প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ঢাকা: ক্ষমতার মোহ নয়, বরং জনগণের কল্যাণে কাজ করাই বিএনপির রাজনীতির মূল লক্ষ্য বলে ঘোষণা করেছেন দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর মহাখালী টিঅ্যান্ডটি মাঠে আয়োজিত এক দোয়া মাহফিলে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন। কড়াইল বস্তিবাসীসহ সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে একগুচ্ছ ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন তিনি।
বক্তব্যের শুরুতেই তারেক রহমান কড়াইলবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি নিজের পারিবারিক ঐতিহ্যের কথা স্মরণ করে বলেন, "আমি জিয়াউর রহমানের সন্তান, খালেদা জিয়ার সন্তান। কিন্তু এই পরিচয়ের চেয়েও বড় পরিচয় হলো—আমি আপনাদেরই সন্তান। আমি বাংলাদেশের মানুষের জন্য রাজনীতি করি।"
তিনি উল্লেখ করেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ক্ষমতায় থাকাকালীন মা-বোনদের শিক্ষা প্রসারে বিনামূল্যে বই ও উপবৃত্তিসহ নানা উদ্যোগ নিয়েছিলেন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আমলের উন্নয়নমূলক কাজ থেকেও দেশবাসী উপকৃত হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখার অঙ্গীকার করেন তিনি।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে তারেক রহমান বলেন, "মা-বোনদের স্বাবলম্বী করা ও নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে আমরা ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নিতে চাই। কৃষকদের জন্যও এই কার্ডের ব্যবস্থা থাকবে। আপনারা যদি সুযোগ দেন, আমরা এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করব।"
কড়াইল বস্তির সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, "আমরা চাই এই এলাকার সন্তানরা বিদেশি ভাষায় কথা বলুক, আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত হোক।" এছাড়া বস্তিবাসীর আবাসন সংকট নিরসনে ছোট ছোট ফ্ল্যাট নির্মাণ এবং একটি আধুনিক ক্লিনিক স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
নিজের অতীত স্মৃতিচারণা করে তারেক রহমান বলেন, "আমি একসময় ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় থাকতাম। সেই বাড়ি যেভাবে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল, আমি তা ভুলে যাইনি।" সাধারণ মানুষের উচ্ছেদ বা বাসস্থান হারানোর কষ্ট তিনি নিজের অভিজ্ঞতা থেকে অনুভব করেন বলে জানান। ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি সবার কাছে দোয়া প্রার্থনা করেন।
বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে ১৯০০ সালের সূচনালগ্ন থেকেই সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ের আন্দোলন চলে আসছে। ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ—প্রতিটি ক্ষেত্রেই নেতৃত্ব ও জনগণের মেলবন্ধন ছিল প্রধান শক্তি। ১৯৮০-র দশকে শহীদ জিয়ার প্রবর্তিত বহুদলীয় গণতন্ত্র এবং ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার বিপ্লব বাংলাদেশের রাজনৈতিক মানচিত্রকে নতুন রূপ দিয়েছে। ২০২৫ সালের এই সংস্কারের সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে ২০২৬ সালের সম্ভাব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তারেক রহমানের এই 'ফ্যামিলি কার্ড' এবং 'আবাসন প্রকল্প' জনগণের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তারেক রহমানের এই বক্তব্য মূলত প্রান্তিক মানুষের মন জয়ের এক সুদূরপ্রসারী কৌশল।
তারেক রহমানের বক্তব্যে এবার কেবল রাজনৈতিক সংঘাত নয়, বরং মানবিক উন্নয়নের রূপরেখা বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। ক্যান্টনমেন্টের বাড়ি হারানোর ব্যক্তিগত স্মৃতিকে তিনি কড়াইলবাসীর আবাসন সমস্যার সাথে মিলিয়ে যেভাবে উপস্থাপন করেছেন, তা সাধারণ মানুষের আবেগ স্পর্শ করেছে। ২০২৬ সালের নির্বাচনের পথে বিএনপি যে একটি ‘লিবারেল ডেমোক্রেটিক’ বা উদার গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়ার পথে হাঁটছে, এই বক্তব্যে তারই প্রতিফলন দেখা যায়।
সূত্র: যুগান্তর, বিএনপি মিডিয়া সেল, স্থানীয় প্রতিনিধি এবং ২০ জানুয়ারি ২০২৬-এর সভা।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |