প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মর্যাদাপূর্ণ ফলাফল অর্জন এবং দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হওয়ায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) এক বিশেষ বার্তায় তিনি জামায়াত আমিরের রাজনৈতিক শিষ্টাচার ও সংযমের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
প্রধান উপদেষ্টা তার বার্তায় উল্লেখ করেন যে, নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর ব্যাপক অংশগ্রহণ এবং পরবর্তী সময়ে ফলাফলকে শান্ত ও মর্যাদাপূর্ণভাবে গ্রহণ করার মানসিকতা দেশের স্থিতিশীলতায় বিশেষ ভূমিকা রেখেছে। ড. ইউনূস বলেন,
"নির্বাচনি প্রচার থেকে শুরু করে ফলাফল ঘোষণা পর্যন্ত আপনার দায়িত্বশীল বক্তব্য এবং কর্মীদের প্রতি শান্তিপূর্ণ আচরণের আহ্বান রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।"
২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী এককভাবে ৬৮টি আসনে জয়লাভ করেছে, যা তাদের রাজনৈতিক ইতিহাসের সর্বোচ্চ অর্জন। জোটগতভাবে তারা ৭৭টি আসনে বিজয়ী হয়ে ত্রয়োদশ সংসদের প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে। ১৯৯১ সালে ১৮টি এবং ২০০১ সালে ১৭টি আসন পেলেও এবারের ফলাফলকে দলটির জন্য একটি ‘ঐতিহাসিক মোড়’ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে ঢাকা মহানগরের ১৫টি আসনের মধ্যে ৬টিতে জামায়াতের জয়লাভ রাজধানীর রাজনীতিতে তাদের শক্ত অবস্থানের জানান দিচ্ছে।
বিংশ শতাব্দীর শুরু থেকে আজ অবধি বাংলাদেশের রাজনীতি অনেক চড়াই-উতরাই পার করেছে। ১৯০০ সালের ব্রিটিশ বিরোধী চেতনা থেকে শুরু করে ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন এবং ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধ—সবই ছিল শোষণমুক্ত সমাজের আকাঙ্ক্ষা। তবে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার মহিমান্বিত গণঅভ্যুত্থান রাষ্ট্র সংস্কারের এক নতুন দ্বার উন্মোচন করে। ২০২৫ সালের সংস্কার কার্যক্রমের সফল সমাপ্তি শেষে ২০২৬-এর এই নির্বাচনকে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা ‘গণতন্ত্রের পুনর্জন্ম’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।
প্রধান উপদেষ্টা তার বার্তায় বলেন, বাংলাদেশ আজ এক গুরুত্বপূর্ণ সময় অতিক্রম করছে। বৈশ্বিক অর্থনীতি, প্রযুক্তিগত রূপান্তর এবং জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকার ও বিরোধী দল—উভয়েরই নীতিনিষ্ঠ ভূমিকা অপরিহার্য। তিনি প্রত্যাশা করেন যে, ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে জামায়াতে ইসলামী একটি গঠনমূলক বিরোধী শক্তি হিসেবে আইন প্রণয়ন এবং রাষ্ট্রের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে।
নির্বাচন পরবর্তী সময়ে লুৎফুজ্জামান বাবর ও ড. ওসমান ফারুকের মতো প্রবীণ নেতাদের বাড়িতে নবীন প্রতিনিধিদের মিষ্টি ও ফুল নিয়ে যাওয়া এবং জামায়াত আমিরের সহনশীল বক্তব্যকে দেশের মানুষ ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছে। ইইউ পর্যবেক্ষক মিশন এই নির্বাচনকে প্রতিযোগিতামূলক বলে স্বীকৃতি দেওয়ায় বহির্বিশ্বেও বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়েছে।
সূত্র: প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং (বাসস), নির্বাচন কমিশন সচিবালয় (ইসি), এবং যুগান্তর ডিজিটাল আর্কাইভ।
বিশ্লেষণ: এই প্রতিবেদনে জামায়াতে ইসলামীর বড় উত্থান এবং প্রধান উপদেষ্টার পক্ষ থেকে প্রাপ্ত স্বীকৃতির বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। আওয়ামী লীগ বিহীন এই নির্বাচনে জামায়াত যে একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক ফ্যাক্টর হিসেবে দাঁড়িয়েছে, প্রধান উপদেষ্টার এই বার্তাই তার প্রমাণ। এটি মূলত ২০২৬ সালের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক গণতন্ত্রের একটি প্রতিচ্ছবি।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |