| বঙ্গাব্দ

২০২৬ নির্বাচন: মুকসুদপুরে জামায়াত আমিরের পথসভা ও ক্ষমার রাজনীতির ঘোষণা

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 28-01-2026 ইং
  • 1438569 বার পঠিত
২০২৬ নির্বাচন: মুকসুদপুরে জামায়াত আমিরের পথসভা ও ক্ষমার রাজনীতির ঘোষণা
ছবির ক্যাপশন: জামায়াত আমির

অতীতের সব মাফ করে দিয়েছি, আমরা সেবক হতে চাই': মুকসুদপুরে জামায়াত আমির

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির বার্তা নিয়ে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নির্বাচনি সফর শেষে ঢাকা ফেরার পথে গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে এক বিশাল পথসভায় বক্তব্য রেখেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) রাতে মুকসুদপুর বাসস্ট্যান্ডে আয়োজিত এই সভায় তিনি প্রতিহিংসামুক্ত ও ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে তাঁর এই সফর রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।

প্রতিহিংসা নয়, ক্ষমার রাজনীতি

পথসভায় ডা. শফিকুর রহমান এক ঐতিহাসিক ঘোষণা দিয়ে বলেন, "অতীতে আমাদের সঙ্গে যা যা হয়েছে, আমরা তা দলের পক্ষ থেকে মাফ করে দিয়েছি। আমরা আমাদের কথা রেখেছি।" তাঁর এই মন্তব্যকে বিশ্লেষকরা ১৯০০ সালের পর থেকে এ অঞ্চলে চলে আসা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার সংস্কৃতি ভাঙার একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। তিনি স্পষ্ট করেন যে, জামায়াত কোনো প্রতিশোধের রাজনীতিতে বিশ্বাসী নয়।

২০২৬ নির্বাচন: 'হ্যাঁ' ও 'না' ভোটের লড়াই

আসন্ন নির্বাচন প্রসঙ্গে আমির বলেন, "আল্লাহর দরবারে দোয়া করি ১২ তারিখ (ফেব্রুয়ারি) যেন একটি সুষ্ঠু নির্বাচন হয়। এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে অতীতের দুঃখ-দুর্দশার রাজনীতির কবর রচনা হয়ে নতুন রাজনীতির সূর্য উদয় হোক।" তিনি আসন্ন ভোটকে 'আজাদি' বনাম 'গোলামি'র লড়াই হিসেবে অভিহিত করে বলেন, ১২ তারিখের প্রথম ভোটটি হবে 'হ্যাঁ' ভোট (গণভোট), যা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও সংস্কারের পক্ষে রায় দেবে।

সেবক হওয়ার অঙ্গীকার ও লুণ্ঠনমুক্ত অর্থনীতি

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, "ধোঁকাবাজি, ব্যাংক ডাকাতি কিংবা শেয়ারবাজার লুটপাটের রাজনীতি আমরা করতে চাই না। আমাদের রাজনীতি দেশের মালিক হওয়ার জন্য নয়, দেশের সেবক হওয়ার জন্য।" তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আগামীর বাংলাদেশে কোনো জালিমকে কারও দিকে হাত বাড়াতে দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে তিনি বৈষম্যহীন ও সহিংসতামুক্ত সমাজ গড়ার জন্য তরুণ প্রজন্মকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: ১৯০০ থেকে ২০২৬

বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ থেকে শুরু করে ১৯৫২-র ভাষা আন্দোলন এবং ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধ—সবই ছিল শোষণের বিরুদ্ধে লড়াই। ১৯৯০-এর গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র ফিরলেও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক রেষারেষি ও 'দখলদারিত্বের' সংস্কৃতি জনজীবনকে অতিষ্ঠ করে তুলেছিল।

তবে ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার বিপ্লব বাংলাদেশের রাজনীতিতে আমূল পরিবর্তন আনে। ২০২৫ সাল ছিল পুনর্গঠনের বছর এবং ২০২৬ সালে এসে দেশ এখন একটি টেকসই গণতন্ত্রের পথে। মুকসুদপুরের এই সভায় সেই পরিবর্তনেরই প্রতিধ্বনি শোনা গেছে। বক্তৃতায় আমিরের পাশাপাশি বিএনপির কেন্দ্রীয় নেত্রী শামা ওবায়েদের একটি বক্তব্যের প্রসঙ্গ উঠে আসে, যেখানে তিনি নিজ দলের কেউ দুর্নীতি বা চাঁদাবাজি করলে তাকে পুলিশে ধরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান। এটি প্রমাণ করে যে, ২০২৬ সালের নির্বাচনে বড় দলগুলো স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার প্রতিযোগিতায় নেমেছে।

উপসংহার

মুকসুদপুর কলেজ মোড় ও বাসস্ট্যান্ড এলাকায় জড়ো হওয়া হাজার হাজার নেতা-কর্মীর উদ্দেশে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, "আমরা এমন এক বাংলাদেশ গড়তে চাই যেখানে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই সমান অধিকার পাবে।" তাঁর এই সফরের মধ্য দিয়ে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে জামায়াতের নির্বাচনি অবস্থান আরও সংহত হলো বলে মনে করছেন স্থানীয় ভোটাররা।


সূত্র: বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস), যুগান্তর অনলাইন, স্থানীয় প্রতিনিধি প্রতিবেদন এবং ডা. শফিকুর রহমানের নির্বাচনি ভাষ্য (২৭ জানুয়ারি, ২০২৬)।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency