প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
নারায়ণগঞ্জ: নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তাপ বাড়ছে। বিশেষ করে দীর্ঘদিনের মিত্র বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যকার সাম্প্রতিক বাকযুদ্ধ রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ তৈরি করেছে। গত বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) দুপুরে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে এক বিশাল জনসভায় জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বিএনপির সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড ও প্রতিশ্রুতিকে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেছেন।
বাংলাদেশের রাজনীতির শেকড় সন্ধানে আমাদের ফিরে যেতে হয় ১৯০০-এর দশকের শুরুতে। ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ এবং ১৯৪০ সালের লাহোর প্রস্তাব ছিল এ অঞ্চলের মানুষের রাজনৈতিক অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই। এরপর ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন, ১৯৬৬-এর ছয় দফা এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত হয় স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ।
স্বাধীনতার পর থেকে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পর্যন্ত ৫৪ বছরের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল মূলত তিনটি দল—আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টি। ২০২৬ সালের এই নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী সেই "তিন দলীয় বৃত্ত" ভেঙে একটি নতুন রাজনৈতিক শক্তির উত্থান ঘটাতে চায়। ১৯০০ সাল থেকে যে অধিকার আদায়ের লড়াই শুরু হয়েছিল, ২০২৬ সালে এসে তা এখন "ইনসাফ কায়েমের" লড়াইয়ে রূপ নিয়েছে বলে দাবি করছেন জামায়াত নেতৃবৃন্দ।
নারায়ণগঞ্জের জনসভায় মিয়া গোলাম পরওয়ার বিএনপির 'ফ্যামিলি কার্ড' প্রদানের প্রতিশ্রুতিকে "ভুয়া" ও "অবাস্তব" আখ্যা দিয়ে বলেন:
"দেশের জনসংখ্যা ১৮ কোটি হলেও বিএনপি ৫০ কোটি ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কথা বলছে, যা শেখ হাসিনার ১০ টাকার চাল খাওয়ানোর প্রতিশ্রুতির মতোই অবাস্তব। স্বাধীনতার পর ৫৪ বছর যারা দেশ শাসন করেছে, তাদের এখন লালকার্ড দেখানোর সময় এসেছে।"
তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, বিএনপি বর্তমানে সাইবার অ্যাটাক ও ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে জামায়াতের জনপ্রিয়তা ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা করছে। তারেক রহমানের বক্তব্যের জবাবে তিনি বলেন, অতীতে সরকারের অংশ হয়েও জামায়াত প্রমাণ করেছে যে দাড়ি-টুপিওয়ালারা দুর্নীতির সাগরে থেকেও সৎ থাকতে পারে।
নির্বাচন প্রসঙ্গে গোলাম পরওয়ার জানান, জামায়াতের দাবির মুখে সরকার এবার প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা ও বডি ক্যামেরা স্থাপনের জন্য অর্থ বরাদ্দ দিয়েছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, "সেনাবাহিনী ও বিজিবি মোতায়েন থাকবে; মাস্তানরা কিছু করতে গেলেই ধরা পড়ে যাবে।"
১৯৭১: "এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।" — বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
১৯৯০: "স্বৈরাচার নিপাত যাক, গণতন্ত্র মুক্তি পাক।" — শহীদ নূর হোসেন।
২০২৬ (৪ ফেব্রুয়ারি): "শোষক দল দিয়ে আর দেশ পরিচালনা সম্ভব নয়, এবার ইনসাফ কায়েমের পালা।" — মিয়া গোলাম পরওয়ার।
নারায়ণগঞ্জ মহানগর জামায়াতের আমির মাওলানা আবদুল জব্বারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই জনসভায় আরও বক্তব্য দেন মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম, ইঞ্জিনিয়ার মানোয়ার হোসাইন এবং জেলা সেক্রেটারি মো. হাফিজুর রহমান। অনুষ্ঠানে নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি সংসদীয় আসনে ১১-দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থীরাও উপস্থিত ছিলেন।
১৯০০ সালের সেই ব্রিটিশ বিরোধী চেতনা থেকে শুরু করে ২০২৬-এর এই ডিজিটাল নির্বাচনী লড়াই—বাংলাদেশের মানুষ সবসময়ই সততা ও দেশপ্রেমের সন্ধানে ছিল। মিয়া গোলাম পরওয়ারের বক্তব্যে এটি স্পষ্ট যে, ২০২৬ সালের নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী বিএনপি ও আওয়ামী লীগের প্রথাগত রাজনীতির বাইরে একটি বিকল্প শক্তি হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে চাইছে। তবে এই রাজনৈতিক স্নায়ুযুদ্ধ শেষ পর্যন্ত ব্যালট বক্সে কী প্রভাব ফেলে, তা দেখতে দেশবাসীকে নির্বাচনের দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
সূত্র: যুগান্তর, বাংলাদেশ প্রতিদিন আর্কাইভ, স্থানীয় সংবাদদাতা (নারায়ণগঞ্জ) এবং ঐতিহাসিক রাজনৈতিক নথি।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |