প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
দেশের বাজারে টানা কয়েক দফা বাড়ার পর অবশেষে কিছুটা কমেছে স্বর্ণের দাম। সবথেকে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ৯৭৯ টাকা কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। ফলে আগামীকাল শুক্রবার (৯ জানুয়ারি ২০২৬) থেকে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণ কিনতে ক্রেতাদের খরচ পড়বে ২ লাখ ২৬ হাজার ৮০৬ টাকা।
আজ বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি ২০২৬) বাজুস স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং কমিটির এক বৈঠকে এই দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কমিটির চেয়ারম্যান ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পাকা সোনা) দাম কমায় এই সমন্বয় করা হয়েছে।
নতুন দাম অনুযায়ী:
২২ ক্যারেট: প্রতি ভরি ২,২৬,৮০৬ টাকা (কমেছে ৯৭৯ টাকা)।
২১ ক্যারেট: প্রতি ভরি ২,১৬,৪৮৪ টাকা (কমেছে ১,০৫০ টাকা)।
১৮ ক্যারেট: প্রতি ভরি ১,৮৫,৫৭৪ টাকা (কমেছে ৮৭৫ টাকা)।
সনাতন পদ্ধতি: প্রতি ভরি ১,৫৪,৬৬৫ টাকা (কমেছে ৭৫৮ টাকা)।
উল্লেখ্য যে, গত ৫ ও ৬ জানুয়ারি মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে স্বর্ণের দাম ভরিতে ৫ হাজার ১৩২ টাকা বাড়ানো হয়েছিল। আজকের এই সামান্য মূল্য হ্রাসকে সাধারণ ক্রেতারা 'মরার ওপর খাঁড়ার ঘা' কমার মতো দেখছেন।
স্বর্ণের দামের এই আকাশচুম্বী উচ্চতা বুঝতে হলে আমাদের গত ১২৫ বছরের ইতিহাসের দিকে তাকাতে হবে।
১৯০০-১৯৪৭: বিংশ শতাব্দীর শুরুতে ব্রিটিশ আমলে স্বর্ণের দাম ছিল অবিশ্বাস্য কম। ১৯০০ সালের দিকে এক ভরি স্বর্ণের দাম ছিল মাত্র ১৫ থেকে ২০ টাকার আশেপাশে। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের সময়ও স্বর্ণের ভরি ১০০ টাকার নিচে ছিল।
১৯৭১-১৯৯০: বাংলাদেশের স্বাধীনতার সময় ১৯৭১ সালে এক ভরি স্বর্ণের দাম ছিল মাত্র ১৬০ থেকে ১৭০ টাকা। আশির দশকে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে দাম বাড়তে শুরু করে এবং ১৯৯০ সালে তা ৩ হাজার টাকার ঘর অতিক্রম করে।
২০২৪-২০২৬: ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতির প্রভাবে স্বর্ণের দাম লাগামহীন হয়ে পড়ে। ২০২৬ সালের বর্তমান সময়ে এসে তেলের রাজনীতি (রাশিয়া-ইউক্রেন-যুক্তরাষ্ট্র ইস্যু) এবং ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমায় স্বর্ণ এখন সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে। ১৯০০ সালের ১৫ টাকার সোনা ২০২৬ সালে এসে ২ লাখ ২৬ হাজার টাকা ছাড়িয়ে যাওয়া আমাদের মুদ্রাস্ফীতির এক ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে।
বিডিএস বুলবুল আহমেদ-এর বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য সাধারণ নির্বাচনের আগে বাজারে এক ধরনের অস্থিরতা কাজ করছে। এছাড়া আন্তর্জাতিক বাজারে ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে বাণিজ্য যুদ্ধের ঝুঁকি এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের কারণে বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের দিকে ঝুঁকছেন। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লে বাজুসকেও স্থানীয়ভাবে দাম বাড়াতে হচ্ছে। গত দুদিনে ৫ হাজার টাকা বাড়ার পর মাত্র ৯৭৯ টাকা কমানোকে বিশেষজ্ঞরা 'কৌশলগত সমন্বয়' হিসেবে দেখছেন।
সূত্র: ১. বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) প্রেস বিজ্ঞপ্তি (৮ জানুয়ারি, ২০২৬)। ২. বাজুস স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং ডাটাবেজ। ৩. গোল্ড প্রাইজ হিস্ট্রি ও ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিল রেকর্ড (১৯০০-২০২৬)।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |