নিজস্ব প্রতিবেদক : বিডিএস বুলবুল আহমেদ
চকরিয়া (কক্সবাজার): আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমেই দীর্ঘ প্রতীক্ষিত 'নতুন বাংলাদেশ'-এর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হবে বলে মন্তব্য করেছেন কক্সবাজার-১ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, এই নির্বাচন কেবল সরকার পরিবর্তনের নয়, বরং এটি দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাঁক বদল।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বিকালে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার পশ্চিম বড় ভেওলা ইউনিয়নের ইলিশিয়া জমিলা বেগম উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে উপকূলীয় জনপদ চকরিয়া ও কক্সবাজার সবসময়ই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। ১৯০০ সালের শুরুর দিকে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের সময় থেকেই এই অঞ্চলের মানুষ নিজেদের অধিকারের প্রশ্নে ছিল আপসহীন। ১৯৪৭-এর দেশভাগ এবং ১৯৫২-র ভাষা আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে এই জনপদের সাহসী সন্তানদের অবদান ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা রয়েছে। স্বাধীনতার ৫৪ বছর পর ২০২৬ সালের এই ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে সালাহউদ্দিন আহমদ 'দ্বিতীয় মুক্তির সোপান' হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, ১৯০০ সাল থেকে আজ ২০২৬ পর্যন্ত এই অঞ্চলের মানুষ অনেক ষড়যন্ত্র দেখেছে, কিন্তু এবার তারা পরিবর্তনের পক্ষে একাট্টা।
জনসভায় সালাহউদ্দিন আহমদ বিএনপির রাষ্ট্রকাঠামো সংস্কার ও অর্থনৈতিক পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, "দেশ নিয়ে বিএনপি যে মহাপরিকল্পনা ঘোষণা করেছে, ক্ষমতায় গেলে তার প্রতিটি অক্ষর বাস্তবায়ন করা হবে। আমাদের লক্ষ্য ১৮ কোটি মানুষের ৩৬ কোটি হাতকে কর্মের হাতে পরিণত করা। দেশে কোনো বেকার থাকবে না।"
তিনি সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে বিএনপির বিশেষ তিনটি কার্ডের প্রতিশ্রুতি দেন:
ফ্যামিলি কার্ড: দরিদ্র পরিবারগুলোর সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে।
কৃষি কার্ড: কৃষকদের সরাসরি ভর্তুকি ও সার-বীজ সহায়তা দিতে।
হেলথ কার্ড: সর্বজনীন চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে।
সালাহউদ্দিন আহমদ আরও ঘোষণা করেন যে, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে মাতামুহুরীকে পৃথক উপজেলায় রূপান্তর এবং লবণের ন্যায্যমূল্য নির্ধারণ করা হবে, যা এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি।
জনসভায় তিনি অভিযোগ করে বলেন, বিগত দেড় দশকের মাফিয়া শাসনে দেশের সাধারণ মানুষ দিশেহারা ছিল। জুলাই পরবর্তী সময়েও একটি বিশেষ মহল অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই নিরাপদ থাকবে। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের নিরাপত্তায় কঠোর আইন ও কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
জনসভায় সালাহউদ্দিন আহমদের পাশে দাঁড়িয়ে সংহতি জানান তার সহধর্মিণী ও সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট হাসিনা আহমদ এবং তাদের ছেলে সাঈদ ইব্রাহিম আহমদ। এছাড়া জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন মাতামুহুরী সাংগঠনিক উপজেলা বিএনপির সভাপতি জামিল ইব্রাহিম চৌধুরী, জেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক ইউসুফ বদরী এবং সাধারণ সম্পাদক হেফাজুতুর রহমান চৌধুরী টিপুসহ জেলা ও উপজেলার শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
বক্তারা বলেন, চকরিয়া-পেকুয়ার মাটি এখন ধানের শীষের দুর্ভেদ্য দুর্গ। ১২ ফেব্রুয়ারি ব্যালটের মাধ্যমে সকল অন্যায়ের জবাব দেওয়া হবে।
সূত্র: নিজস্ব প্রতিবেদক, যুগান্তর অনলাইন আর্কাইভ, বাংলাদেশ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেসক, স্থানীয় প্রতিনিধি প্রতিবেদন ও বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার ২০২৬।
বিশ্লেষণ: এই প্রতিবেদনটি মূলত ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের চূড়ান্ত পর্যায়ের প্রচারণাকে তুলে ধরেছে। সালাহউদ্দিন আহমদের বক্তব্যে বিএনপির দীর্ঘমেয়াদী সংস্কার পরিকল্পনা এবং স্থানীয় উন্নয়নের প্রতিশ্রুতিগুলো উঠে এসেছে, যা ১৯০০ সাল থেকে চলমান রাজনৈতিক সংগ্রামের একটি আধুনিক প্রতিফলন।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |