ভোলায় সুরেশ্বরী দরবার শরীফ ও মির্জাখীল দরবার শরীফ অনুসারীদের রোজা শুরু: প্রথা অনুযায়ী প্রতি বছর সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে রোজা পালন
প্রতি বছর সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে রোজা রাখার ঐতিহ্য বজায় রেখে এবছরও ১ মার্চ থেকে রোজা শুরু করবেন ভোলার অন্তত ৫ হাজার মানুষ। বিশেষত, জেলার সাত উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে সুরেশ্বরী দরবার শরীফ ও সাতকানিয়ার মির্জাখীল দরবার শরীফের অনুসারীরা এই দিন থেকে রোজা রাখবেন। এই অনুসারীরা সৌদি আরবের রোজার সাথে সঙ্গতি রেখে নিয়মিতভাবে রোজা পালন করেন, যা স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে একটি দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য।
ভোলা জেলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার টবগী ইউনিয়নের মুলাইপত্তন গ্রামে সুরেশ্বরী দরবার শরীফ ও মির্জাখীল দরবার শরীফের অনুসারীদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। এই গ্রামে প্রায় ৩ হাজার অনুসারী রয়েছেন, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য একটি অংশ তাদের ধার্মিক অনুশীলন হিসেবে রোজা রাখবেন। গোটা জেলায় এই অনুসারীদের সংখ্যা প্রায় ৫ হাজার, যারা জেলার সদর, বোরহানউদ্দিন, দৌলতখান, তজুমদ্দিন, লালমোহন, চরফ্যাশন এবং মনপুরা উপজেলা জুড়ে ছড়িয়ে আছেন।
এ বিষয়ে, বোরহানউদ্দিন উপজেলার মুলাইপত্তন গ্রামের আমিন মিয়া চৌকিদারের বাড়ি দরজা জামে মসজিদের ইমাম আনোয়ার হোসেন বলেন, “আমরা প্রতি বছর সৌদি আরবের সাথে মিল রেখে রোজা রাখি। এবছরও ১ মার্চ থেকে প্রথম রোজা শুরু হবে। এজন্য আমরা শুক্রবার রাতে মসজিদে প্রথম তারাবি নামাজ অনুষ্ঠিত করেছি।“
এই প্রথা অনুসরণ করার মাধ্যমে, এই গ্রামে ধর্মীয় ও সামাজিক ঐক্যের এক দৃষ্টান্ত সৃষ্টি হয়েছে, যেখানে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে রোজা রাখার মাধ্যমে ইসলামিক ধর্মীয় বিধান পালন করা হয়। মসজিদ কমিটির সভাপতি মো. মাসুদ পারভেজ রহিম জানান, “ভোলা জেলার সদর, বোরহানউদ্দিন, দৌলতখান, তজুমদ্দিন, লালমোহন, চরফ্যাশন ও মনপুরা উপজেলার ১০টি গ্রামে সুরেশ্বরী দরবার শরীফ ও মির্জাখীল দরবার শরীফ অনুসারীদের সংখ্যা প্রায় ৫ হাজার।”
এছাড়া, ওই মসজিদে প্রতি বছর রোজা শুরুর আগে ধর্মীয় কর্মকাণ্ড এবং তারাবির নামাজের আয়োজন করা হয়, যা অনুসারীদের মধ্যে এক ধর্মীয় পরিবেশ সৃষ্টি করে। রোজার প্রথম দিনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং অনুসারীরা এটি খুবই উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে পালন করে থাকেন।
প্রতি বছরই এই ঐতিহ্য বজায় রেখে রোজার শুরু করা হয়, যা ভোলা অঞ্চলের মুসলিম জনগণের জন্য একটি বড় ধর্মীয় ইভেন্ট হিসেবে পরিচিত। এটি শুধুমাত্র রোজার শুরু নয়, বরং একটি সম্মিলিত ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক উপলক্ষ্য হয়ে দাঁড়ায়, যেখানে ভোলার মুসলিম সম্প্রদায় নিজেদের ধর্মীয় চেতনা, ঐক্য এবং সংস্কৃতির প্রতি সম্মান জানায়।
এছাড়া, এই অনুষ্ঠানটি ভোলার ধর্মীয় ও সামাজিক জীবনে একটি বিশেষ স্থান অধিকার করে রেখেছে, যেখানে ভোলার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে শত শত মুসলিম ধর্মাবলম্বী একত্রিত হয়ে এই রোজার শুরুর দিনে অংশগ্রহণ করেন এবং তারাবি নামাজে অংশ নেন।
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |