প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
বাংলাদেশের নির্বাচনী সংস্কৃতিতে অর্থের উৎস এবং ব্যয় নিয়ে লুকোচুরি দীর্ঘদিনের প্রথা। তবে ২০২৬ সালের আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সেই প্রথা ভাঙার এক নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি করেছেন বরিশাল–৩ (বাবুগঞ্জ–মুলাদী) আসনের এবি পার্টির প্রার্থী আসাদুজ্জামান ভূঁইয়া ওরফে ব্যারিস্টার ফুয়াদ। প্রথমবারের মতো কোনো প্রার্থীর নির্বাচনী তহবিলে আসা অনুদান নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নির্ধারিত সীমা ছাড়িয়ে যাওয়ার ঘটনা রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বরিশাল–৩ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৩২ হাজার ১০১ জন। নির্বাচন কমিশনের বিধিমালা অনুযায়ী, মাথাপিছু ১০ টাকা হিসেবে এই আসনে নির্বাচনী ব্যয়ের সর্বোচ্চ সীমা ৩৩ লাখ ২১ হাজার ১০ টাকা। তবে ব্যারিস্টার ফুয়াদের স্বচ্ছ রাজনৈতিক আহ্বানে সাড়া দিয়ে দেশ ও বিদেশের সমর্থকরা তার তহবিলে ৭ জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত মোট ৩৯ লাখ ৬৬ হাজার ৫৫৬ টাকা অনুদান পাঠিয়েছেন। অর্থাৎ, ব্যয়ের সর্বোচ্চ সীমা থেকে তিনি ইতোমধ্যে ৬ লাখ ৪৫ হাজার ৫৪৬ টাকা অতিরিক্ত অনুদান লাভ করেছেন।
এই অতিরিক্ত অর্থের বিষয়ে ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, "আমরা প্রতিটি পয়সার হিসাব রাখছি। অতিরিক্ত অর্থের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। স্বচ্ছতার স্বার্থে নির্বাচনের দিন পর্যন্ত সমস্ত লেনদেন অডিট করে জনগণের সামনে প্রকাশ করা হবে।"
বরিশাল অঞ্চলের রাজনীতি সবসময়ই ছিল সচেতন এবং প্রতিবাদী। ১৯০০ সালের শুরুর দিকে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে অশ্বিনী কুমার দত্তের হাত ধরে বরিশালের রাজনৈতিক সচেতনতা যে উচ্চতায় পৌঁছেছিল, ২০২৬ সালের এই নির্বাচন তাকে এক নতুন মাত্রায় নিয়ে গেছে।
১৯৭১-১৯৯০: স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালের প্রথম সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-৩ আসনটি ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পরবর্তীতে ১৯৯১ সালে গণতন্ত্র ফেরার পর থেকে আসনটি বিএনপি ও জাতীয় পার্টির শক্তিশালী ঘাঁটিতে পরিণত হয়।
২০২৪-২০২৬: ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান এবং "জুলাই চার্টার"-এর প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের রাজনীতিতে তৃতীয় শক্তির উত্থান ঘটে। এবি পার্টির (আমার বাংলাদেশ পার্টি) সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ব্যারিস্টার ফুয়াদ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার যে ডাক দিয়েছেন, তা মূলত গত ১০০ বছরের রাজনৈতিক সংস্কৃতির এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন।
ব্যরিস্টার ফুয়াদের হলফনামা অনুযায়ী, তার বার্ষিক আয় ৭ লাখ ৪১ হাজার ৬০২ টাকা। যার একটি বড় অংশ আসে টেলিভিশন টকশো, ইউটিউব এবং ফেসবুক থেকে (৩ লাখ ২৬ হাজার টাকা)। পেশায় আইনজীবী ফুয়াদের চেম্বার থেকে আয় ৪ লাখ ১০ হাজার টাকা। তার এই হলফনামা প্রমাণ করে যে, সাধারণ মানুষের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অনুদান কীভাবে একটি বড় নির্বাচনী শক্তি হয়ে উঠতে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ১৯০০ সাল থেকে এদেশের রাজনীতিতে জমিদারি প্রথা ও কালো টাকার প্রভাব ছিল প্রবল। কিন্তু ২০২৬ সালের এই নির্বাচনে ব্যারিস্টার ফুয়াদের মতো প্রার্থীদের জন্য সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অনুদান এটিই প্রমাণ করে যে, জনগণ এখন পেশিশক্তি ও অর্থের বদলে সততা ও যোগ্যতাকে প্রাধান্য দিচ্ছে।
সূত্র: ১. বাংলাদেশ প্রতিদিন (৮ জানুয়ারি, ২০২৬)। ২. ব্যারিস্টার ফুয়াদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ ও অডিট রিপোর্ট। ৩. বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন (বরিশাল আঞ্চলিক কার্যালয়)।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |