সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় খালেদা জিয়ার নাগরিক শোকসভা: এক অনন্য রাজনৈতিক বিদায়ের সাক্ষী
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
বাংলাদেশের ইতিহাসের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ বেগম খালেদা জিয়া। ১৯০০ সালের শুরুর দিকে বাঙালির যে স্বাধিকার আন্দোলনের বীজ রোপিত হয়েছিল এবং ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে যে সার্বভৌমত্ব অর্জিত হয়েছিল, সেই সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আপসহীন নেত্রী হিসেবে পরিচিত ছিলেন তিনবারের সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি, ২০২৬) দুপুর ৩টা ৫ মিনিটে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে তার স্মরণে আয়োজিত নাগরিক শোকসভার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। এই আয়োজনে অংশ নিয়েছেন বিএনপির বর্তমান চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং তার পরিবারের সদস্যরা।
নাগরিক সমাজের উদ্যোগে আয়োজিত এই শোকসভাটি ছিল রাজনীতির ঊর্ধ্বে এক গাম্ভীর্যপূর্ণ অনুষ্ঠান। আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ আগেই জানিয়েছিলেন, এটি কোনো রাজনৈতিক জনসভা নয়, বরং শ্রদ্ধা জানানোর একটি স্থান। অনুষ্ঠানের অন্যতম বিশেষত্ব ছিল—কোনো রাজনৈতিক নেতা মঞ্চে বক্তব্য দেননি। তারা দর্শকসারিতে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে অবস্থান করেন। মঞ্চে কেবল বিশিষ্ট পেশাজীবী, গবেষক, ধর্মীয় প্রতিনিধি এবং দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ বেগম খালেদা জিয়ার জীবন ও কর্ম নিয়ে আলোকপাত করেন।
সভায় উপস্থিত বিদেশি কূটনীতিক মিশনের প্রতিনিধিরা এই আয়োজনের শৃঙ্খলা ও গাম্ভীর্যের প্রশংসা করেন। শোকসভাকে সুশৃঙ্খল রাখতে সেলফি না তোলা, হাততালি না দেওয়া এবং দাঁড়িয়ে না থাকার মতো কঠোর নির্দেশনা ছিল অংশগ্রহণকারীদের জন্য।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিবর্তন ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ থেকে শুরু করে ১৯৪৭-এর দেশভাগ এবং ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বিকশিত হয়েছে। ১৯৪৫ সালে জন্ম নেওয়া বেগম খালেদা জিয়ার জীবন এই ইতিহাসেরই এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। ১৯৮০-র দশকে সামরিক জান্তা এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে তার 'আপসহীন' ভূমিকা বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্রে ফেরার পথ সুগম করেছিল। ১৯৯০-এর ৬ ডিসেম্বর এরশাদের পতনের পর ১৯৯১ সালে দেশের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি শপথ নেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার বিপ্লবের পর যখন দেশের রাজনীতির প্রেক্ষাপট বদলে যায়, তখন খালেদা জিয়ার অবদানকে নতুন করে মূল্যায়ন করছে নাগরিক সমাজ। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, "একজন খালেদা জিয়া ছিলেন বলেই বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব সুরক্ষিত ছিল।" ২০২৬ সালের এই শোকসভা কেবল একজন নেত্রীর প্রস্থান নয়, বরং বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি অধ্যায়ের সম্মানজনক স্বীকৃতি।
জুমার নামাজের পর থেকেই সংসদ ভবন এলাকায় মানুষের ভিড় বাড়তে থাকে। জ্যেষ্ঠ পেশাজীবী থেকে শুরু করে সর্বস্তরের মানুষ প্রিয় নেত্রীকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে কার্ড প্রদর্শন সাপেক্ষে নির্ধারিত স্থানে প্রবেশ করেন। সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজার প্রবেশমুখে বিপুলসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ও স্বেচ্ছাসেবকরা নিরাপত্তা তদারকি করেন। এমনকি যানবাহনের ক্ষেত্রেও নির্ধারিত কার্ড বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল, যা অনুষ্ঠানের গাম্ভীব্য বজায় রাখতে সহায়তা করে।
বিশ্লেষকদের মতে, ১৯০০ সালের পর থেকে বাংলার রাজনীতিতে অনেক নেতার উত্থান-পতন ঘটেছে, কিন্তু খালেদা জিয়ার মতো জনপ্রিয় নেত্রীর নাগরিক শোকসভা সংসদ ভবনের প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হওয়া গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির এক নতুন মাইলফলক।
তথ্যসূত্র: ১. নাগরিক শোকসভা আয়োজক কমিটি ও অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহর ব্রিফিং (১৬ জানুয়ারি, ২০২৬)। ২. বাংলাদেশ সংসদ সচিবালয় ও জাতীয় গণমাধ্যম আর্কাইভ। ৩. বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস: ১৯৪৫-২০২৬ (ডিজিটাল ডেটাবেজ ও এনসাইক্লোপিডিয়া)।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |