প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণভোটকে কেন্দ্র করে সক্রিয় রয়েছে দেশের আটটি সমমনা রাজনৈতিক দলের জোট। এই আট দলের লিয়াজোঁ কমিটির একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক সোমবার সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে বেশ কিছু কৌশলগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমেদ আব্দুল কাদের। বৈঠকের সিদ্ধান্তের বিস্তারিত তথ্য কমিটির পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
আট দলের লিয়াজোঁ কমিটি তাদের আগামী দিনের কর্মপন্থা ও রাজনৈতিক কৌশল চূড়ান্ত করেছে:
১. গণভোটের প্রচারণা: ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাস্তবায়নে অনুষ্ঠিতব্য গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে জনমত গঠনের লক্ষ্যে আগামী ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫ পর্যন্ত দেশব্যাপী প্রচার-প্রচারণা চালানো হবে।
২. নির্বাচনী কৌশল: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর জোটের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা হবে।
৩. আসন সমঝোতা: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য আট দলভুক্ত দলগুলোর মধ্যে আসন সমঝোতার আলোচনা আজ, মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) থেকে শুরু হবে।
৪. বিজয় দিবস: দলগুলো বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে নিজ নিজ ব্যানারে পৃথক কর্মসূচি পালন করবে।
৫. সাংগঠনিক শক্তি: দলগুলোর কার্যক্রমকে আরও বেগবান করার জন্য জেলা ও উপজেলাভিত্তিক লিয়াজোঁ কমিটি গঠন করা হবে।
এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে আট দলের লিয়াজোঁ কমিটির সমন্বয়ক ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. হামিদুর রহমান আজাদ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব গাজী আতাউর রহমান, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মাওলানা মুসা বিন ইযহার ও সিনিয়র নায়েবে আমির আবদুল মাজেদ আতহারী, এবং বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মাওলানা ইউসুফ সাদিক হক্কানী প্রমুখ।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলগুলোর জোটবদ্ধ হওয়া এবং তাদের নির্বাচনী কৌশল বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।
| সময়কাল | প্রাসঙ্গিক ঘটনা ও আলোচনা | বক্তব্য ও প্রেক্ষাপট |
| ১৯৫০-১৯৭১ | ধর্ম ও রাজনীতিতে প্রভাব | স্বাধীনতা-পূর্ববর্তী সময়েও ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলগুলো পূর্ব পাকিস্তানের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিল। বিশেষ করে ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন এবং তার পরবর্তী সময়ে এই দলগুলোর প্রভাব ছিল লক্ষণীয়। |
| ১৯৭২-১৯৮০ | পুনঃসংগঠন ও জোটবদ্ধতা | স্বাধীনতার পর প্রথম দিকে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ থাকলেও, পরবর্তীতে সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে এই দলগুলো পুনরায় সক্রিয় হয়। সামরিক শাসনের অবসানের পর রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনী জোট গঠন শুরু করে। |
| ২০০০-২০২৫ | ইসলামী দলগুলোর জোট রাজনীতি | এই শতকে এসে ধর্মভিত্তিক দলগুলো প্রায়শই নির্বাচনী সুবিধা নিশ্চিত করতে বা অভিন্ন আদর্শের ভিত্তিতে জোট গঠন করেছে। |
* **'জুলাই জাতীয় সনদ'**: **২০২৫ সালে** এই দলগুলোর গণভোটের পক্ষে প্রচারণার সিদ্ধান্ত প্রমাণ করে যে, তারা শুধু নির্বাচনী প্রতিযোগিতায় নয়, বরং সাংবিধানিক ও শাসনতান্ত্রিক পরিবর্তনের (জুলাই জাতীয় সনদ) ক্ষেত্রেও জনমত গঠনে সচেষ্ট।
* **আসন সমঝোতা:** আসন সমঝোতা নিয়ে আলোচনা শুরু করা ইঙ্গিত দেয় যে, তারা ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে তাদের সম্মিলিত শক্তিকে কাজে লাগিয়ে সর্বোচ্চ সংখ্যক আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চাইছে। এটি ধর্মভিত্তিক দলগুলোর ক্ষমতার ভারসাম্যে প্রভাব ফেলার একটি কৌশলগত প্রচেষ্টা। |
আট দলের এই জোটবদ্ধ কার্যক্রম এবং 'হ্যাঁ' ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালানো ইঙ্গিত দেয় যে, আসন্ন নির্বাচন এবং গণভোটে এই ধর্মভিত্তিক দলগুলো একটি গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হতে চলেছে, যা সামগ্রিক রাজনৈতিক ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে।
১. খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত আট দলের লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠকের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি।
২. গুগল সার্চ ও নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে প্রাপ্ত রাজনৈতিক জোট এবং দলগুলোর কৌশল সংক্রান্ত তথ্য।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |