| বঙ্গাব্দ

গাজীপুর-২ আসনে মঞ্জুরুল করিম রনির জয়: পিতার উত্তরাধিকার ও নতুন দিনের স্বপ্ন।

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 16-02-2026 ইং
  • 2054268 বার পঠিত
গাজীপুর-২ আসনে মঞ্জুরুল করিম রনির জয়: পিতার উত্তরাধিকার ও নতুন দিনের স্বপ্ন।
ছবির ক্যাপশন: গাজীপুর-২ আসনে মঞ্জুরুল করিম রনির জয়


গাজীপুর-২ আসনে রনির বিশাল জয়: পিতার উত্তরসূরি হিসেবে মঞ্জুরুলের নতুন অধ্যায়

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর | ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গাজীপুর-২ (গাজীপুর শহর ও টঙ্গী) আসনে পিতার যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে নিজের অবস্থান জানান দিলেন এম মঞ্জুরুল করিম রনি। পারিবারিক ঐতিহ্য, তরুণ নেতৃত্বের ক্যারিশমা এবং মাঠপর্যায়ের সুপরিকল্পিত প্রচারণার সমন্বয়ে তিনি বড় ব্যবধানে জয়লাভ করেছেন। এই বিজয়ের মধ্য দিয়ে গাজীপুরের রাজনীতিতে সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও সিটির প্রথম মেয়র এম এ মান্নানের উত্তরাধিকার আরও শক্তিশালী হলো।

ভোটের লড়াই: এক নজরে পরিসংখ্যান

নির্বাচন কমিশন ও বাসস (BSS) সূত্রে জানা গেছে, ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে এম মঞ্জুরুল করিম রনি পেয়েছেন ১ লাখ ৮৮ হাজার ৬০৬ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় জোটের শরিক এনসিপির প্রার্থী আলী নাছের খান পেয়েছেন ১ লাখ ৪০ হাজার ৯৫০ ভোট। প্রায় ৪৭ হাজার ৬৫৬ ভোটের ব্যবধানে এই জয়কে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখছেন।

১৯০০ থেকে ২০২৬: গাজীপুর-২ আসনের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট

গাজীপুরের রাজনৈতিক ইতিহাস অত্যন্ত প্রাচীন ও গৌরবময়। বিংশ শতাব্দীর শুরুতে (১৯০০ পরবর্তী) এই অঞ্চলটি ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু ছিল। বিশেষ করে ভাওয়াল স্টেটের রাজনৈতিক প্রভাব এই জনপদে গভীর ছাপ ফেলে।

  • ১৯৪৭-১৯৭১: দেশভাগের পর থেকে মহান মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত গাজীপুরের মানুষ সর্বদা স্বাধিকার আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। ১৯৭১ সালে ১৯শে মার্চ জয়দেবপুরে প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলা হয়েছিল।

  • ১৯৮৪-১৯৯১: ১৯৮৪ সালে গাজীপুর-২ আসনটি নতুনভাবে সীমানা নির্ধারিত হয়। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে অধ্যাপক এম এ মান্নান এই আসন থেকে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।

  • ২০২৪-২০২৬: ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার বিপ্লবের পর ২০২৬ সালের এই নির্বাচন ছিল এক নতুন বাংলাদেশের প্রত্যাশা। দীর্ঘ বছর পর বিএনপি তাদের এই হারানো দুর্গ পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হলো।

পিতার আদর্শ ও ছেলের নেতৃত্ব

বিজয় নিশ্চিত হওয়ার পর মঞ্জুরুল করিম রনি বলেন, "এই জয় আমার বাবার দীর্ঘ রাজনৈতিক ত্যাগ এবং গাজীপুরের মানুষের ভালোবাসার প্রতিফলন।" অধ্যাপক এম এ মান্নান ১৯৭৮ সালে 'জাগদল' (পরবর্তীতে বিএনপি) গঠনের সময় থেকেই শহীদ জিয়ার আদর্শের সিপাহসালার ছিলেন। ২০১৩ সালে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রথম মেয়র হিসেবে তিনি যে উন্নয়নমূলক কাজ করেছিলেন, সাধারণ মানুষ তা আজও শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে।

স্থানীয় ভোটাররা মনে করেন, রনি কেবল পিতার নামের ওপর ভর করে নয়, বরং তরুণদের সম্পৃক্ত করে মাদক, ছিনতাই ও চাঁদাবাজিমুক্ত আধুনিক গাজীপুর গড়ার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, সেটিই তাঁকে বিজয়ী করতে বড় ভূমিকা রেখেছে।

বিশিষ্টজনের আলোচনা ও অনুষ্ঠানের প্রেক্ষাপট

নির্বাচন পরবর্তী বিভিন্ন আলোচনা সভায় বক্তারা বলছেন, ২০২৬ সালের এই নির্বাচন প্রমাণ করেছে যে মানুষ ‘ব্র্যান্ড ইমেজ’ এবং ‘স্বচ্ছ নেতৃত্ব’ উভয়কেই গুরুত্ব দিচ্ছে। বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ ও হুইপ পদের দৌড়ে থাকা জামায়াত ও বিএনপির শীর্ষ নেতারাও মঞ্জুরুল করিম রনির এই বিজয়কে দক্ষিণ এশিয়ার বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একটি ইতিবাচক উদাহরণ হিসেবে দেখছেন।

গাজীপুর সদর থানা বিএনপির নেতারা বলেন, এম এ মান্নান মেয়র থাকাকালীন অধিকাংশ সময় জেলে থাকলেও এলাকার উন্নয়নে তাঁর মন ছিল সজাগ। রনি সেই অপূর্ণ স্বপ্নগুলো পূরণ করবেন—এমনটাই প্রত্যাশা শিল্পাঞ্চল অধ্যুষিত গাজীপুর-২ আসনের বাসিন্দাদের।


সূত্র: বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন (ইসি), বাসস, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সাক্ষাৎকার এবং অধ্যাপক এম এ মান্নানের রাজনৈতিক জীবনচরিত (১৯৫০-২০২২)।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency