| বঙ্গাব্দ

ঢাকা-৯ আসনে তাসনিম জারার ‘প্রজেক্ট ঢাকা-৯’: পোস্টার ও মাইকিংমুক্ত নির্বাচনি মডেল

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 26-01-2026 ইং
  • 2342581 বার পঠিত
ঢাকা-৯ আসনে তাসনিম জারার ‘প্রজেক্ট ঢাকা-৯’: পোস্টার ও মাইকিংমুক্ত নির্বাচনি মডেল
ছবির ক্যাপশন: ঢাকা-৯ আসনে তাসনিম জারার

রাজনীতিতে ডা. তাসনিম জারার ‘নতুন মডেল’: পোস্টার-মাইকিং ছাড়াই চলছে ‘প্রজেক্ট ঢাকা-৯’

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

ঢাকা: উচ্চশব্দের মাইকিং নেই, নেই যত্রতত্র পোস্টারের জঞ্জাল কিম্বা ভাড়া করা লোকের শোডাউন। তবুও নির্বাচনি আলোচনায় সবার শীর্ষে ঢাকা-৯ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. তাসনিম জারা। গতানুগতিক পেশিশক্তি ও অর্থের আস্ফালন বাদ দিয়ে তিনি শুরু করেছেন ‘প্রজেক্ট ঢাকা-৯’ নামে এক অভিনব প্রচার কৌশল, যা রাজধানীজুড়ে ব্যাপক কৌতূহল ও প্রশংসার জন্ম দিয়েছে।

সোমবার (২৬ জানুয়ারি) এক ফেসবুক পোস্টে তিনি তাঁর এই ব্যতিক্রমী প্রচারণার মূল দর্শন তুলে ধরেন। তাসনিম জারা বলেন, "মানুষের বিরক্তি বাড়িয়ে নয়, বরং মানুষের আস্থা ও ব্যক্তিগত বিশ্বাসকে পুঁজি করেই আমরা ভোট চাইছি।"

১৯০০ থেকে ২০২৬: নির্বাচনি প্রচারের বিবর্তন

বাঙালির নির্বাচনি ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, ১৯০০ সালের পরবর্তী ব্রিটিশ আমল থেকে শুরু করে পাকিস্তান আমল পর্যন্ত নির্বাচনি প্রচার ছিল মূলত ঘরোয়া সভা ও লিফলেট নির্ভর। ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে প্রথম বড় পরিসরে পোস্টার ও মাইকিংয়ের ব্যবহার শুরু হয়।

  • ঐতিহাসিক পটভূমি: ১৯৭০-এর নির্বাচনে মাইকিং ও পোস্টার ছিল জনমত গঠনের প্রধান হাতিয়ার। স্বাধীনতার পর গত কয়েক দশকে এটি রূপ নেয় ‘শব্দদূষণ’ ও ‘পোস্টারের জঞ্জালে’।

  • ২০২৪-এর জুলাই বিপ্লব ও ২০২৬: ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার বিপ্লবের পর রাজনৈতিক সংস্কারের যে দাবি উঠেছে, ডা. তাসনিম জারার এই উদ্যোগ তারই একটি বাস্তব প্রতিফলন। ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচন কমিশন (ইসি) পরিবেশবান্ধব প্রচারণার স্বার্থে পোস্টার লাগানো নিষিদ্ধ করলেও অনেক প্রার্থী তা মানছেন না। এই পরিস্থিতিতে ডা. জারা নিয়মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে এক নতুন উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন।

‘প্রজেক্ট ঢাকা-৯’: বিশ্বাসই যেখানে প্রধান শক্তি

তাসনিম জারা তাঁর পোস্টে উল্লেখ করেন, মাত্র দেড় দিনে ৫ হাজার ভোটারের স্বাক্ষর সংগ্রহ করতে গিয়ে তিনি সাধারণ মানুষের যে স্বতঃস্ফূর্ত ভালোবাসা পেয়েছেন, তা-ই তাঁর প্রধান শক্তি। তিনি বলছেন, "রাস্তায় বড় মিছিল বা কানের কাছে মাইক বাজলে মানুষ ভোট দেয় না। মানুষ ভোট দেয় বিশ্বাস থেকে।"

‘প্রজেক্ট ঢাকা-৯’ মূলত একটি নেটওয়ার্কিং মডেল। এখানে একজন সমর্থক তাঁর পরিচিত বন্ধু, আত্মীয় বা সহকর্মীকে ফোন করে বা ব্যক্তিগতভাবে প্রার্থীর ইশতেহার সম্পর্কে জানান। ডা. জারা বিশ্বাস করেন, "একজন পরিচিত মানুষের আন্তরিক কথোপকথন হাজারটা পোস্টারের চেয়েও শক্তিশালী।"

ফুটবল মার্কা ও আগামীর রাজনীতি

ঢাকা-৯ আসনে ‘ফুটবল’ প্রতীক নিয়ে লড়ছেন এই চিকিৎসক ও সমাজকর্মী। তিনি মনে করেন, যদি প্রমাণ করা যায় যে কোটি টাকা খরচ আর শব্দদূষণ ছাড়াও নির্বাচনে জেতা সম্ভব, তবে ভবিষ্যতে শিক্ষিত ও যোগ্য তরুণরা রাজনীতিতে আসার সাহস পাবেন।

ভোটারদের প্রতিক্রিয়া

খিলগাঁও ও মুগদা এলাকার সাধারণ ভোটারদের মতে, ডা. তাসনিম জারার এই উদ্যোগ রাজধানীর যান্ত্রিক জীবনে স্বস্তি এনেছে। যারা মিছিল-স্লোগানে অভ্যস্ত নন কিন্তু পরিবর্তন চান, তাঁরা এই ‘নীরব বিপ্লবে’ একাত্ম হচ্ছেন। তাসনিম জারার এই ‘প্রজেক্ট ঢাকা-৯’ মডেলটি সফল হলে তা বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতির মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।


সূত্র: তাসনিম জারার অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ, নির্বাচন কমিশন (ইসি) গেজেট ও স্থানীয় সংবাদদাতার পর্যবেক্ষণ। বিশ্লেষণ: বিডিএস বুলবুল আহমেদ, বিশেষ প্রতিবেদক।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency