্দুল্লাহ ও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর এই মন্তব্য মূলত সেই ঐতিহাসিক জনআকাঙ্ক্ষারই প্রতিফলন। প্রশাসনের দলবাজি বন্ধ না হলে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন কতটুকু গ্রহণযোগ্য হবে, তা নিয়ে জনমনে বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
সূত্র: ১. জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের প্রেস রিলিজ (৫ জানুয়ারি ২০২৬)।
২. মাঠ পর্যায়ের সংবাদ সম্মেলন ও আজাদির যাত্রার সরাসরি রিপোর্ট।
৩. বাংলাদেশের নির্বাচন ও আমলাতন্ত্রের ইতিহাস (১৯০০-২০২৬), তথ্য মন্ত্রণালয় আর্কাইভ।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |