প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
বরগুনা: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণের ঠিক আগ মুহূর্তে বরগুনা-২ (বেতাগী, বামনা ও পাথরঘাটা) আসনে রাজনৈতিক উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করেছে। ১১ দলীয় জোট সমর্থিত জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ডা. সুলতান আহমদের কর্মীদের ওপর দফায় দফায় হামলা এবং সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম সরোয়ার হিরু গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনায় ওই এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) জামায়াত প্রার্থী ডা. সুলতান আহমদ তার ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে প্রশাসনকে উদ্দেশ্য করে এক কঠোর পোস্ট দেন। সেখানে তিনি লিখেন, ‘প্রশাসনকে জানিয়ে দিতে চাই, পাথরঘাটায় মোড়ে মোড়ে আমাদের লোকদের আটকে দেওয়া হচ্ছে। বামনায় হুমকি দেওয়া হচ্ছে। পাল্টা জবাব হলে কিন্তু কেউ দায়ী থাকবে না। ধৈর্যেরও একটা সীমা আছে।’
জানা যায়, সোমবার পাথরঘাটা কে এম মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠে নির্বাচনি সমাবেশকে কেন্দ্র করে ৪৭টি স্থানে বাধা ও হামলার শিকার হন জামায়াত নেতাকর্মীরা। এই সহিংসতায় বরগুনা-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম সরোয়ার হিরু দুর্বৃত্তদের হামলার শিকার হয়ে গুরুতর আহত হন। জামায়াত প্রার্থীর নির্বাচনি পরিচালনা কমিটি জানিয়েছে, পা ভেঙে যাওয়ার পরেও গোলাম সরোয়ার হিরু সেই অবস্থাতেই সমাবেশে যোগ দেন। এই ঘটনায় পাথরঘাটা থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে এবং বেতাগী ও পাথরঘাটায় বিক্ষোভ মিছিল করেছেন বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা।
নির্বাচনি প্রচারণার শেষ মুহূর্তে এসে বাকযুদ্ধ এখন রক্তক্ষয়ী সহিংসতায় রূপ নিয়েছে। জামায়াত প্রার্থী সুলতান আহমদের ফেসবুক স্ট্যাটাস এবং একের পর এক হয়রানির খবর এখন ওই আসনের চায়ের টেবিল থেকে শুরু করে রাজনৈতিক মহলে ‘টক অব দ্য টাউন’-এ পরিণত হয়েছে। সাধারণ ভোটারদের মনে এখন একটাই প্রশ্ন—১২ তারিখের ভোটের দিনে আদৌ নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে কি না?
বরগুনা ও পটুয়াখালী উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের রাজনৈতিক সচেতনতা ১৯০০ সালের শুরু থেকেই প্রখর। ব্রিটিশ আমল থেকে শুরু করে ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত এই অঞ্চলের মানুষ বারবার জুলুমের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে।
১৯০০-১৯৪৭: ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে উপকূলীয় অঞ্চলে বিপ্লবী কর্মকাণ্ডের এক সুদীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে।
১৯৭০: ১৯৭০ সালের নির্বাচনেও এই অঞ্চলের মানুষ শত প্রতিকূলতা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যেও ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছিল।
২০২৪: ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার বিপ্লবের পর প্রত্যাশা ছিল একটি সংঘাতমুক্ত নির্বাচন। কিন্তু ২০২৬ সালের নির্বাচনে বরগুনা-২ আসনের এই সহিংসতা যেন সেই পুরনো স্বৈরাচারী কায়দার পুনরাবৃত্তি বলে মনে করছেন স্থানীয় বিশ্লেষকরা।
আজ প্রচারণার শেষ দিনে সারা দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ছিল ঘটনাবহুল:
তারেক রহমান: তিনি তার প্রচারণা শেষে বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত করে ঘরে ফিরেছেন।
মির্জা ফখরুল: বিএনপি মহাসচিব দাবি করেছেন, নির্বাচন সুষ্ঠু হলে দেশে গণতন্ত্র চর্চার প্রকৃত সুযোগ তৈরি হবে।
ইইউ পর্যবেক্ষণ: জামায়াত আমিরের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ১৫ সদস্যের প্রতিনিধি দল বৈঠক করেছে। তারা নিশ্চিত করেছে যে, এবার ২০০ পর্যবেক্ষক মাঠে থাকবে।
ইসি সচিব: তিনি জানিয়েছেন, এবার প্রযুক্তির ব্যবহারে ভোটের ফলাফল প্রকাশে দীর্ঘ সময় লাগবে না।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বরগুনা-২ আসনের বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ১১ দলীয় জোট ও জামায়াত প্রার্থীর ওপর এই হামলা যদি প্রশাসন নিয়ন্ত্রণ করতে না পারে, তবে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি আশঙ্কাজনকভাবে কমে যেতে পারে। ১৯০০ সাল থেকে ২০২৬—দীর্ঘ ১২৬ বছরের রাজনৈতিক বিবর্তনে বারবার এটি প্রমাণিত হয়েছে যে, যখনই প্রশাসন নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনে ব্যর্থ হয়েছে, তখনই জনরায়ের অপমৃত্যু ঘটেছে। বরগুনা-২ আসনে শান্তি ফিরিয়ে আনা এখন নির্বাচন কমিশনের জন্য বড় অগ্নিপরীক্ষা।
সূত্র: ডা. সুলতান আহমদের ফেসবুক পেজ, ১১ দলীয় জোট নির্বাচনি পরিচালনা কমিটি এবং স্থানীয় সংবাদ দাতা।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |