| বঙ্গাব্দ

৫জি প্রকল্পে অস্বাভাবিক ব্যয় ও দুদক তদন্ত

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 07-07-2025 ইং
  • 4581208 বার পঠিত
৫জি প্রকল্পে অস্বাভাবিক ব্যয় ও দুদক তদন্ত
ছবির ক্যাপশন: দেড়শ কোটির প্রকল্পে ব্যয় ৩২৬ কোটি, এগিয়ে নিতে বিশেষ সহকারীর চাপ

 ৫জি প্রকল্পে ১৬১ কোটি টাকার ‘অতিরিক্ত’ খরচ: তদন্তে উঠে আসছে বিতর্ক, চাপ, এবং চীনা সংযোগ

বাংলাদেশে ৫জি নেটওয়ার্ক উন্নয়নের লক্ষ্য নিয়ে হাতে নেওয়া ‘বিটিসিএলের অপটিক্যাল ফাইবার ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক উন্নয়ন’ প্রকল্পে অস্বাভাবিক ব্যয়ের অভিযোগে উত্তাল হয়ে উঠেছে প্রযুক্তি ও প্রশাসনিক মহল। প্রকল্পের জন্য ধরা হয়েছে ৩২৬ কোটি টাকার বাজেট, অথচ বুয়েটের বিশেষজ্ঞ মত বলছে, প্রকৃত প্রয়োজন ছিল সর্বোচ্চ ১৬৫ কোটি টাকা

অতিরিক্ত যন্ত্রপাতি, চীনা কোম্পানি, এবং প্রশাসনিক চাপ

প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রক্রিয়ায় ১২৬ টেরাবাইট সক্ষমতার যন্ত্রপাতি কেনা হচ্ছে, যেখানে দেশের ব্যান্ডউইথ চাহিদা ২০৩০ সাল পর্যন্ত হবে সর্বোচ্চ ২৬.২ টেরাবাইট—এমন তথ্য দিয়েছে বুয়েটের সমীক্ষা
কিন্তু বাস্তবায়নকারী পক্ষ যুক্তি দেখাচ্ছে, “ব্যান্ডউইথ চাহিদা ইতিমধ্যে ৩৫ টেরাবাইট অতিক্রম করেছে” এবং বার্ষিক প্রবৃদ্ধি ৫০% হওয়ায় **ভবিষ্যতের কথা ভেবেই বেশি সক্ষমতার যন্ত্রপাতি কেনা যৌক্তিক।”

চিঠি, চাপ ও দুর্নীতির অভিযোগ

বিশেষ সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব। অভিযোগ উঠেছে, তিনি নিজের প্যাডে আধা-সরকারি চিঠি দিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আপত্তি উপেক্ষা করে প্রকল্পটি এগিয়ে নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছেন।

এদিকে দুদক তদন্তে উঠে এসেছে গোপনীয়তা লঙ্ঘন, অতিরিক্ত যন্ত্রপাতি, বিধিমালা উপেক্ষা এবং অস্বচ্ছ কার্যাদেশের তথ্য। হুয়াওয়ে নামক চীনা প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেয়ার প্রক্রিয়ায় নিয়মনীতি লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে। দুদক বলেছে:

“এ প্রকল্পের ক্রয় প্রক্রিয়া চালালে তা হবে আইনের ব্যত্যয় এবং রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয়।”

প্রশাসনিক টানাপোড়েন ও মামলা-বরখাস্ত

প্রকল্প বাতিলের প্রেক্ষাপটে টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার ও সচিব আবু হেনা মোরশেদ জামান নিজ নিজ ‘পছন্দের ঠিকাদারকে’ কাজ পাইয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ।
বিটিসিএলের তৎকালীন এমডি আসাদুজ্জামান চৌধুরী দরপত্র বাতিল করলে তাকে বরখাস্ত ও মামলার মুখোমুখি হতে হয়। আদালতের নির্দেশে পরে মামলা স্থগিত হয়।

কী বলছেন বিশ্লেষকরা?

  • দুদকের সাবেক মহাপরিচালক মইদুল ইসলাম বলেন:

    “দুদক স্বাধীনভাবে কাজ করে—এভাবে চিঠি পাঠানো হস্তক্ষেপ এবং স্পষ্ট হুমকি।”

  • টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন:

    “হুয়াওয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান হলেও, তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন দেশে নানা বিতর্ক রয়েছে। এ ধরনের প্রকল্পে সুশাসন নিশ্চিত না করলে ভবিষ্যতে শুধু অর্থ নয়, নিরাপত্তা ঝুঁকিও বাড়বে।”

উপসংহার

প্রযুক্তি উন্নয়নের নামে জাতীয় বাজেট থেকে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে, কিন্তু সেই খরচ কতটা যৌক্তিক—তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে প্রশাসনের ভেতর থেকেই। জাতীয় অর্থ ও নীতিনৈতিকতা রক্ষায় প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রতিটি ধাপে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি অত্যাবশ্যক। অন্যথায় রাষ্ট্রীয় প্রকল্পের আড়ালে দুর্নীতি নতুন রূপে মাথা তুলবে।

প্রতিবেদকBDS Bulbul Ahmed
আরও
 খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency