প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ঢাকা: বাংলার রাজনীতির 'হার্টবিট' হিসেবে পরিচিত বগুড়া। ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ থেকে শুরু করে আজকের ২০২৬ সাল—বগুড়া সব সময় বাংলাদেশের রাজনীতির গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নিজ এলাকা বগুড়াকে ঘিরে এখন বইছে নতুন হাওয়া। আলোচনা এখন একটাই—জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত ৫০টি আসনের মধ্যে বগুড়া থেকে কারা যাচ্ছেন সংসদে?
বগুড়ার রাজনৈতিক গুরুত্ব বিংশ শতাব্দীর শুরু থেকেই (১৯০০ পরবর্তী) অপরিসীম। ১৯০৬ সালে মুসলিম লীগের সূচনালগ্ন এবং পরবর্তীতে ১৯৪০-এর লাহোর প্রস্তাবের প্রভাবে বগুড়ার শিক্ষিত সমাজ রাজনীতিতে সক্রিয় হয়। ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন এবং ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধে বগুড়ার নারীরা যেভাবে সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছিলেন, তা বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা আছে।
১৯৯০-এর স্বৈরাচার বিরোধী গণঅভ্যুত্থানে বগুড়া ছিল আন্দোলনের দুর্গ। ২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট ছাত্র-জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদের পতনের পর ২০২৬ সালের এই নতুন সংসদ মূলত 'শহীদ ও ত্যাগীদের' স্বপ্ন পূরণের জায়গা। ১৯ শতকের গোড়ায় নারীদের রাজনীতিতে আসার যে প্রতিবন্ধকতা ছিল, ২০২৬ সালের এই নতুন বাংলাদেশে বগুড়ার ১০ জন লড়াকু নেত্রী সেই দেয়াল ভেঙে এখন সংসদের পথে।
বগুড়ার সংরক্ষিত আসনে মনোনয়ন পেতে ইতোমধ্যে ১০ জন নেত্রী প্রস্তুতি নিলেও বর্তমানে ছয়জনের নাম আলোচনার তুঙ্গে। হাইকমান্ডের সুনজরে আসতে তারা লবিং ও দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন।
১. সুরাইয়া জেরিন রনি: বর্তমানে আলোচনার শীর্ষে আছেন জেলা মহিলা দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুরাইয়া জেরিন রনি। ২০০৩ সালে ছাত্রদলের মাধ্যমে রাজনীতি শুরু করা রনি ওয়ান-ইলেভেনের সময় থেকেই রাজপথে সক্রিয়। গাবতলী উপজেলা পরিষদের সাবেক এই ভাইস চেয়ারম্যান অসংখ্য মামলার শিকার হয়েছেন। তার মতে, তিনি দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের 'সুনজরে' আছেন।
২. অ্যাডভোকেট শাহাজাদী লায়লা আরজুমান বানু: জেলা মহিলা দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি লায়লা আরজুমান ১৯৮৮ সাল থেকে রাজনীতিতে সক্রিয়। মরহুম বাবা অ্যাডভোকেট শাহ মো. মোজাম্মেল হকের অনুপ্রেরণায় তার রাজনীতিতে হাতেখড়ি। ১৯৯৬ সাল থেকে মহিলা দলে সক্রিয় এই নেত্রী এবার মনোনয়নের বিষয়ে বেশ আশাবাদী।
৩. নাজমা আকতার: ১৯৯৪ সালে ছাত্রলীগ থেকে উঠে এসে ১৯৯৮ সালে মহিলা দলে যোগ দেন নাজমা আকতার। বর্তমানে জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করা এই নেত্রী মনে করেন, সংরক্ষিত আসনে প্রার্থিতার বিষয়টি পুরোপুরি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ইচ্ছার ওপর নির্ভরশীল।
৪. অ্যাডভোকেট রহিমা খাতুন মেরী: ১৯৯১ সালে ছাত্রদল থেকে শুরু করা মেরী বর্তমানে জেলা বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদক। ২০২৪ সালের ৫ই আগস্টের পর বগুড়ায় প্রথম মামলা করে তিনি সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন। দল তাকে মূল্যায়ন করবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।
৫. নিহার সুলতানা তিথি: সাবেক এই জিএস ও ভিপি ২০০৪ সালের জুলাই-আগস্টের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। অতীত রাজনৈতিক ত্যাগের বিনিময়ে তিনি মনোনয়ন আশা করছেন।
৬. কোহিনুর আকতার: শাজাহানপুর উপজেলা মহিলা দলের সভাপতি কোহিনুর দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রামের পরীক্ষিত নেত্রী। যোগ্যতা বিবেচনায় দল তাকে মূল্যায়ন করবে বলে তার বিশ্বাস।
বগুড়া জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও বগুড়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোশারফ হোসেন জানিয়েছেন, সংরক্ষিত আসনের দিনক্ষণ এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে বগুড়া থেকে কারা মনোনয়ন পাবেন, সেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন দলের হাইকমান্ড।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ১৯০০ সাল থেকে ২০২৬ সালের দীর্ঘ পথচলায় বগুড়ার রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন এসেছে। আগে যেখানে কেবল পারিবারিকভাবে রাজনীতি চলত, এখন সেখানে রাজপথের কর্মীরাও সংসদে যাওয়ার স্বপ্ন দেখছেন। সুরাইয়া জেরিন রনি বা রহিমা খাতুন মেরীর মতো নেত্রীদের সংসদে পাঠানো হলে তা নারী ক্ষমতায়নে এক নতুন মাত্রা যোগ করবে। ২০২৬ সালের এই নতুন বাংলাদেশ মূলত রাজপথের ত্যাগীদের মূল্যায়নেরই এক প্রতিচ্ছবি।
সূত্র: যুগান্তর, গুগল নিউজ আর্কাইভ (২০২৬ বগুড়া পলিটিক্স), বিএনপি কেন্দ্রীয় দপ্তর এবং বগুড়া জেলা বিএনপি কার্যালয়।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |