প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ঢাকা: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে সংঘাত ও পাল্টা অভিযোগের নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। বিশেষ করে নির্বাচনী মাঠে নারী কর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিএনপি। দলটির অভিযোগ, নির্বাচনী প্রচারণায় নামা বিএনপির নারী কর্মী ও সমর্থকরা প্রতিনিয়ত জামায়াত ও ছাত্র শিবিরের পরিকল্পিত আক্রমণের শিকার হচ্ছেন।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। এ সময় তার পাশে উপস্থিত ছিলেন ভুক্তভোগী কয়েকজন নারী কর্মী, যারা সম্প্রতি বিভিন্ন এলাকায় হেনস্তার শিকার হয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে রুহুল কবির রিজভী বলেন, "একটি রাজনৈতিক দলের 'বট বাহিনী' ধর্মকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেশের নারীদের সম্পর্কে অত্যন্ত অশ্লীল ভাষায় মন্তব্য করছে। জামায়াত ও ছাত্র শিবির পরিকল্পিতভাবে আমাদের নারী কর্মীদের অনলাইন ও অফলাইন উভয় মাধ্যমেই শারীরিক ও মানসিকভাবে হেনস্তা করছে। তারা আমাদের কর্মীদের প্রতিনিয়ত হুমকি দিয়ে মাঠছাড়া করার চেষ্টা চালাচ্ছে।"
তিনি আরও অভিযোগ করেন, "জামায়াত ও শিবিরের উগ্রপন্থীরা নারীদের বাকস্বাধীনতা ও রাজনৈতিক অধিকার হরণের মাধ্যমে দেশে এক ভীতিজনক পরিবেশ তৈরি করতে চায়।"
আসন্ন নির্বাচনে জামায়াতের কোনো নারী প্রার্থী না থাকার বিষয়টি উল্লেখ করে রিজভী বলেন, "জামায়াত ক্ষমতায় গেলে এ দেশের নারীরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। দলটির আমির সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে প্রকাশ্যে বলেছেন যে, তার দলের প্রধান কখনো কোনো নারী হতে পারবে না। যে দল নারীদের নেতৃত্বের যোগ্যতা স্বীকার করে না, তারা নারীদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করবে—এমনটা ভাবা হাস্যকর।"
রিজভী সতর্ক করে বলেন, "বাংলাদেশের নারীরা আজ স্বাবলম্বী এবং সচেতন। কোনো অন্ধকারাচ্ছন্ন শক্তি তাদের অগ্রযাত্রাকে থামিয়ে দিতে পারবে না।"
ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, ১৯০০ সালের গোড়ার দিকে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনেও নারীদের অংশগ্রহণ ছিল প্রতীকী কিন্তু প্রতিবাদী। ১৯৫২-র ভাষা আন্দোলন এবং ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে বাংলার নারীদের ত্যাগ ও সংগ্রাম ছিল অবিস্মরণীয়। কিন্তু ১৯৭৫-পরবর্তী রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং নব্বইয়ের দশকের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের সময়ও রাজনৈতিক মাঠে নারীদের হেনস্তার ঘটনা বারবার সামনে এসেছে।
বর্তমান ২০২৬ সালের এই নির্বাচনী প্রেক্ষাপটটি ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার বিপ্লব পরবর্তী এক নতুন মেরুকরণ। যেখানে একদিকে 'নতুন বাংলাদেশ' গড়ার স্বপ্ন, অন্যদিকে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে পুরনো সহিংস রূপ ফিরে আসা। ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া নির্বাচনকে ঘিরে এই দ্বান্দ্বিক পরিস্থিতি ১৯০০ সাল থেকে চলে আসা ক্ষমতার লড়াইয়ের এক আধুনিক ও জটিল রূপ প্রকাশ করছে।
এদিকে জামায়াত আমিরের সাম্প্রতিক মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এবারের নির্বাচনে নারী ভোট একটি বড় ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়াতে পারে। বিএনপির অভিযোগের জবাবে জামায়াত নেতৃত্ব এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া না দিলেও মাঠপর্যায়ে দুই দলের কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
সূত্র: বিএনপি মিডিয়া সেল, সংবাদ সম্মেলন (৩০ জানুয়ারি ২০২৬), যুগান্তর আর্কাইভ এবং আল-জাজিরা (জামায়াত আমিরের সাক্ষাৎকার)।
বিশ্লেষণ: ২০২৬ সালের নির্বাচনে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যকার এই প্রকাশ্য বিরোধ নির্বাচন-পরবর্তী ক্ষমতার সমীকরণে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে নারী অধিকার ও নিরাপত্তা নিয়ে বিএনপির এই সরব অবস্থান সাধারণ নারী ভোটারদের আস্থা অর্জনের একটি কৌশল হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |