প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ঢাকা: ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে পুলিশ কর্মকর্তার ছেলে ইমাম হাসান তাইম হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ ১১ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল-২ আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করেন। আগামী ২৯ মার্চ মামলার সূচনা বক্তব্য ও সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করা হয়েছে।
বাঙালির বিচারিক ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, ১৯০০ সালের ব্রিটিশ আমল থেকেই পুলিশি নির্যাতন ও রাজরোষে সাধারণ মানুষের প্রাণহানির বহু ঘটনা ঘটেছে। ১৯৫২-র ভাষা আন্দোলন এবং ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধেও নির্বিচারে গুলি চালিয়ে হত্যার ইতিহাস রয়েছে। তবে ক্ষমতার শীর্ষে থাকা অবস্থায় খোদ পুলিশ বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে বিচার শুরুর এই ঘটনা ২০২৬ সালের বাংলাদেশের নতুন বিচারিক সংস্কৃতির প্রতিফলন।
২০২৪-এর জুলাই বিপ্লবে ছাত্র-জনতার ওপর রাষ্ট্রযন্ত্রের নির্বিচার ব্যবহারের যে ক্ষত তৈরি হয়েছিল, ২০২৬ সালের এই বিচার প্রক্রিয়া সেই ক্ষতে প্রলেপ দেওয়ার একটি বড় পদক্ষেপ। ১৯০০ সালের সেই পরাধীন বিচার ব্যবস্থা থেকে ২০২৬ সালের এই স্বাধীন ও দায়বদ্ধ বিচারিক কাঠামো ন্যায়বিচারের এক নতুন মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।
প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২০ জুলাই যাত্রাবাড়ীর কাজলা এলাকায় ডিএমপির তৎকালীন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে খুব কাছ থেকে গুলি চালিয়ে তাইমকে হত্যা করা হয়। নিহত তাইমের বাবা ময়নাল হোসেন ভূঁইয়া নিজেও পুলিশের একজন উপ-পরিদর্শক। সহকর্মীদের হাতে সহকর্মীর সন্তান হত্যার এই নৃশংস ঘটনা দেশজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছিল।
রোববার ট্রাইব্যুনালে গ্রেফতার দুই আসামি—যাত্রাবাড়ী থানার তৎকালীন ওসি আবুল হাসান ও সাবেক এসআই শাহাদাত আলীকে হাজির করা হয়। আদালত তাদের অভিযোগ পড়ে শোনালে তারা নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন। মামলার অন্য ৯ জন আসামি বর্তমানে পলাতক রয়েছেন, যাদের মধ্যে সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান ও যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী অন্যতম।
আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা, কমান্ড রেসপনসিবিলিটি (আদেশ দাতা হিসেবে দায়) এবং রাজনৈতিক কারণে নিপীড়নের অভিযোগ আনা হয়েছে। বিশেষ করে এসআই শাহাদাত আলীর বিরুদ্ধে মিথ্যা সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে আন্দোলনকারীদের ওপর দায় চাপানোর সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
| পদমর্যাদা | নাম | অবস্থা |
| সাবেক ডিএমপি কমিশনার | হাবিবুর রহমান | পলাতক |
| তৎকালীন ওসি (যাত্রাবাড়ী) | আবুল হাসান | গ্রেফতার |
| সাবেক এসআই | শাহাদাত আলী | গ্রেফতার |
| সাবেক যুগ্ম কমিশনার | সুদীপ কুমার চক্রবর্তী | পলাতক |
| সাবেক ডিসি (ওয়ারি) | ইকবাল হোসাইন | পলাতক |
| সাবেক এডিসি ও এসি পদমর্যাদার | আরও ৬ জন কর্মকর্তা | পলাতক |
সূত্র: ১. আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ (আইসিটি-২) কার্যবিবরণী, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬।
২. প্রসিকিউশন টিমের ব্রিফিং ও ভিকটিম পরিবারের সাক্ষাৎকার।
৩. ১৯০০-২০২৬: বাংলাদেশের আইনি ইতিহাস ও পুলিশের দায়বদ্ধতা সংক্রান্ত দলিল।
৪. জুলাই গণঅভ্যুত্থান তদন্ত প্রতিবেদন (প্রসিকিউশন শাখা)।
বিশ্লেষণ: ২০২৬ সালের এই বিচারিক বাস্তবতা প্রমাণ করে যে, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। ১৯০০ সালের আমলেও যেমন অন্যায়ের প্রতিবাদ হয়েছিল, ২০২৬ সালে এসে তা প্রাতিষ্ঠানিক বিচারে রূপ নিয়েছে। সাবেক ডিএমপি কমিশনারের মতো ক্ষমতাধর ব্যক্তির বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ গঠন বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি নজিরবিহীন ঘটনা। এটি ভবিষ্যতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জনবান্ধব হতে এবং ক্ষমতার অপব্যবহার রোধে বড় শিক্ষা হিসেবে কাজ করবে।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |