| বঙ্গাব্দ

মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও জুলাই বিপ্লব: ডা. শফিকুর রহমানের বিশেষ মন্তব্য ২০২৬

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 19-02-2026 ইং
  • 2043762 বার পঠিত
মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও জুলাই বিপ্লব: ডা. শফিকুর রহমানের বিশেষ মন্তব্য ২০২৬
ছবির ক্যাপশন: ডা. শফিকুর রহমানের বিশেষ মন্তব্য ২০২৬

মতপ্রকাশের স্বাধীনতার জন্যই জুলাই বিপ্লব: ডা. শফিকুর রহমান

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করাই ছিল জুলাই বিপ্লবের মূল লক্ষ্য বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) ভোরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ভিন্নমত দমন নয়, বরং ভিন্নমতকে স্বাগত জানানোই হওয়া উচিত বাংলাদেশের নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি।

১৯০০ থেকে ২০২৬: বাকস্বাধীনতা ও রাজনৈতিক লড়াইয়ের ইতিহাস

বাঙালির রাজনৈতিক ইতিহাসের প্রতিটি বাঁকে বাকস্বাধীনতা এবং সংবাদপত্রের অধিকার আদায়ের লড়াই জড়িয়ে আছে। ১৯০০ সালের ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমল থেকে শুরু করে ২০২৬ সালের আজকের এই স্বাধীন বাংলাদেশ—প্রতিটি প্রেক্ষাপটেই মুক্তবুদ্ধি ও মতপ্রকাশের অধিকার ছিল প্রধান ইস্যু। ১৯০৫-এর বঙ্গভঙ্গ এবং পরবর্তী সময়ে ১৯৪০-এর দশকে সংবাদপত্রের কণ্ঠরোধ করার যে চেষ্টা ব্রিটিশরা করেছিল, তার বিরুদ্ধে এ অঞ্চলের মানুষ সোচ্চার ছিল।

১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধ—সবই ছিল নিজের ভাষায় এবং নিজের মতে কথা বলার অধিকার আদায়ের সংগ্রাম। গত ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক অভ্যুত্থানও ছিল ফ্যাসিবাদী দুঃশাসনের বিরুদ্ধে এক মহাবিপ্লব। ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত এই নতুন রাজনৈতিক ব্যবস্থায় এখন সেই স্বাধীনতার সুফল নিশ্চিত করার সময় এসেছে। ১৯০০ সালের সেই পরাধীন শিকল ভাঙার লড়াই থেকে ২০২৬ সালের এই "নতুন বাংলাদেশ"—সবই ছিল মানুষের অধিকারের জয়গান।

ফ্যাসিবাদের অন্ধকার সময় আর নয়

ডা. শফিকুর রহমান তার পোস্টে বলেন, "গণমাধ্যমের স্বাধীনতা একটি সুস্থ গণতন্ত্রের প্রথম শর্ত। ফ্যাসিবাদের দীর্ঘ ১৭ বছরে বর্তমান সরকারি দল (বিএনপি) এবং আমরা (জামায়াতে ইসলামী)—উভয় পক্ষই স্বাধীন মতপ্রকাশের ক্ষেত্রে চরম দমন-পীড়নের শিকার হয়েছি। আমরা সেই অন্ধকার সময়ে আর ফিরে যেতে চাই না।"

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, নতুন বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি হতে হবে সহনশীল। বিরোধীদলের নেতা হিসেবে তিনি সংবাদপত্রের পূর্ণ স্বাধীনতা এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন। তার মতে, একটি শক্তিশালী বিরোধী দল এবং মুক্ত গণমাধ্যমই পারে রাষ্ট্রকে সঠিক পথে রাখতে।

নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির ডাক

২০২৬ সালের এই সন্ধিক্ষণে জামায়াত আমিরের এই বক্তব্যকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যদি ভিন্নমত গ্রহণের মানসিকতা তৈরি হয়, তবেই ২০২৪-এর বিপ্লবের প্রকৃত উদ্দেশ্য সফল হবে। তিনি সকলকে প্রতিহিংসার রাজনীতি পরিহার করে দেশ গড়ার কাজে আত্মনিয়োগ করার আহ্বান জানান।


সূত্র: ১. ডা. শফিকুর রহমানের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ (১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬)। ২. বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ ও বিরোধীদলীয় নেতার দপ্তর থেকে প্রাপ্ত তথ্য। ৩. ১৯০০-২০২৬: বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ঐতিহাসিক দলিল। ৪. সমসাময়িক রাজনৈতিক বিশ্লেষণ প্রতিবেদন ও সংবাদমাধ্যম আর্কাইভ।


বিশ্লেষণ: ২০২৬ সালের এই নতুন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিরোধীদলীয় নেতার এই বক্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ১৯০০ সালের প্রেক্ষাপটে শোষক ও শোষিতের যে লড়াই ছিল, আজ ২০২৬ সালে এসে তা শাসক ও জনগণের মধ্যে জবাবদিহিতার সম্পর্কে রূপ নিয়েছে। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনের প্রতিশ্রুতিই এখানে মুখ্য। বিগত দেড় দশকের তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে জামায়াত আমির যে নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির কথা বলেছেন, তা কার্যকর হলে বাংলাদেশের গণতন্ত্র আরও সুসংহত হবে

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency