| বঙ্গাব্দ

২০২৬ নির্বাচন ও মুছাব্বির হত্যাকাণ্ড: রাজধানীর আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও রাজনৈতিক বিশ্লেষণ

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 08-01-2026 ইং
  • 1773344 বার পঠিত
২০২৬ নির্বাচন ও মুছাব্বির হত্যাকাণ্ড: রাজধানীর আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও রাজনৈতিক বিশ্লেষণ
ছবির ক্যাপশন: প্রার্থী সাইফুল হক

ভোটের আগে রাজধানীতে রক্তক্ষরণ: মুছাব্বির হত্যা ও ২০২৬ নির্বাচনের নিরাপত্তা শঙ্কা

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে নির্বাচনী সহিংসতা এক অভিশপ্ত অধ্যায়। ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র এক মাস আগে রাজধানীর বুকে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আজিজুর রহমান মুছাব্বিরকে গুলি করে হত্যার ঘটনা দেশজুড়ে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। এই হত্যাকাণ্ড কেবল একটি প্রাণ কেড়ে নেয়নি, বরং ২০২৬-এর নির্বাচনী পরিবেশকে এক গভীর অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।

হত্যাকাণ্ডের বিবরণ ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া

গতকাল বুধবার (৭ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ৮টার দিকে কারওয়ান বাজারের স্টার কাবাবের পেছনে তেজতুরী বাজার এলাকায় ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান মুছাব্বিরকে লক্ষ্য করে দুর্বৃত্তরা পাঁচ রাউন্ড গুলি চালায়। পেটে তিনটি গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে বিআরবি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। আজ বৃহস্পতিবার কারওয়ান বাজার আম্বরশাহী মসজিদে তার জানাজায় মানুষের ঢল নামে।

জানাজা শেষে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী সাইফুল হক তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "সন্ত্রাসীরা যেভাবে জনসমক্ষে গুলি করে নির্বিঘ্নে পালিয়ে গেল, তা অবিশ্বাস্য। এটি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতির বহিঃপ্রকাশ। এর আগে গত ডিসেম্বরে শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের পরও প্রশাসন কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। এমন অবস্থায় মানুষ স্বস্তিতে ভোট দিতে পারবে কি না, তা নিয়ে গভীর সন্দেহ রয়েছে।"

ইতিহাসের কালপঞ্জি: ১৯০০ থেকে ২০২৬

বাংলার রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের ইতিহাস শতবর্ষের পুরনো। ১৯০০ সালের ব্রিটিশবিরোধী সশস্ত্র আন্দোলন থেকে শুরু করে আজকের ২০২৬ সাল পর্যন্ত রাজপথ বারবার রক্তাক্ত হয়েছে।

  • ১৯৭১-১৯৯০: স্বাধীনতার পর ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড এবং ৩ নভেম্বর জেলহত্যা বাংলাদেশের রাজনীতির গতিপথ বদলে দেয়। নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে ডাক্তার মিলন ও নূর হোসেনের আত্মত্যাগ এদেশের মানুষের গণতন্ত্রের তৃষ্ণাকে ফুটিয়ে তোলে।

  • ২০২৫-২০২৬ (সাম্প্রতিক প্রেক্ষাপট): ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার রাষ্ট্র সংস্কারের দায়িত্ব নিলেও ২০২৫ সালের শেষ দিকে পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। ১২ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে পল্টনে গুলি করা হয়, যিনি ১৮ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরে মারা যান। ঠিক তার এক মাসের মাথায় ২০২৬ সালের ৮ জানুয়ারি মুছাব্বির হত্যাকাণ্ড একই ধারার পুনরাবৃত্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

নির্বাচন নিয়ে গভীর উদ্বেগ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যখন সমঝোতা ও প্রস্তুতির কথা ছিল, তখন এই ধরনের টার্গেটেড কিলিং ভোটারদের মধ্যে আস্থার সংকট তৈরি করছে। সাইফুল হকের মতে, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা আগের ঘটনাগুলো থেকে শিক্ষা না নেওয়ায় অপরাধীরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। ২০২৬ সালের নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার চ্যালেঞ্জের মুখে এই রক্তপাত গণতন্ত্রের পথকে কণ্টকাকীর্ণ করে তুলছে।


সূত্র: ১. বাংলাদেশ প্রতিদিন (৮ জানুয়ারি, ২০২৬)। ২. প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশি তদন্ত প্রতিবেদন (তেজগাঁও বিভাগ)। ৩. বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় দপ্তর থেকে প্রেরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency