| বঙ্গাব্দ

ফরিদপুর-২ আসনে শামা ওবায়েদের হুঁশিয়ারি: দুর্নীতি করলে দলের লোককেও জেল!

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 11-01-2026 ইং
  • 2678131 বার পঠিত
ফরিদপুর-২ আসনে শামা ওবায়েদের হুঁশিয়ারি: দুর্নীতি করলে দলের লোককেও জেল!
ছবির ক্যাপশন: শামা ওবায়েদের হুঁশিয়ারি

দুর্নীতিবাজদের ঠাঁই নেই: সালথায় শামা ওবায়েদের কঠোর হুঁশিয়ারি ও উন্নয়নের মহাপরিকল্পনা

প্রতিবেদক : বিডিএস বুলবুল আহমেদ

ফরিদপুর: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬-এর ডামাডোলের মধ্যে ফরিদপুর-২ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী ও বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ ইসলাম এক সাহসী ও সময়োপযোগী বক্তব্য প্রদান করেছেন। রোববার (১১ জানুয়ারি ২০২৬) বিকেলে সালথা উপজেলার রামকান্তপুর ইউনিয়নের শৈলডুবি মাতুব্বর বাড়িতে আয়োজিত এক দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভায় তিনি দলের নেতাকর্মীদের প্রতি কঠোর সতর্কবার্তা জারি করেন।

দুর্নীতি ও দখলবাজির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’

শামা ওবায়েদ তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট করে দেন যে, আগামীর বাংলাদেশে কোনো ধরনের অনিয়ম সহ্য করা হবে না। তিনি বলেন, “দুর্নীতি, দখলবাজি ও টেন্ডারবাজি—এই তিনটি বিষয় আমাদের অভিধানে থাকবে না। আমাদের নিজেদের লোক হলেও ছাড় দেওয়া হবে না; প্রয়োজনে পুলিশে ধরিয়ে দেবেন।” তিনি আরও হুশিয়ারি দেন যে, যারা এসব অপকর্মের সাথে জড়িত থাকবে, তাদের নিশ্চিতভাবেই জেলে যেতে হবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণে শামা ওবায়েদের এই অবস্থান ভোটারদের মধ্যে আস্থার সঞ্চার করবে।

সালথায় আন্তর্জাতিক মানের হাসপাতাল ও মডেল ইউনিয়ন

বক্তব্যের দ্বিতীয় অংশে তিনি এলাকার উন্নয়নের একটি দীর্ঘমেয়াদী রূপরেখা তুলে ধরেন। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে, বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে:

  • প্রতিটি ইউনিয়নকে ‘মডেল ইউনিয়ন’-এ রূপান্তর করা হবে।

  • সালথা উপজেলায় একটি আন্তর্জাতিক মানের হাসপাতাল নির্মাণ করা হবে, যাতে উন্নত চিকিৎসার জন্য স্থানীয়দের কষ্ট করে রাজধানী বা অন্য কোথাও যেতে না হয়।

আলেম-ওলামাদের নিরাপত্তা ও আত্মিক সম্পর্ক

শামা ওবায়েদ ধর্মপ্রাণ মানুষদের আশ্বস্ত করে বলেন যে, বিএনপির কাছে আলেম-ওলামারা সবসময় নিরাপদ। রাজনীতি কেবল ভোটের জন্য নয়, বরং জনগণের সাথে তাঁর সম্পর্ক ‘আত্মার সম্পর্ক’ বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট (১৯০০ - ২০২৬)

বাঙালি জাতির রাজনৈতিক বিবর্তন পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ১৯০০ সালের গোড়ার দিকে যখন শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক বা মওলানা ভাসানী রাজনীতি করতেন, তখন তাঁদের মূল ভিত্তি ছিল সাধারণ কৃষক ও শ্রমজীবী মানুষের অধিকার। ১৯৫৪ সালের নির্বাচনেও ‘দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন’ ছিল অন্যতম দাবি।

পরবর্তীতে ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা এবং ১৯৯১ সালে বেগম খালেদা জিয়ার সংসদীয় গণতন্ত্রে উত্তরণের পর উন্নয়ন ও সুশাসনের দাবি আরও জোরালো হয়। ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের পর ২০২৬ সালের এই নির্বাচনে ভোটাররা এখন প্রার্থীদের ব্যক্তিগত আমলনামা ও নৈতিকতার ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। ১৯০০ সাল থেকে এ পর্যন্ত ফরিদপুরের রাজনীতিতে ওবায়েদুর রহমানের যে উত্তরাধিকার শামা ওবায়েদ বহন করছেন, তা ২০২৬ সালে এসে ‘সুশাসন ও স্বচ্ছতা’র এক নতুন মাত্রায় উন্নীত হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।


সূত্র: ১. বাংলাদেশ প্রতিদিন অনলাইন সংস্করণ ও স্থানীয় সংবাদ আর্কাইভ (১১ জানুয়ারি ২০২৬)। ২. বিএনপি কেন্দ্রীয় প্রচার সেল ও ফরিদপুর জেলা বিএনপি প্রতিবেদন। ৩. বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন (EC) ও ঐতিহাসিক রাজনৈতিক বিবর্তন ডাটাবেজ (১৯০০-২০২৬)।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency