প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
বাংলাদেশের রাজনীতি মানেই যেমন ত্যাগের ইতিহাস, তেমনি ক্ষমতা আর অন্তর্কোন্দলের এক জটিল সমীকরণ। ১৯০০ সালের বঙ্গভঙ্গ থেকে শুরু করে ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন এবং ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে যে গণতন্ত্রের স্বপ্ন দেখা হয়েছিল, তা আজও প্রতিটি নির্বাচনে নতুন রূপ নিয়ে হাজির হয়। ৫ আগস্ট ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। তবে এই নির্বাচনের ডামাডোলে বড় দল বিএনপির ভেতরে শুরু হয়েছে চরম অস্থিরতা। দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে মাঠে থাকা ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীদের বিরুদ্ধে এবার চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে বিএনপি নেতৃত্ব।
বুধবার (২১ জানুয়ারি ২০২৬) রাজধানীর গুলশানে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক জরুরি ব্রিফিংয়ে দলের মুখপাত্র মাহদী আমীন স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, যারা ধানের শীষের প্রার্থীর বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র হিসেবে লড়াই করছেন, তাদের ছাড় দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, “ফ্যাসিবাদবিরোধী দীর্ঘ আন্দোলনে অনেকের অনেক ত্যাগ রয়েছে। দীর্ঘ সময় ভোট দিতে না পেরে অনেকের মধ্যে সংসদ সদস্য হওয়ার প্রবল আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে, এটা সত্য। কিন্তু একটি আসনে দলের একজনের বেশি মনোনয়ন দেওয়া সম্ভব নয়।”
মাহদী আমীন আরও যোগ করেন, “প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সময় শেষ হলেও আমাদের শীর্ষ নেতৃত্ব বিদ্রোহীদের সঙ্গে কথা বলছেন। যদি তারা এখনো সরে না দাঁড়ান, তবে দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) ছিল প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সারাদেশে প্রায় ৭৬ জন বিএনপি নেতা দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়ে গেছেন। নির্বাচনের আগের এই তিন সপ্তাহে ২৯৮টি আসনের মধ্যে প্রায় এক-চতুর্থাংশ আসনেই ধানের শীষের প্রার্থীদের নিজ দলের বিদ্রোহীদের মোকাবিলা করতে হবে। চট্টগ্রাম-৮ ও নরসিংদী-২ এর মতো আসনগুলোতে বিদ্রোহীরা বড় ধরনের ‘ফ্যাক্টর’ হয়ে দাঁড়িয়েছেন।
একই দিনে নির্বাচনী প্রচারণা শুরুর ঘোষণা দিয়েছে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের ফসল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) তিন নেতার মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে নাহিদ ইসলাম, সারজিস আলম ও হাসনাত আব্দুল্লাহদের এই নতুন দল রাজপথে নামছে। অন্যদিকে, ১০ দলীয় জোটে আসন সমঝোতা হলেও ৫টি আসনে জামায়াত ও অন্য শরিকরা প্রার্থী প্রত্যাহার না করায় জোটের ভেতরেও অস্বস্তি তুঙ্গে।
| সময়কাল | প্রধান রাজনৈতিক মোড় |
| ১৯০৫ - ১৯৫২ | বঙ্গভঙ্গ থেকে ভাষা আন্দোলনের অগ্নিগর্ভ সময়, যা বাঙালির স্বাধিকারের মূল ভিত্তি। |
| ১৯৭১ | ৯ মাসের যুদ্ধের পর বিশ্ব মানচিত্রে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়। |
| ১৯৭৫ - ১৯৯০ | রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও দীর্ঘ সামরিক শাসনের পর গণতান্ত্রিক পুনরুত্থান। |
| ২০০৭ - ২০২৪ | ওয়ান ইলেভেন ও পরবর্তীতে ৫ আগস্টের ঐতিহাসিক ‘দ্বিতীয় স্বাধীনতা’। |
| ২০২৬ | ১২ ফেব্রুয়ারি: নতুন বাংলাদেশের রাষ্ট্র সংস্কার পরবর্তী প্রথম সাধারণ নির্বাচন। |
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ১৯০০ সাল থেকে শুরু হওয়া বাঙালির গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ছিল ভোট ও ভাতের অধিকার। ২০২৪-এর বিপ্লব সেই অধিকারকে নতুন করে প্রাণ দিলেও ২০২৬-এর নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থীদের এই আধিক্য বড় দলগুলোর জন্য ‘কাঁটা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কুষ্টিয়া-৩ আসনে মুফতি আমির হামজার বিরুদ্ধে মামলা এবং ঢাকা-৯ আসনে তাসনিম জারার ‘ফুটবল’ প্রতীক বরাদ্দের মতো ঘটনাগুলো প্রমাণ করে যে, এবারের নির্বাচন কেবল ক্ষমতার পরিবর্তন নয়, বরং আদর্শিক শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই।
সূত্র: যুগান্তর, বাংলাদেশ প্রতিদিন ডিজিটাল আর্কাইভ, বিএনপি মিডিয়া সেল, নির্বাচন কমিশন (ইসি) ও এনসিপি বার্তা।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |