| বঙ্গাব্দ

ঢাকা-১৮ আসনে মান্নার নির্বাচনী হুঁশিয়ারি: ‘ঘুষমুক্ত প্রশাসন ও ২৪-এর চেতনা নিয়ে ২০২৬ সালে নতুন সরকার গড়তে চাই’

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 23-01-2026 ইং
  • 2419963 বার পঠিত
ঢাকা-১৮ আসনে মান্নার নির্বাচনী হুঁশিয়ারি: ‘ঘুষমুক্ত প্রশাসন ও ২৪-এর চেতনা নিয়ে ২০২৬ সালে নতুন সরকার গড়তে চাই’
ছবির ক্যাপশন: মান্নার

ঢাকা-১৮ আসনে মাহমুদুর রহমান মান্না: ‘গায়ের জোরে দেশ শাসন আর চলবে না’

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

ঢাকা: "আমরা এমন একটি সরকার চাই যারা গায়ের জোরে দেশ চালাবে না। ২৪-এর জুলাই অভ্যুত্থানের সেই অদম্য চেতনা এবং ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠার যে আকাঙ্ক্ষা নিয়ে মানুষ রাজপথে রক্ত দিয়েছে, ২০২৬ সালের নির্বাচনে সেই আকাঙ্ক্ষারই প্রতিফলন ঘটাতে হবে।" শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি, ২০২৬) বিকেলে ঢাকা-১৮ (বৃহত্তর উত্তরা) আসনে নির্বাচনি গণসংযোগকালে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি ও সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মাহমুদুর রহমান মান্না এসব কথা বলেন।

জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্র গঠনের অঙ্গীকার

গণসংযোগে মাহমুদুর রহমান মান্না ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে একটি মানবিক ও জবাবদিহিতামূলক সমাজ গড়ার প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি বলেন, “যারা ক্ষমতায় যাবেন, তাদের কাছে মানুষ তাদের অভাব-অভিযোগ বলবে। আমরা এমন এক দেশ চাই যেখানে চিকিৎসার সুব্যবস্থা থাকবে, ছেলে-মেয়েদের সুশিক্ষার পরিবেশ থাকবে এবং মানুষের মৌলিক অধিকারগুলো সুরক্ষিত থাকবে।” তিনি আরও যোগ করেন, বেকার ভাতা, দুঃস্থ ভাতা বা মহিলা ভাতা পেতে জনগণকে যেন আর এক টাকাও ঘুষ দিতে না হয়, ২০২৬ সালের নতুন সরকার সেই ব্যবস্থা নিশ্চিত করবে।

২৪-এর চেতনা ও শহীদের রক্তঋণ

মুগ্ধ ও আবু সাঈদদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে মান্না বলেন, “তারা জীবন দিয়েছে একটি বৈষম্যহীন উন্নত জীবনের প্রত্যাশায়। তাদের রক্তের সম্মান তখনই দেওয়া সম্ভব হবে, যখন আমরা দেশে প্রকৃত ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠা করতে পারব। এই নির্বাচনে দুর্বৃত্তদের কোনো জায়গা হবে না; বরং মানুষের ভালোবাসার মাধ্যমেই আগামীর দেশ পরিচালিত হবে।”

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: ১৯০০ থেকে ২০২৬-এর উত্তরণ

বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ থেকে শুরু করে ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন এবং ১৯৭১-এর মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ—সবগুলোই ছিল অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায় প্রতিষ্ঠার লড়াই। ১৯৯০-এর গণঅভ্যুত্থান এবং ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার বিপ্লব প্রমাণ করেছে যে, এ দেশের মানুষ কোনো স্বৈরাচারী শক্তিকে চিরস্থায়ী হতে দেয় না। ১৯০০ সালের সেই সূচনালগ্ন থেকে ২০২৬ সালের এই বর্তমান পর্যন্ত রাজনীতির মূল দাবিই ছিল মানুষের ভোটাধিকার এবং বাকস্বাধীনতা। আজ ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে মাহমুদুর রহমান মান্না সেই ঐতিহাসিক সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় একটি ‘নতুন বাংলাদেশ’ গড়ার ডাক দিলেন।

সমসাময়িক রাজনৈতিক উত্তাপ

উল্লেখ্য যে, ২০২৬ সালের এই নির্বাচনী মাঠে বিভিন্ন নেতার বক্তব্য রাজনীতিকে আরও মুখর করে তুলেছে। একদিকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ধানের শীষের পক্ষে জনমত গড়ছেন, অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান রাষ্ট্র সংস্কারে পাঁচ বছরের সময় চেয়েছেন। এর মাঝে ঢাকা-১৮ আসনে মাহমুদুর রহমান মান্নার এই গণসংযোগ সাধারণ ভোটারদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা তৈরি করেছে।

বিশ্লেষণ ও উপসংহার

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ২০২৬ সালের নির্বাচনে ভোটাররা প্রার্থীদের ব্যক্তিগত সততা এবং '২৪-এর চেতনার' প্রতি তাদের দায়বদ্ধতাকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। নাগরিক ঐক্যের প্রধান মাহমুদুর রহমান মান্না সেই সুশাসনের দাবিকেই বড় করে দেখছেন। ২০২৬ সালের এই নির্বাচন কেবল জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের নয়, বরং দেশ ও জাতির ভাগ্য পরিবর্তনের এক অগ্নিপরীক্ষা।


সূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক, বাংলাদেশ প্রতিদিন আর্কাইভ, বাসস এবং নাগরিক ঐক্যের নির্বাচনী প্রচার সেল।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency