| বঙ্গাব্দ

সৌজন্য রাজনীতির নতুন ধারা: জামায়াত আমির ও নাহিদ ইসলামের বাসায় তারেক রহমান

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 16-02-2026 ইং
  • 1139492 বার পঠিত
সৌজন্য রাজনীতির নতুন ধারা: জামায়াত আমির ও নাহিদ ইসলামের বাসায় তারেক রহমান
ছবির ক্যাপশন: সৌজন্য রাজনীতির নতুন ধারা

রাজনীতিতে নতুন যুগের সূচনা: জামায়াত আমির ও নাহিদ ইসলামের বাসায় তারেক রহমান

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা | ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর রাজনৈতিক সৌজন্য ও নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিয়ে বিরল এক দৃষ্টান্ত গড়লেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও হবু প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার আগেই রোববার রাতে তিনি তাঁর প্রধান দুই রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী—জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের বাসায় গিয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে নির্বাচনের পরপরই বিজয়ী দলের প্রধানের পক্ষ থেকে এমন সৌজন্যতা এর আগে কখনো দেখা যায়নি।

বসুন্ধরায় জামায়াত আমিরের সঙ্গে হৃদ্যতাপূর্ণ বৈঠক

রোববার সন্ধ্যা ৭টা ১০ মিনিটে তারেক রহমান রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় জামায়াত আমিরের বাসভবনে প্রবেশ করেন। সেখানে তাঁকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান ডা. শফিকুর রহমান। প্রায় ৫০ মিনিটের এই বৈঠকে দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, নির্বাচন-পরবর্তী সহনশীল পরিবেশ এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতা নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়।

বৈঠক শেষে জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, "এটি রাজনীতির গুণগত পরিবর্তন। সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী সম্ভাব্য বিরোধীদলীয় নেতার বাসায় এসে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন—একে আমরা স্বাগত জানাই।" তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, জামায়াত জাতীয় সরকারে যোগ না দিয়ে সংসদে একটি শক্তিশালী ও গঠনমূলক বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করবে।

বেইলি রোডে নাহিদ ইসলামের সঙ্গে আধা ঘণ্টা

জামায়াত আমিরের বাসা থেকে বের হয়ে রাত ৮টা ২৫ মিনিটে বেইলি রোডে এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের বাসভবনে যান তারেক রহমান। এ সময় নাহিদ ইসলাম নিজে বাসার সামনে এসে তাঁকে অভ্যর্থনা জানান। বৈঠকে জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার বিপ্লবের বীর শহীদদের পরিবারের পুনর্বাসন এবং বিগত ফ্যাসিবাদের সময়কার সব হত্যাকাণ্ডের বিচার অব্যাহত রাখার ওপর জোর দেওয়া হয়। এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন জানান, তারেক রহমান নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা রোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

১৯০০ থেকে ২০২৬: রাজনীতির গতিপথ ও গুণগত পরিবর্তন

বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে ১৯০০ সালের ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৫২, ১৯৭১ এবং ২০২৪ সালের অভ্যুত্থান—প্রতিটি বড় পরিবর্তনের পর রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ছিল একটি নিয়মিত চিত্র। তবে ২০২৬ সালের এই নির্বাচন এবং তারেক রহমানের এই সৌজন্য সাক্ষাৎ এক নতুন ‘রাজনৈতিক সংস্কৃতির’ ইঙ্গিত দিচ্ছে। ১৯০০ সালের বঙ্গভঙ্গ পরবর্তী সময়ে এই অঞ্চলের রাজনীতিতে যে বিভেদ সৃষ্টি হয়েছিল, এক শতাব্দী পর ২০২৬ সালে এসে তা যেন ‘জাতীয় ঐক্য’ ও ‘পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের’ মাধ্যমে মেটানোর চেষ্টা চলছে।

নতুন সমীকরণ ও প্রত্যাশা

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, তারেক রহমানের এই পদক্ষেপ কেবল সৌজন্যমূলক নয়, বরং এটি একটি শক্তিশালী বার্তা যে—ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ পরিচালিত হবে সংলাপ ও সহযোগিতার ভিত্তিতে। এনসিপি নেতা সারজিস আলম ও আখতার হোসেনও এই সাক্ষাৎকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন এবং ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনে সরকারকে সমর্থনের আশ্বাস দিয়েছেন।


সূত্র: বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস), বিএনপির মিডিয়া সেল, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় দপ্তর এবং এনসিপি (NCP) প্রেস উইং।

বিশ্লেষণ: এই প্রতিবেদনটি ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তী বাংলাদেশের পরিবর্তিত রাজনৈতিক মেরুকরণের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। ১৯০০-২০২৬ কালক্রমের ঐতিহাসিক বিবর্তনের প্রেক্ষিতে এটি একটি অনন্য মাইলফলক।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency