প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাঠ গোছাতে কঠোর অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলের শৃঙ্খলা রক্ষা এবং একক প্রার্থী নিশ্চিত করতে বিদ্রোহীদের সরে দাঁড়ানোর কড়া বার্তা দিয়েছেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এরই ধারাবাহিকতায় সুনামগঞ্জ-৫ (ছাতক-দোয়ারা) আসনের হেভিওয়েট স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বিএনপি নেতা মিজানুর রহমান চৌধুরী নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন।
সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির অন্যতম সদস্য এবং সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান চৌধুরী এবার দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে নেমেছিলেন। তার প্রার্থিতা বৈধ হওয়ার পর ওই আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন বেশ চাপে পড়েছিলেন। তবে গতকাল ৯ জানুয়ারি শুক্রবার রাতে গুলশান কার্যালয়ে তারেক রহমানের সঙ্গে এক রুদ্ধশ্বাস বৈঠকের পর মিজান চৌধুরী তার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেন।
নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে তারেক রহমানের সঙ্গে একটি ছবি পোস্ট করে মিজান চৌধুরী লেখেন, "আমার শ্রদ্ধেয় অভিভাবক তারেক রহমান সাহেব আমাকে ডেকে দল ও দেশের স্বার্থে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর অনুরোধ করেছেন। দলীয় প্রধানের সিদ্ধান্ত মাথা পেতে নিয়ে আমি মনোনয়ন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।"
সুনামগঞ্জ তথা ভাটি বাংলার রাজনীতি সবসময়ই উত্তাল ও বৈচিত্র্যময়। ১৯০০ সালের শুরুর দিকে এই অঞ্চলের মানুষ ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ছিল। ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনেও ছাতক-দোয়ারা অঞ্চলের মানুষ পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়েছিল।
১৯৭১: মহান মুক্তিযুদ্ধে ৫ নম্বর সেক্টরের অধীনে থাকা এই অঞ্চলটি ছিল রণকৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
১৯৭৮-২০২৪: ১৯৭৮ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাত ধরে বিএনপির যে যাত্রা শুরু হয়, তাতে সুনামগঞ্জের মাটি সবসময়ই উর্বর ছিল। ১৯৯১ ও ২০০১ সালের নির্বাচনে এই আসনটি বিএনপির দুর্গে পরিণত হয়।
২০১৮: গত ২০১৮ সালের নির্বাচনে মিজানুর রহমান চৌধুরী ধানের শীষ প্রতীকে লড়ে ব্যাপক জনমত তৈরি করলেও তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে হওয়া নির্বাচনে তিনি জয়ী হতে পারেননি।
২০২৬: বর্তমান ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় নির্বাচনটি ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে হওয়ায় এবার কারচুপির কোনো সুযোগ নেই বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এই প্রেক্ষাপটে বিএনপির অভ্যন্তরীণ ঐক্য জয়-পরাজয়ের প্রধান নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে।
২০১৮ সালের নির্বাচনে মিজান চৌধুরী সাড়া জাগালেও ২০২৬-এর নির্বাচনে বিএনপি সাবেক সংসদ সদস্য কলিম উদ্দিন আহমদ মিলনকে বেছে নেয়। মিজান চৌধুরীর ব্যক্তিগত ইমেজ এবং বিশাল কর্মী বাহিনীর কারণে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তিনি ছিলেন শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী। তার সরে দাঁড়ানোর ফলে এখন ছাতক-দোয়ারা আসনে বিএনপির একক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হলো।
মিজান চৌধুরী তার বার্তায় ভোটারদের উদ্দেশ্যে বলেন, "জানি আমার এ সিদ্ধান্তে অনেকেই কষ্ট পাবেন, কিন্তু দেশ ও দলের এই ক্রান্তিলগ্নে আপস করার সুযোগ নেই। আমি শহীদ জিয়ার আদর্শ এবং দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার প্রেরণা নিয়ে বাকি জীবন আপনাদের পাশে থাকতে চাই।"
আজ ১০ জানুয়ারি সারা দেশে আপিল শুনানির প্রথম দিনেই যেমন অনেকের মনোনয়ন বৈধ হচ্ছে, তেমনি বড় দলগুলোর অভ্যন্তরে বিদ্রোহী প্রার্থীদের বসিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়াও চলছে। নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, আগামী ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সুযোগ থাকবে। এরপরই চূড়ান্ত হবে প্রতীক এবং শুরু হবে জমজমাট নির্বাচনি প্রচারণা।
সূত্র: ১. মিজানুর রহমান চৌধুরীর অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ ও প্রেস ব্রিফিং (১০ জানুয়ারি ২০২৬)। ২. বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন (ইসি) ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়, সুনামগঞ্জ। ৩. বিএনপি কেন্দ্রীয় দপ্তর ও গুলশান কার্যালয় সংবাদ বিজ্ঞপ্তি।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |