| বঙ্গাব্দ

ঢাকা-৮ আসনে মেঘনা আলমের ভোট যুদ্ধ: শহীদ হাদির মাটি ও মুকুট নিয়ে সংসদে যাওয়ার

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 27-01-2026 ইং
  • 2367469 বার পঠিত
ঢাকা-৮ আসনে মেঘনা আলমের ভোট যুদ্ধ: শহীদ হাদির মাটি ও মুকুট নিয়ে সংসদে যাওয়ার
ছবির ক্যাপশন: ঢাকা-৮ আসনে মেঘনা আলমের ভোট যুদ্ধ

ঢাকা-৮ আসনে চমক মেঘনা আলম: কবরের মাটি ও মুকুট নিয়ে সংসদে যাওয়ার অঙ্গীকার

বিডিএস বুলবুল আহমেদ

বাংলাদেশের রাজনীতির প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ঢাকা-৮ আসন। ১৯০০ সালের বঙ্গভঙ্গ থেকে শুরু করে ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন এবং ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধ—প্রতিটি ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে ঢাকার এই এলাকাটি ছিল আন্দোলনের সূতিকাগার। ২০২৬ সালের আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সেই ঢাকা-৮ (মতিঝিল, পল্টন, শাহবাগ, রমনা) আসনে এবার লড়াইয়ের ময়দানে নেমেছেন এক আলোচিত মুখ—মিস আর্থ বাংলাদেশ ২০২০ বিজয়ী মডেল ও অভিনেত্রী মেঘনা আলম। তবে তার এবারের লড়াই কেবল গ্ল্যামারের নয়, বরং এটি রাজপথের রক্ত আর ত্যাগের এক নতুন সমীকরণ।

শহীদ ওসমান হাদির উত্তরাধিকার ও মেঘনার ‘ট্রাক’ প্রতীক

ঢাকা-৮ আসনে একসময় স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও আলোচিত তরুণ নেতা শহীদ ওসমান হাদি। গত ১২ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে ঢাকার পল্টন মডেল থানার বক্স কালভার্ট রোড এলাকায় তিনি গুলিতে আহত হন এবং পরবর্তীতে ১৮ ডিসেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় শাহাদাত বরণ করেন। হাদির সেই অসমাপ্ত স্বপ্নকে লালন করে এবার গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী হিসেবে ‘ট্রাক’ মার্কা নিয়ে নির্বাচনী মাঠে নেমেছেন মেঘনা আলম।

কবরের মাটি ও বিজয়ের মুকুট: এক অনন্য প্রতিশ্রুতি

সোমবার (২৬ জানুয়ারি ২০২৬) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক আবেগঘন পোস্টে মেঘনা আলম তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানান। তিনি লেখেন, “জয়ী হলে যেদিন প্রথম সংসদে বসবো, সেদিন মাথায় থাকবে মিস বাংলাদেশের মুকুট। আর ব্যাগে নিয়ে যাবো শহীদ ওসমান হাদির কবরের মাটি।” এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি একদিকে যেমন বাংলাদেশের নারীদের সাফল্যের প্রতীক মুকুটকে তুলে ধরেছেন, তেমনি শহীদ হাদির আত্মত্যাগকে রাষ্ট্রে সর্বোচ্চ সম্মান দেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন।

নারী নিরাপত্তা ও আধুনিক ঢাকার ভিশন

মেঘনা আলম তার নির্বাচনী ইশতেহারে ঢাকা-৮ আসনকে বাংলাদেশের সবচেয়ে নিরাপদ এলাকা হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি বলেন, “ঢাকা-৮ এলাকায় নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আধুনিক সিসিটিভি ব্যবস্থা এবং কার্যকর বিশেষ নজরদারি চালু করা হবে। কোনো নারী যেন স্ট্রিট হ্যারাসমেন্ট বা অনাকাঙ্ক্ষিত স্পর্শের শিকার না হন, সেটিই হবে আমার প্রথম কাজ।”

এছাড়া তার পরিকল্পনায় রয়েছে:

  • বিশেষ ট্রাফিক কাঠামো: পথচারীবান্ধব রাস্তা এবং সাইকেল লেন তৈরি।

  • পুষ্টি ও সচেতনতা: এলাকাবাসীর পুষ্টি চাহিদা ও সামাজিক আইনগত জ্ঞান বৃদ্ধির অগ্রাধিকার।

  • বিচারহীনতা রোধ: তিনি স্পষ্ট করে লিখেছেন, “কোনো নারীকে হয়রানি করতে দেবেন না। কোনো পুরুষকে বিচারহীনতার বলি হতে দেবেন না।”

১৯০০ থেকে ২০২৬: রাজনীতির প্রেক্ষাপট

ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, ১৯০৫ সালে ঢাকার এই এলাকাগুলোই ছিল প্রতিবাদী মিছিলের কেন্দ্রবিন্দু। ১৯৭১ সালে রমনা রেসকোর্স (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার ডাক দিয়েছিলেন। ৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনেও নুর হোসেনের রক্তে রঞ্জিত হয়েছিল এই পল্টন-জিরো পয়েন্ট এলাকা। ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানেও ঢাকা-৮ আসনের রাজপথ ছিল উত্তাল। ২০২৬ সালে এসে মেঘনা আলমের মতো তরুণী ও শিল্পমনা প্রার্থীর অংশগ্রহণ ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, বাংলাদেশের রাজনীতি এখন প্রথাগত ধারা ভেঙে নতুন প্রজন্মের হাত ধরে অগ্রসর হচ্ছে।


সূত্র: মেঘনা আলমের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজ, যুগান্তর, বাংলাদেশ প্রতিদিন আর্কাইভ, ইনকিলাব মঞ্চের বিবৃতি এবং ঐতিহাসিক নির্বাচনী নথি।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency