প্রতিবেদক : বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ঢাকা: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাঠ ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আপিল শুনানির দ্বিতীয় দিনে বড় ধরনের সফলতা পেয়েছেন নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্নাসহ ৫৮ জন প্রার্থী। রোববার (১১ জানুয়ারি ২০২৬) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে অনুষ্ঠিত শুনানিতে তাদের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়। এর মাধ্যমে গত দুদিনে মোট ১০৯ জন প্রার্থী তাদের নির্বাচনি প্রতিদ্বন্দ্বিতার অধিকার ফিরে পেলেন।
নির্বাচন কমিশন এদিন মোট ৭১টি আপিল আবেদনের ওপর শুনানি পরিচালনা করে। এর মধ্যে ৫৮টি মঞ্জুর করা হয়েছে এবং ৭টি আবেদন নামঞ্জুর হয়েছে। এছাড়া যশোর-২ আসনে জামায়াতের প্রার্থী মোহাম্মদ মোসলেহ উদ্দিন ফরিদসহ ৬ জনের আবেদন অপেক্ষমাণ রাখা হয়েছে।
ফিরে এলেন যারা:
মাহমুদুর রহমান মান্না: বগুড়া-২ আসন থেকে নাগরিক ঐক্যের এই হেভিওয়েট প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ করা হয়েছে।
জামায়াতে ইসলামী: চাঁদপুর-২ আসনের মোহাম্মদ আব্দুল মুবিন এবং জামালপুর-৩ আসনের মো. মজিবুর রহমান আজাদীর আপিল মঞ্জুর করেছে ইসি।
অন্যান্য দল: দ্বিতীয় দিনে স্বতন্ত্র ১০ জন, খেলাফত মজলিসের ৮ জন, জাতীয় পার্টির ৬ জন এবং গণঅধিকার পরিষদের (জিওপি) ৬ জন প্রার্থী বৈধতা পেয়েছেন। এছাড়া এবি পার্টি, বাসদ, জেএসডি এবং এনসিপি-এর প্রার্থীরাও তালিকায় রয়েছেন।
বাংলার নির্বাচনি ইতিহাসে ‘মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই ও আপিল’ প্রক্রিয়াটি গণতন্ত্রের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। ১৯০০-এর দশকে ব্রিটিশ ভারতের অধীনে যখন সীমিত আকারে কাউন্সিল নির্বাচন হতো, তখন যোগ্যতা নির্ধারণের মাপকাঠি ছিল কেবল সম্পদ ও সামাজিক মর্যাদা। ১৯৪৭-এর দেশভাগ এবং ১৯৫৪-র যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনের সময় আইনি লড়াইয়ের চেয়ে রাজনৈতিক সংহতি বেশি প্রাধান্য পেত।
১৯৭১-এর স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালের প্রথম সংসদ নির্বাচন থেকে শুরু করে বর্তমান ২০২৬ সাল পর্যন্ত নির্বাচনি আইনে ব্যাপক সংস্কার এসেছে। বিংশ শতাব্দীর শেষ দিকেও মনোনয়নপত্র বাতিল হলে আদালতের দ্বারস্থ হতে হতো বেশি, কিন্তু ২০২৪ সালের ‘জুলাই অভ্যুত্থান’ পরবর্তী সংস্কারের ফলে ২০২৬ সালের এই নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) আরও শক্তিশালী ও স্বাধীন করা হয়েছে। ১৯০০ সালের সেই সীমিত অধিকার থেকে আজ ২০২৬ সালে এসে প্রায় ৬৪৫টি আপিল আবেদনের শুনানি স্বচ্ছতার সাথে করা—এটি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার এক বড় মাইলফলক।
রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করেও যাদের ভাগ্য ফেরেনি, তাদের মধ্যে রয়েছেন ফরিদপুর-৩ আসনের মোরশেদুল ইসলাম আসিফ এবং রাজশাহী-৩ আসনের হাবিবা বেগমসহ মোট ৭ জন। অন্যদিকে, যশোর-২ আসনে জামায়াত প্রার্থীর ভাগ্য নির্ধারণ হবে আগামী ১৬ জানুয়ারি।
উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট ১৮৪২ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র শুরুতে বৈধ ঘোষণা করা হয়েছিল এবং ৭২৩ জনের প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছিল। আগামী ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে এই আপিল শুনানি, যার মাধ্যমেই চূড়ান্ত হবে ২০২৬ সালের নির্বাচনি লড়াইয়ের চূড়ান্ত রণসজ্জা।
সূত্র: ১. বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন (EC) আপিল শুনানি প্রেস বিজ্ঞপ্তি (১১ জানুয়ারি ২০২৬)। ২. বাংলাদেশ নির্বাচন সংস্কার কমিশন ও জুলাই সনদ-২০২৫ গাইডলাইন। ৩. বাংলাদেশ গেজেট ও নির্বাচনি ইতিহাস আর্কাইভ (১৯০০-২০২৬)।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |