২০২৬-এর মহাসংগ্রাম: ১২ ফেব্রুয়ারি ‘নতুন বাংলাদেশে’র ভাগ্য নির্ধারণী নির্বাচন ও গণভোট
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
বাঙালির রাজনৈতিক ইতিহাসে ১৯০০ সালের ব্রিটিশবিরোধী লড়াই থেকে শুরু করে ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার বিপ্লব—প্রতিটি মোড়ই ছিল আত্মমর্যাদা রক্ষার। দীর্ঘ ১৫ বছরের কর্তৃত্ববাদী শাসনের অবসানের পর, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বাংলাদেশ এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। এই দিনে একই সঙ্গে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং রাষ্ট্র সংস্কারের লক্ষ্যে প্রস্তাবিত ‘জুলাই সনদ’ বা সংস্কার সনদের ওপর জাতীয় গণভোট।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পর্যবেক্ষক দল এই নির্বাচনকে ‘২০২৬ সালের বিশ্বের সবচেয়ে বড় গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া’ হিসেবে অভিহিত করেছে। ১৭ কোটি মানুষের এই জনপদে এখন চলছে নতুন শক্তি বিন্যাস ও আদর্শিক মেরুকরণের হিসাব-নিকাশ।
নির্বাচনে জয়ের সবচেয়ে শক্তিশালী দাবিদার হিসেবে দেখা হচ্ছে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপিকে। দীর্ঘ ১৭ বছর নির্বাসনে থাকার পর ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর বীরের বেশে দেশে ফেরেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তবে তার প্রত্যাবর্তনের মাত্র কয়েক দিন পর ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫-এ রাজধানী এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও দলটির জ্যেষ্ঠ নেতা বেগম খালেদা জিয়া।
তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি বর্তমানে বাম, মধ্যপন্থী এবং কিছু ছোট ইসলামী দলের সমন্বয়ে গঠিত জোটে নেতৃত্ব দিচ্ছে। খালেদা জিয়ার প্রয়াণের পর শোকাতুর বিএনপি এখন নির্বাচনী মাঠ দখলে মরিয়া। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন বিএনপির তৃণমূলকে নতুন প্রাণশক্তি জুগিয়েছে।
এএফপির প্রতিবেদনে বিশেষভাবে উঠে এসেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কথা। ১৫ বছরের চরম দমন-পীড়ন ও নিষেধাজ্ঞার বেড়াজাল ভেঙে দলটি এখন আনুষ্ঠানিকভাবে রাজনীতিতে ফিরছে। ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে জামায়াত ১০টিরও বেশি ছোট দল নিয়ে একটি শক্তিশালী নির্বাচনী জোট গঠন করেছে।
এই জোটে যুক্ত হয়েছে ২০২৪-এর ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের দ্বারা গঠিত ‘জাতীয় নাগরিক পার্টি’ (এনসিপি)। এছাড়া লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (এলডিপি) এবং কয়েকটি প্রান্তিক ইসলামী দলও এই জোটের শরিক। এএফপি জামায়াতকে ‘মুসলিম ব্রাদারহুড’-এর সমগোত্রীয় সুসংগঠিত দল হিসেবে বর্ণনা করেছে। তবে জোটের অভ্যন্তরে উদারপন্থী ও কট্টরপন্থীদের মধ্যে আদর্শিক দ্বন্দ্ব নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও নির্বাচনী কৌশল হিসেবে তারা একীভূত।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস (৮৫) একটি ‘সম্পূর্ণ ভেঙে পড়া’ রাজনৈতিক ব্যবস্থা সংস্কারের দায়িত্ব নিয়েছেন। তার প্রস্তাবিত সংস্কার সনদ অনুযায়ী, নির্বাহী বিভাগ, বিচার বিভাগ ও আইনসভার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করাই মূল লক্ষ্য। ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটাররা কেবল তাদের প্রতিনিধিই নির্বাচন করবেন না, বরং এই সংস্কারগুলো তারা চান কি না, সে বিষয়ে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট দেবেন। নির্বাচন শেষে ড. ইউনূস নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করবেন বলে পুনব্যক্ত করেছেন।
বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ বাংলাদেশে ইসলামের নানা ধারার চর্চা রয়েছে। সুফি সম্প্রদায় ও কট্টরপন্থীদের মধ্যে আদর্শিক বিবাদ থাকলেও এই নির্বাচনে সবার সমান অধিকারের কথা বলা হচ্ছে। দেশের ১০ শতাংশ অমুসলিম জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা এখন আন্তর্জাতিক উদ্বেগের বিষয়।
ভূ-রাজনীতির প্রেক্ষাপটে ভারতের সঙ্গে ঢাকার সম্পর্ক বর্তমানে শীতল। ড. ইউনূসের প্রথম চীন সফর এবং পাকিস্তানের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান যোগাযোগ কৌশলগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ভারতের সাবেক মিত্র শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে আঞ্চলিক শক্তিগুলো এখন তারেক রহমান ও জামায়াত জোটের দিকে সতর্ক নজর রাখছে।
তথ্যসূত্র: ১. এএফপি (AFP) স্পেশাল রিপোর্ট: ‘Bangladesh’s Political Crossroads: An Election Guide’ (জানুয়ারি ১২, ২০২৬)। ২. রয়টার্স ও আল-জাজিরা বাংলাদেশ ডায়েরি: ‘The Return of Tarique Rahman and the End of an Era’। ৩. বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন (EC) ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন পর্যবেক্ষণ মিশন (EU EOM) প্রেস ব্রিফিং।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |