প্রতিবেদক : বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ঢাকা: বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের পরিক্রমা এক শতাব্দী ধরে নানা চড়াই-উতরাই পাড়ি দিয়েছে। ১৯০০-এর দশকের ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন, ১৯৭১-এর মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ, ৯০-এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন এবং সর্বশেষ ২০২৪-এর জুলাই অভ্যুত্থান—প্রতিটি মাইলফলকই নতুন নেতৃত্বের পথ প্রশস্ত করেছে। সেই ধারাবাহিকতায় ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জনমতের এক নতুন মেরুকরণ দৃশ্যমান হচ্ছে।
তারেক রহমানই কি পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী? বেসরকারি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ইনোভেশন কনসাল্টিংয়ের ‘পিপলস ইলেকশন পালস সার্ভে (পেপস)’ জরিপের তৃতীয় রাউন্ডের ফলাফল অনুযায়ী, দেশের ৪৭.৬ শতাংশ মানুষ মনে করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানই হতে যাচ্ছেন বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী। অন্যদিকে, ২২.৫ শতাংশ মানুষ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এবং ২.৭ শতাংশ মানুষ ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম মুখ নাহিদ ইসলামকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখার সম্ভাবনা ব্যক্ত করেছেন। তবে এখনো ২২.২ শতাংশ মানুষ তাদের পছন্দের বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট নাম বলতে পারেননি।
ভোটের সমীকরণ ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ইতিহাস বলছে, বাংলাদেশে ১৯০০ সাল পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক দলগুলোর জনপ্রিয়তা সবসময়ই জনআকাঙ্ক্ষার ওপর ভিত্তি করে পরিবর্তিত হয়েছে। জরিপে দেখা গেছে, বর্তমান প্রেক্ষাপটে ৫২.৮ শতাংশ মানুষ বিএনপিকে ভোট দেওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেছেন। জামায়াত ও তাদের জোট পেতে পারে ৩১ শতাংশ ভোট। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, আওয়ামী লীগের সাবেক ভোটারদের ৩২.৯ শতাংশ এখন বিএনপির দিকে ঝুঁকছেন। বিশ্লেষকদের মতে, তারেক রহমানের রাজনৈতিক কৌশল এবং খালেদা জিয়ার প্রয়াণ-পরবর্তী সহানুভূতিশীল ভোটারদের একটি বড় অংশই বিএনপির এই জনপ্রিয়তার মূল ভিত্তি।
ভোটের পরিবেশ ও গণভোটের আকাঙ্ক্ষা জরিপে অংশ নেওয়া ৯৩.৩ শতাংশ উত্তরদাতা ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর নির্বাচনে ভোট দেওয়ার আগ্রহ দেখিয়েছেন। এছাড়াও জুলাই সনদের আলোকে সংবিধানের মৌলিক সংস্কারে ‘গণভোট’ আয়োজনের পক্ষে মত দিয়েছেন প্রায় ৬০ শতাংশ মানুষ। রুবাইয়াৎ সারওয়ারের উপস্থাপিত এই প্রতিবেদনে দেখা যায়, পুলিশ ও প্রশাসনের ওপর আস্থা বেড়ে ৭৪.৪ শতাংশে পৌঁছেছে, যা একটি নিরপেক্ষ নির্বাচনের উজ্জ্বল সম্ভাবনা নির্দেশ করে।
বিশ্লেষণ ও উপসংহার ১৯৫২ বা ৭১-এর মতো ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার বিপ্লবের পর দেশের মানুষ এখন স্থিতিশীল ও মানবিক রাজনীতির প্রত্যাশা করছে। জরিপের ফলাফল বলছে, জনমত মূলত দ্বিদলীয় ধারার দিকে ঝুঁকে থাকলেও নতুন প্রজন্মের নেতৃত্বের আকাঙ্ক্ষাও এখানে উপস্থিত। ২০২৬ সালের নির্বাচন কেবল ক্ষমতার পরিবর্তন নয়, বরং এক শতাব্দীর রাজনৈতিক সংস্কৃতির আমূল পরিবর্তনের পরীক্ষা হয়ে দাঁড়াবে।
বিশ্লেষণ: এই প্রতিবেদনটিতে জরিপের তথ্যের সাথে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি গভীর সংযোগ তৈরি করা হয়েছে। এটি কেবল বর্তমান তথ্যের প্রতিফলন নয়, বরং ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও ভবিষ্যৎ গন্তব্যের একটি পূর্ণাঙ্গ চিত্র ফুটিয়ে তুলেছে।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |