| বঙ্গাব্দ

তারেক রহমানের নিরাপত্তায় তিন সাবেক সেনা কর্মকর্তা: নির্বাচনের আগে বড় পরিবর্তন বিএনপিতে

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 06-01-2026 ইং
  • 7079009 বার পঠিত
তারেক রহমানের নিরাপত্তায় তিন সাবেক সেনা কর্মকর্তা: নির্বাচনের আগে বড় পরিবর্তন বিএনপিতে
ছবির ক্যাপশন: তারেক রহমানের নিরাপত্তায় তিন সাবেক সেনা কর্মকর্তা: নির্বাচনের আগে বড় পরিবর্তন বিএনপিতে

তারেক রহমানের নিরাপত্তায় তিন সাবেক সেনা কর্মকর্তা: এনসিপি ও বিএনপির নতুন কৌশল

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

বাংলাদেশের রাজনীতিতে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ব্যাপক তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষ করে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণের পর এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে প্রত্যাবর্তনের প্রেক্ষাপটে তাঁর নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।

মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি ২০২৬) রাতে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে তারেক রহমানের নিরাপত্তা টিমে নতুন তিন পরিচালক নিয়োগের কথা জানানো হয়। এই নিয়োগের মাধ্যমে তারেক রহমানের নিরাপত্তা, প্রটোকল এবং বিভিন্ন ইউনিটের মধ্যে সমন্বয় আরও সুসংহত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের তালিকা ও পদবি:

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, তিনজন অভিজ্ঞ সাবেক সেনা কর্মকর্তাকে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে: ১. মেজর (অব.) মোহাম্মদ শাফাওয়াত উল্লাহ: পরিচালক (নিরাপত্তা)। ২. মেজর (অব.) মইনুল হোসেন: পরিচালক (প্রটোকল)। ৩. ক্যাপ্টেন (অব.) মো: গণী উল আজম: পরিচালক (সমন্বয়)।

উল্লেখ্য, এর আগে গত ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে তারেক রহমানের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তার (CSO) দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলামকে।


ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: ১৯০০ থেকে ২০২৬ পর্যন্ত নেতৃত্বের নিরাপত্তা ও বিবর্তন

বাঙালির রাজনৈতিক আন্দোলনে শীর্ষ নেতাদের নিরাপত্তা সবসময়ই একটি স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।

  • ১৯০০ - ১৯৪৭: ব্রিটিশ আমলের সুরক্ষা: ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ থেকে শুরু করে ১৯৪০-এর লাহোর প্রস্তাব পর্যন্ত শীর্ষ নেতাদের সুরক্ষায় স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখত। তখন 'স্বেচ্ছাসেবক দল' ছিল নেতৃত্বের প্রধান ঢাল।

  • ১৯৭১ ও মুক্তিযুদ্ধ: মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় অস্থায়ী সরকারের মন্ত্রী এবং মুক্তিবাহিনীর সর্বাধিনায়ক জেনারেল এম.এ.জি. ওসমানীর নিরাপত্তার জন্য বিশেষ গেরিলা স্কোয়াড কাজ করত। যুদ্ধকালীন সেই অভিজ্ঞতাই স্বাধীন বাংলাদেশে পেশাদার নিরাপত্তা ব্যবস্থার ভিত্তি গড়ে দেয়।

  • বিএনপির নিরাপত্তা দর্শন (১৯৭৮-২০২৬): শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় থেকেই বিএনপির সাংগঠনিক কাঠামোতে শৃঙ্খলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হতো। বর্তমানে তারেক রহমানের নেতৃত্বে 'নতুন বাংলাদেশ' গড়ার যে রূপরেখা দেওয়া হয়েছে, সেখানে পেশাদারত্বের ছোঁয়া দিতেই সাবেক সামরিক কর্মকর্তাদের অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।

  • ২০২৬-এর বর্তমান বাস্তবতা: ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট বিপ্লব পরবর্তী বাংলাদেশে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে নিরাপত্তাবোধ এবং পেশাদারত্বের নতুন সংজ্ঞায়ন তৈরি হয়েছে। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তারেক রহমানের নিরাপত্তা টিম পুনর্গঠন কেবল ব্যক্তিগত সুরক্ষাই নয়, বরং দলীয় সাংগঠনিক সক্ষমতারও বহিঃপ্রকাশ।

বিশ্লেষকদের দৃষ্টিভঙ্গি

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তারেক রহমানের জন্য পৃথক নিরাপত্তা, প্রটোকল এবং সমন্বয় পরিচালক নিয়োগ প্রমাণ করে যে, বিএনপি দীর্ঘমেয়াদী এবং সুশৃঙ্খল রাষ্ট্র পরিচালনার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ২০২৬ সালের বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে যেখানে 'জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)' তাদের নিজস্ব সাংগঠনিক কাঠামো মজবুত করছে, সেখানে বিএনপির এই পদক্ষেপ তাদের দীর্ঘ অভিজ্ঞতার প্রতিফলন।


সূত্র: বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয় (নয়াপল্টন), অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তি (৬ জানুয়ারি ২০২৬) এবং বিডিএস ডিজিটাল মার্কেটিং এজেন্সির বিশেষ রাজনৈতিক মনিটরিং সেল।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
রোনাম: মধ্যপ্রাচ্যের তীব্র উত্তেজনা ও ইরান সংকট সত্ত্বেও বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ১০০ ডলারের নিচে: নেপথ্যের বাজার বিশ্লেষণমেটা ডিসক্রিপশন: মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধাবস্থা ও ইরান সংকট সত্ত্বেও বৈশ্বিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলে ১০০ ডলারের নিচে অবস্থান করছে। অর্থনৈতিক মন্দা ও উৎপাদন বৃদ্ধির নানা কারণ বিশ্লেষণ।অনলাইন ডেস্কমধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান সামরিক সংঘাত এবং ইরান কেন্দ্রিক চরম ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের দাম মনস্তাত্ত্বিক ১০০ ডলারের নিচেই স্থিতিশীল রয়েছে। চলতি সপ্তাহে লন্ডনের ব্রেন্ট ক্রুড এবং মার্কিন টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI)—উভয় মানদণ্ডেই তেলের দর প্রত্যাশার চেয়ে কম সূচকে কেনাবেচা হতে দেখা গেছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার আশঙ্কা, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বৃদ্ধি এবং প্রধান প্রধান অর্থনৈতিক পরাশক্তিগুলোতে জ্বালানি ব্যবহারের শ্লথগতির কারণে সরবরাহ শৃঙ্খলে বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটা সত্ত্বেও বাজারে তেলের দাম লাগামহীন হতে পারেনি।তেলের দাম না বাড়ার প্রধান অনুঘটকসমূহমধ্যপ্রাচ্যের স্পর্শকাতর পরিস্থিতির পরও আন্তর্জাতিক কমোডিটি এক্সচেঞ্জে তেলের দর প্রত্যাশার চেয়ে নিয়ন্ত্রণে থাকার পেছনে বিশ্ব অর্থনীতির কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক কাজ করছে।চীন ও ইউরোপের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি শ্লথ হওয়ায় জ্বালানি তেলের বিশ্বব্যাপী সার্বিক ব্যবহার আগের চেয়ে কমেছে। পাশাপাশি, ওপেক প্লাস (OPEC+) জোটের বাইরে থাকা দেশগুলোর অব্যাহত অতিরিক্ত উৎপাদন বাজারে চাহিদার ঘাটতি তৈরি হতে দেয়নি।দর নিয়ন্ত্রণে থাকার মূল কারণসমূহজ্বালানি বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, দর ব্যারেলে ১০০ ডলারের নিচে থাকার নেপথ্যে যেসব প্রধান কারণ রয়েছে:যুক্তরাষ্ট্র ও অপেক-বহির্ভূত দেশের উৎপাদন: যুক্তরাষ্ট্র, ব্রাজিল ও গায়ানার মতো দেশগুলোতে তেলের রেকর্ড পরিমাণ উৎপাদন বাজারের ভারসাম্য রক্ষা করছে।চীনের বাণিজ্যিক মন্দা: বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল আমদানিকারক দেশ চীনে শিল্প উৎপাদন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি প্রত্যাশার চেয়ে ধীরগতির হওয়ায় চাহিদায় ঘাটতি।মার্কিন সুদের হার ও সুদের প্রভাব: উচ্চ সুদের হারের কারণে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক মন্দার প্রভাব এবং অর্থনৈতিক স্থবিরতা তেলের দামে অতিরিক্ত চাপ তৈরিতে বাধা সৃষ্টি করেছে।এক নজরে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার পরিস্থিতিবিষয়বিবরণবাজার স্থিতিপ্রতি ব্যারেল তেলের দাম ১০০ ডলারের নিচেউত্তেজনার অঞ্চলমধ্যপ্রা

রোনাম: মধ্যপ্রাচ্যের তীব্র উত্তেজনা ও ইরান সংকট সত্ত্বেও বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ১০০ ডলারের নিচে: নেপথ্যের বাজার বিশ্লেষণমেটা ডিসক্রিপশন: মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধাবস্থা ও ইরান সংকট সত্ত্বেও বৈশ্বিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলে ১০০ ডলারের নিচে অবস্থান করছে। অর্থনৈতিক মন্দা ও উৎপাদন বৃদ্ধির নানা কারণ বিশ্লেষণ।অনলাইন ডেস্কমধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান সামরিক সংঘাত এবং ইরান কেন্দ্রিক চরম ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের দাম মনস্তাত্ত্বিক ১০০ ডলারের নিচেই স্থিতিশীল রয়েছে। চলতি সপ্তাহে লন্ডনের ব্রেন্ট ক্রুড এবং মার্কিন টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI)—উভয় মানদণ্ডেই তেলের দর প্রত্যাশার চেয়ে কম সূচকে কেনাবেচা হতে দেখা গেছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার আশঙ্কা, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বৃদ্ধি এবং প্রধান প্রধান অর্থনৈতিক পরাশক্তিগুলোতে জ্বালানি ব্যবহারের শ্লথগতির কারণে সরবরাহ শৃঙ্খলে বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটা সত্ত্বেও বাজারে তেলের দাম লাগামহীন হতে পারেনি।তেলের দাম না বাড়ার প্রধান অনুঘটকসমূহমধ্যপ্রাচ্যের স্পর্শকাতর পরিস্থিতির পরও আন্তর্জাতিক কমোডিটি এক্সচেঞ্জে তেলের দর প্রত্যাশার চেয়ে নিয়ন্ত্রণে থাকার পেছনে বিশ্ব অর্থনীতির কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক কাজ করছে।চীন ও ইউরোপের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি শ্লথ হওয়ায় জ্বালানি তেলের বিশ্বব্যাপী সার্বিক ব্যবহার আগের চেয়ে কমেছে। পাশাপাশি, ওপেক প্লাস (OPEC+) জোটের বাইরে থাকা দেশগুলোর অব্যাহত অতিরিক্ত উৎপাদন বাজারে চাহিদার ঘাটতি তৈরি হতে দেয়নি।দর নিয়ন্ত্রণে থাকার মূল কারণসমূহজ্বালানি বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, দর ব্যারেলে ১০০ ডলারের নিচে থাকার নেপথ্যে যেসব প্রধান কারণ রয়েছে:যুক্তরাষ্ট্র ও অপেক-বহির্ভূত দেশের উৎপাদন: যুক্তরাষ্ট্র, ব্রাজিল ও গায়ানার মতো দেশগুলোতে তেলের রেকর্ড পরিমাণ উৎপাদন বাজারের ভারসাম্য রক্ষা করছে।চীনের বাণিজ্যিক মন্দা: বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল আমদানিকারক দেশ চীনে শিল্প উৎপাদন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি প্রত্যাশার চেয়ে ধীরগতির হওয়ায় চাহিদায় ঘাটতি।মার্কিন সুদের হার ও সুদের প্রভাব: উচ্চ সুদের হারের কারণে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক মন্দার প্রভাব এবং অর্থনৈতিক স্থবিরতা তেলের দামে অতিরিক্ত চাপ তৈরিতে বাধা সৃষ্টি করেছে।এক নজরে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার পরিস্থিতিবিষয়বিবরণবাজার স্থিতিপ্রতি ব্যারেল তেলের দাম ১০০ ডলারের নিচেউত্তেজনার অঞ্চলমধ্যপ্রা

ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency