রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়ায় নারীসহ দুজনকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বঙ্গবন্ধু ভবনের সামনে এই ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, সকাল থেকেই ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে মানুষের ভিড় ছিল। বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক বাসভবন ভাঙচুর ও ধ্বংসের দৃশ্য দেখতে অনেকে সেখানে জড়ো হন।
এক পর্যায়ে এক ব্যক্তি সেখানে দাঁড়িয়ে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেন। এতেই উত্তেজিত হয়ে ওঠে কিছু মানুষ।
"হঠাৎ কয়েকজন ব্যক্তি এগিয়ে এসে তাকে ঘিরে ধরে। মুহূর্তের মধ্যে তাকে মারধর শুরু করা হয়।" – জানায় এক প্রত্যক্ষদর্শী।
এরপর, অল্প সময়ের মধ্যেই এক নারীকেও একই পরিণতি ভোগ করতে হয়।
সেখানকার আরেক প্রত্যক্ষদর্শীর মতে,
"ওই নারী ভবন ধ্বংস হতে দেখে কষ্ট পাচ্ছিলেন। তিনি কাঁদতে কাঁদতে বলছিলেন – 'আপার বাড়ি ভাঙতেছে'। তারপরই লোকজন তাকে আক্রমণ করে।"
প্রথমে তাকে গালাগাল করা হয়, পরে একদল লোক তার ওপর হামলে পড়ে। মারধর করার পর তাকে জোর করে ধানমন্ডি ৩২ নম্বর এলাকা থেকে বের করে দেওয়া হয়।
সকাল থেকেই ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের সামনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অবস্থান ছিল সীমিত। তবে এই মারধরের ঘটনার সময় আশপাশে কোনো পুলিশ সদস্যকে দেখা যায়নি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এলাকার মেট্রো শপিং সেন্টারের সামনে ১০-১২ জন পুলিশ সদস্য অবস্থান করছিলেন, কিন্তু তারা ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের কোনো উদ্যোগ নেননি।
এই ঘটনার পরপরই বিক্ষোভ আরও তীব্র হয়। একদল বিক্ষোভকারী ‘নারায়ে তাকবির, আল্লাহু আকবার’, ‘ভারতের দালালেরা হুঁশিয়ার সাবধান’ এবং ‘শেখ হাসিনার বিচার চাই’ স্লোগান দিতে থাকে।
এদিকে, কিছুক্ষণ পরই ধানমন্ডি ৫ নম্বর সড়কে অবস্থিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বাসভবন ‘সুধা সদন’-এও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
সকাল ৯টার দিকে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু ভবন ভাঙার কাজ পুনরায় শুরু হয়।
একজন বিক্ষুব্ধ ব্যক্তি বলেন,
"এই ইট আমি রেখে দেবো, যেন ভবিষ্যতে কেউ আওয়ামী লীগকে রক্ষা করতে না পারে।"
এই ঘটনায় দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
একজন রাজনৈতিক বিশ্লেষক বলেন,
"এই ঘটনা শুধু বঙ্গবন্ধুর বাসভবন ধ্বংসের নয়, এটি রাজনৈতিক ইতিহাসের মোড় ঘোরানোর একটি ষড়যন্ত্র।"
বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা দোষীদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবি জানিয়েছেন।
এই ঘটনার পরপরই ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) নিরাপত্তা জোরদার করেছে। ধানমন্ডি ও আশপাশের এলাকায় র্যাব ও পুলিশের অতিরিক্ত টহল বসানো হয়েছে।
তবে জনগণের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
ঘটনাস্থলে থাকা অনেকেই বলেছেন,
"এটা কোনো স্বাভাবিক ঘটনা নয়। ইতিহাসকে ধ্বংস করার পেছনে কারা আছে, তা অবশ্যই খুঁজে বের করা উচিত।"
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |