| বঙ্গাব্দ

তাইম হত্যা মামলা: সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে বিচার শুরু

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 22-02-2026 ইং
  • 1953155 বার পঠিত
তাইম হত্যা মামলা: সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে বিচার শুরু
ছবির ক্যাপশন: তাইম হত্যা মামলা

তাইম হত্যা মামলা: সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবসহ ১১ জনের বিচার শুরু, সাক্ষ্যগ্রহণ ২৯ মার্চ

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

ঢাকা: ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে পুলিশ কর্মকর্তার ছেলে ইমাম হাসান তাইম হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ ১১ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল-২ আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করেন। আগামী ২৯ মার্চ মামলার সূচনা বক্তব্য ও সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করা হয়েছে।

১৯০০ থেকে ২০২৬: ন্যায়বিচারের দীর্ঘ পথচলা

বাঙালির বিচারিক ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, ১৯০০ সালের ব্রিটিশ আমল থেকেই পুলিশি নির্যাতন ও রাজরোষে সাধারণ মানুষের প্রাণহানির বহু ঘটনা ঘটেছে। ১৯৫২-র ভাষা আন্দোলন এবং ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধেও নির্বিচারে গুলি চালিয়ে হত্যার ইতিহাস রয়েছে। তবে ক্ষমতার শীর্ষে থাকা অবস্থায় খোদ পুলিশ বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে বিচার শুরুর এই ঘটনা ২০২৬ সালের বাংলাদেশের নতুন বিচারিক সংস্কৃতির প্রতিফলন।

২০২৪-এর জুলাই বিপ্লবে ছাত্র-জনতার ওপর রাষ্ট্রযন্ত্রের নির্বিচার ব্যবহারের যে ক্ষত তৈরি হয়েছিল, ২০২৬ সালের এই বিচার প্রক্রিয়া সেই ক্ষতে প্রলেপ দেওয়ার একটি বড় পদক্ষেপ। ১৯০০ সালের সেই পরাধীন বিচার ব্যবস্থা থেকে ২০২৬ সালের এই স্বাধীন ও দায়বদ্ধ বিচারিক কাঠামো ন্যায়বিচারের এক নতুন মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।

মামলার প্রেক্ষাপট ও আসামিদের পরিচয়

প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২০ জুলাই যাত্রাবাড়ীর কাজলা এলাকায় ডিএমপির তৎকালীন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে খুব কাছ থেকে গুলি চালিয়ে তাইমকে হত্যা করা হয়। নিহত তাইমের বাবা ময়নাল হোসেন ভূঁইয়া নিজেও পুলিশের একজন উপ-পরিদর্শক। সহকর্মীদের হাতে সহকর্মীর সন্তান হত্যার এই নৃশংস ঘটনা দেশজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছিল।

রোববার ট্রাইব্যুনালে গ্রেফতার দুই আসামি—যাত্রাবাড়ী থানার তৎকালীন ওসি আবুল হাসান ও সাবেক এসআই শাহাদাত আলীকে হাজির করা হয়। আদালত তাদের অভিযোগ পড়ে শোনালে তারা নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন। মামলার অন্য ৯ জন আসামি বর্তমানে পলাতক রয়েছেন, যাদের মধ্যে সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান ও যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী অন্যতম।

অভিযোগের ধরন ও ট্রাইব্যুনালের পর্যবেক্ষণ

আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা, কমান্ড রেসপনসিবিলিটি (আদেশ দাতা হিসেবে দায়) এবং রাজনৈতিক কারণে নিপীড়নের অভিযোগ আনা হয়েছে। বিশেষ করে এসআই শাহাদাত আলীর বিরুদ্ধে মিথ্যা সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে আন্দোলনকারীদের ওপর দায় চাপানোর সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।


অভিযুক্তদের তালিকা (একনজরে)

পদমর্যাদানামঅবস্থা
সাবেক ডিএমপি কমিশনারহাবিবুর রহমানপলাতক
তৎকালীন ওসি (যাত্রাবাড়ী)আবুল হাসানগ্রেফতার
সাবেক এসআইশাহাদাত আলীগ্রেফতার
সাবেক যুগ্ম কমিশনারসুদীপ কুমার চক্রবর্তীপলাতক
সাবেক ডিসি (ওয়ারি)ইকবাল হোসাইনপলাতক
সাবেক এডিসি ও এসি পদমর্যাদারআরও ৬ জন কর্মকর্তাপলাতক

সূত্র: ১. আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ (আইসিটি-২) কার্যবিবরণী, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬।

২. প্রসিকিউশন টিমের ব্রিফিং ও ভিকটিম পরিবারের সাক্ষাৎকার।

৩. ১৯০০-২০২৬: বাংলাদেশের আইনি ইতিহাস ও পুলিশের দায়বদ্ধতা সংক্রান্ত দলিল।

৪. জুলাই গণঅভ্যুত্থান তদন্ত প্রতিবেদন (প্রসিকিউশন শাখা)।


বিশ্লেষণ: ২০২৬ সালের এই বিচারিক বাস্তবতা প্রমাণ করে যে, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। ১৯০০ সালের আমলেও যেমন অন্যায়ের প্রতিবাদ হয়েছিল, ২০২৬ সালে এসে তা প্রাতিষ্ঠানিক বিচারে রূপ নিয়েছে। সাবেক ডিএমপি কমিশনারের মতো ক্ষমতাধর ব্যক্তির বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ গঠন বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি নজিরবিহীন ঘটনা। এটি ভবিষ্যতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জনবান্ধব হতে এবং ক্ষমতার অপব্যবহার রোধে বড় শিক্ষা হিসেবে কাজ করবে।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency