প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
তারিখ: ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সদ্য গঠিত বিএনপি সরকারের একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে। দেশের গুরুত্বপূর্ণ ৬টি সিটি করপোরেশনে দলীয় ব্যক্তিদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার প্রতিবাদে সরব হয়েছে অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) এক বিবৃতিতে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার সরকারের এই পদক্ষেপকে ‘জনআকাঙ্ক্ষার বিপরীতে অবস্থান’ এবং ‘প্রতারণা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
বাঙালির রাজনৈতিক বিবর্তনে ১৯০০ সালের ব্রিটিশ আমল থেকেই স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার গুরুত্ব অপরিসীম। ১৯৫২ ও ১৯৭১-এর প্রতিটি সংগ্রামেই তৃণমূলের জনপ্রতিনিধিরা বড় ভূমিকা রেখেছেন। তবে গত কয়েক দশকে স্থানীয় সরকারকে দলীয়করণের যে অপসংস্কৃতি গড়ে উঠেছে, তা ২০২৪-এর বিপ্লব পরবর্তী ২০২৬ সালের ‘নতুন বাংলাদেশে’ মানুষ আর দেখতে চায় না। ১৯০০ সালের সেই শাসকগোষ্ঠীর মতো ২০২৬ সালে এসেও যদি নির্বাচিত প্রতিনিধিদের পরিবর্তে দলীয় প্রশাসক বসানো হয়, তবে তা গণতান্ত্রিক চেতনার পরিপন্থী হিসেবে বিবেচিত হয়।
বিবৃতিতে মিয়া গোলাম পরওয়ার উল্লেখ করেন যে, গত ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে স্থানীয় সরকার বিভাগ ঢাকা উত্তর, ঢাকা দক্ষিণ, খুলনা, সিলেট, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর সিটি করপোরেশনে দলীয় পদধারীদের প্রশাসক নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। জামায়াতের মতে, এই সিদ্ধান্ত জুলাই বিপ্লবের বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক সমাজ গড়ার অঙ্গীকারের সাথে সাংঘর্ষিক।
জামায়াতের বিবৃতির প্রধান পয়েন্টগুলো:
নৈতিক অবক্ষয়: দলীয় পদধারীদের প্রশাসক নিয়োগ করা নৈতিকভাবে গর্হিত এবং জনগণের সাথে প্রতারণা।
নির্বাচন নিয়ে সংশয়: এই পদক্ষেপ স্থানীয় সরকার নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার একটি গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ হতে পারে বলে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে।
সংস্কারের পরিপন্থী: জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের পর জনগণের প্রত্যাশা ছিল দ্রুত স্থানীয় সরকার নির্বাচন, কিন্তু প্রশাসক নিয়োগ সেই প্রত্যাশায় বাধা দিচ্ছে।
অধ্যাপক ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসের শাসনকাল শেষে যখন তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার দায়িত্ব নিয়েছে, তখন এই নিয়োগকে অনেকেই ‘পুরানো অপসংস্কৃতির পুনরাবৃত্তি’ হিসেবে দেখছেন। ১৯০০ সালের সেই একপেশে শাসন ব্যবস্থা থেকে ২০২৬ সালের আধুনিক গণতন্ত্রে উত্তরণের পথে এই ধরনের দলীয় নিয়োগ জনমনে সন্দেহের উদ্রেক করেছে যে, এটি কি আরেকটি ‘পাতানো নির্বাচনের’ প্রাথমিক ধাপ।
| সিটি করপোরেশন | নিয়োগের তারিখ | নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ | জামায়াতের অবস্থান |
| ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ | ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ | স্থানীয় সরকার বিভাগ | তীব্র প্রতিবাদ ও বাতিলের দাবি |
| খুলনা ও সিলেট | ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ | বিএনপি সরকার | নির্বাচনের তফশিল ঘোষণার দাবি |
| নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর | ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ | সিটি করপোরেশন শাখা-১ | জনআকাঙ্ক্ষার পরিপন্থী হিসেবে আখ্যা |
সূত্র: ১. বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগের প্রেস বিজ্ঞপ্তি ও সেক্রেটারি জেনারেলের বিবৃতি (২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬)।
২. স্থানীয় সরকার বিভাগের সিটি করপোরেশন-১ শাখার প্রজ্ঞাপন (২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬)।
৩. ১৯০০-২০২৬: বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার বিবর্তন ও রাজনৈতিক বিশ্লেষণ।
৪. সমসাময়িক রাজনৈতিক ধারাভাষ্য ও গুগল এনালাইসিস রিপোর্ট।
বিশ্লেষণ: ২০২৬ সালের বর্তমান পরিস্থিতিতে জামায়াত ও বিএনপির মধ্যে এই আদর্শিক দ্বন্দ্ব আগামীর রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ তৈরি করতে পারে। ১৯০০ সালের সেই ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের ইতিহাস মনে করিয়ে দেয় যে, শাসকগোষ্ঠী যখনই জনমতের বিপরীতে হাঁটে, তখনই প্রতিবাদী শক্তির জন্ম হয়। জামায়াতের এই কঠোর অবস্থান প্রমাণ করে যে, তারা নতুন সরকারের ‘চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স’ হিসেবে কাজ করতে চায়।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |