| বঙ্গাব্দ

ইসি ঘেরাও স্থগিত: দাবি আদায়ের পথে ছাত্রদলের বড় জয় ২০২৬

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 19-01-2026 ইং
  • 2495513 বার পঠিত
ইসি ঘেরাও স্থগিত: দাবি আদায়ের পথে ছাত্রদলের বড় জয় ২০২৬
ছবির ক্যাপশন: ছাত্রদল

ইসি ঘেরাও কর্মসূচি স্থগিত: দাবি আদায়ে ছাত্রদলের ‘আপসহীন’ অবস্থান ও নতুন হুঁশিয়ারি

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে তিন দফা দাবিতে টানা দুই দিন ধরে চলা নির্বাচন কমিশন (ইসি) ঘেরাও কর্মসূচি সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। সোমবার (১৯ জানুয়ারি ২০২৬) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে কমিশনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে সফল আলোচনা শেষে ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব এই ঘোষণা দেন।

আলোচনার সারসংক্ষেপ ও দাবি পূরণ

সোমবার বিকেলে ছাত্রদলের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল ইসির অতিরিক্ত সচিব কে এম আলী নেওয়াজের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। বৈঠকে ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব এবং সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাসির উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা শেষে রাকিবুল ইসলাম জানান, নির্বাচন কমিশন তাদের দাবিগুলো যৌক্তিকভাবে বিবেচনা করার আশ্বাস দিয়েছে। বিশেষ করে, দেশের অভ্যন্তরে ‘পোস্টাল ব্যালট’ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনা এবং শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) বিতর্কিত ছাত্র সংসদ নির্বাচনের প্রক্রিয়া স্থগিত করার সিদ্ধান্তে ছাত্রদল সন্তোষ প্রকাশ করেছে।

১৯০০-২০২৬: নির্বাচনী ব্যবস্থা ও ছাত্র রাজনীতির পরিক্রমা

বাংলাদেশের নির্বাচনী ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, ১৯০০ সালের পর থেকে এই ভূখণ্ডে ভোটাধিকার আদায়ের লড়াই শুরু হয়।

  • ১৯৩৭ ও ১৯৪৬-এর নির্বাচন: ব্রিটিশ আমলে সীমিত ভোটাধিকারের ভিত্তিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতো, যেখানে ছাত্ররা জনমত গঠনে বড় ভূমিকা রাখত।

  • ১৯৭০-এর ঐতিহাসিক নির্বাচন: ১৯৭০ সালের নির্বাচনে বাঙালিদের অভূতপূর্ব জয়ই মূলত বাংলাদেশের স্বাধীনতার পথ প্রশস্ত করেছিল।

  • স্বাধীন উত্তর কালখণ্ড: ১৯৭৫ ও ১৯৯০-এর পরিবর্তনের পর থেকে নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবিতে রাজপথে ছাত্র সংগঠনের ভূমিকা সবসময়ই জোরালো ছিল।

  • ২০২৪-২০২৬ এর প্রেক্ষাপট: ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার বিপ্লবের পর দেশে একটি নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে উঠছে। ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনের প্রতিটি পদক্ষেপ এখন কড়া পর্যবেক্ষণে রয়েছে। ছাত্রদলের এবারের আন্দোলন প্রমাণ করেছে যে, নতুন বাংলাদেশে কোনো ‘পছন্দসই’ বা ‘পক্ষপাতমূলক’ নির্বাচন কমিশন মেনে নেওয়া হবে না।

ছাত্রদলের তিন দফা ইস্যু

ছাত্রদল মূলত তিনটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ নিয়ে এই ঘেরাও কর্মসূচি পালন করে: ১. পোস্টাল ব্যালট: কমিশন কর্তৃক পোস্টাল ব্যালট সংক্রান্ত সিদ্ধান্তকে ‘পক্ষপাতদুষ্ট’ হিসেবে আখ্যা দেয় সংগঠনটি। ২. অদৃশ্য চাপ: বিশেষ কোনো রাজনৈতিক গোষ্ঠীর চাপে ইসি যেন হঠকারী সিদ্ধান্ত না নেয়, সেই দাবি জানানো হয়। ৩. শাকসু নির্বাচন: শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি) ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ইসির বিতর্কিত প্রজ্ঞাপন বাতিলের দাবি।

হুঁশিয়ারি ও ভবিষ্যৎ কর্মসূচি

কর্মসূচি স্থগিত করলেও ছাত্রদল সভাপতি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এটি কেবল সাময়িক। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, "যদি কোনো গোষ্ঠী আবারও অপকৌশল ব্যবহার করে নির্বাচন কমিশনের ওপর চাপ সৃষ্টি করে, তবে ছাত্রদল রাজপথে তার উপযুক্ত জবাব দেবে।" সাংগঠনিক সম্পাদক আমান উল্লাহ আমান যোগ করেন, ৫ আগস্টের পর থেকে একটি বিশেষ পক্ষ প্রশাসনের নিয়োগ ও পদোন্নতিতে যে প্রভাব বিস্তার করছে, তা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।

উপসংহার ও বিশ্লেষণ

১৯০০ সালের সেই অধিকার আদায়ের চেতনা থেকে ২০২৬-এর এই গণতান্ত্রিক আন্দোলন—বাংলাদেশের ছাত্র রাজনীতি বারবার প্রমাণ করেছে যে তারা গণতন্ত্রের অতন্দ্র প্রহরী। নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে ছাত্রদলের এই সমঝোতা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য একটি ইতিবাচক বার্তা বহন করে। তবে জনগণের আস্থা ধরে রাখতে হলে কমিশনকে অবশ্যই তাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে হবে।


সূত্র: নির্বাচন কমিশন সচিবালয়, বাসস (BSS), যুগান্তর অনলাইন এবং ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় প্রচার সেল।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency