বিডিএস বুলবুল আহমেদ
বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ একটি অগ্নিপরীক্ষার দিন। দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সারা দেশের মতো ফরিদপুর-২ (নগরকান্দা-সালথা) আসনেও বইছে নির্বাচনী হাওয়া। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি, ২০২৬) রাতে সালথা উপজেলার আটঘর ইউনিয়নের জয়কালী এলাকায় এক বিশাল নির্বাচনী উঠান বৈঠকে অংশ নিয়ে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী শামা ওবায়েদ ইসলাম নেতা-কর্মীদের প্রতি কঠোর নির্দেশনা জারি করেছেন।
বিংশ শতাব্দীর শুরু থেকে (১৯০০ সাল) এই ভূখণ্ডের মানুষ বারবার তাদের গণতান্ত্রিক অধিকারের জন্য প্রাণ দিয়েছে। ১৯৫২-র ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার বিপ্লব—সবই ছিল শোষণের বিরুদ্ধে অধিকার আদায়ের লড়াই। ২০২৬ সালের এই নির্বাচনকে শামা ওবায়েদ সেই দীর্ঘ সংগ্রামের চূড়ান্ত পর্যায় হিসেবে দেখছেন। তিনি বলেন, "দীর্ঘ ১৮ বছরের সংগ্রাম ও অমানুষিক নির্যাতনের পর আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার সুযোগ এসেছে। এ দিনটিকে কোনোভাবেই হেলাফেলা করা যাবে না।"
নির্বাচনী বৈঠকে শামা ওবায়েদ ইসলাম তার নেতা-কর্মীদের কেন্দ্রভিত্তিক পাহারার সুনির্দিষ্ট রূপরেখা দেন। তিনি ঘোষণা করেন:
ভোট পাহারা: ১১ ফেব্রুয়ারি থেকেই প্রতিটি কেন্দ্রভিত্তিক শক্ত পাহারা নিশ্চিত করতে হবে।
২৪ ঘণ্টা নজরদারি: যার যার কেন্দ্রের ভোট সেই কেন্দ্রের মানুষই পাহারা দেবেন। এক কেন্দ্রের মানুষের অন্য কেন্দ্রে যাওয়ার প্রয়োজন নেই।
চূড়ান্ত ফলাফল: ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের ফলাফল ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত কেউ কেন্দ্র ত্যাগ করবেন না। প্রিজাইডিং অফিসারের কাছ থেকে রেজাল্ট শিট হাতে নিয়েই তবে কেন্দ্র ছাড়তে হবে।
শামা ওবায়েদ তার বক্তব্যে কেবল ভোটের কথাই বলেননি, বরং আগামীর সমাজ গঠনের রূপরেখাও দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, "দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়তে হলে আমাদের এখনই দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও মাদককে ‘না’ বলতে হবে।" তিনি সালথা ও নগরকান্দা এলাকা থেকে মাদক ব্যবসায়ী ও চাঁদাবাজদের সমূলে নির্মূল করার প্রতিশ্রুতি দেন।
উঠান বৈঠকে শামা ওবায়েদের সাথে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন সালথা ও নগরকান্দা উপজেলার প্রভাবশালী বিএনপি নেতৃবৃন্দ। সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও সাধারণ সম্পাদকরা তাদের বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, ১২ ফেব্রুয়ারির ভোট হবে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের শহীদদের রক্তের ঋণ শোধ করার দিন। শামা ওবায়েদকে তারা বিএনপির আগামীর নেতৃত্বের অন্যতম কাণ্ডারি হিসেবে অভিহিত করেন।
২০২৬ সালের এই নির্বাচনে বিএনপির '৩১ দফা' সংস্কার প্রস্তাবনা ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। আন্তর্জাতিক মহলের তীক্ষ্ণ দৃষ্টির মাঝে এই নির্বাচনে কারচুপি রোধ করাই এখন বিরোধী দলগুলোর প্রধান চ্যালেঞ্জ। শামা ওবায়েদের এই 'কেন্দ্র পাহারা'র ডাক মূলত সেই কারচুপি ঠেকানোরই একটি কৌশলগত অংশ।
ফরিদপুর-২ আসনে শামা ওবায়েদ ইসলামের এই কঠোর নির্দেশনা মূলত সারা দেশের ভোটারদের জন্যই একটি বার্তা। ১৮ বছরের রুদ্ধশ্বাস রাজনীতির পর ২০২৬-এর ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের ভাগ্য পরিবর্তনের দিন। নগরকান্দা ও সালথার মানুষ এখন ব্যালট বিপ্লবের মাধ্যমে তাদের পছন্দের প্রতিনিধি নির্বাচনের চূড়ান্ত প্রহর গুনছে।
সূত্র: বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস), প্রথম আলো আর্কাইভ (জানুয়ারি ২০২৬), ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি সংবাদ এবং বিএনপি মিডিয়া সেল।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |