প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার: নিয়তির কী এক অদ্ভুত পরিহাস! একসময় যাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, দীর্ঘ ৬২ দিন যার কোনো হদিস ছিল না এবং প্রায় নয় বছর যাকে নির্বাসিত জীবন কাটাতে হয়েছে—আজ সেই সালাহউদ্দিন আহমেদই দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিভাবক। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) বিকেলে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক শপথ গ্রহণের মাধ্যমে দেশের নতুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন বিএনপির এই স্থায়ী কমিটির সদস্য। কক্সবাজারের রাজনীতিতে একে ইতিহাসের সবচেয়ে নাটকীয় মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কক্সবাজারের রাজনৈতিক ইতিহাস ১৯০০ সালের শুরুর দিকেও ছিল উত্তাল। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে এই সমুদ্রতীরবর্তী জনপদের মানুষের ছিল সক্রিয় অংশগ্রহণ। ১৯৪৭-এর দেশভাগ এবং ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধে কক্সবাজারের বীর সন্তানরা সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন। তবে স্বাধীনতার পর থেকে এই জেলা থেকে কোনো পূর্ণ মন্ত্রী পায়নি সমুদ্রনগরীর মানুষ। ১৯০০ সাল থেকে ২০২৬ সালের এই দীর্ঘ ১২৬ বছরের পথচলায় সালাহউদ্দিন আহমেদই প্রথম ব্যক্তি, যিনি কক্সবাজার থেকে পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর পেলেন।
সালাহউদ্দিন আহমেদের রাজনৈতিক জীবন যেন বিংশ শতাব্দীর সেই ব্রিটিশবিরোধী বিপ্লবীদের মতোই কণ্টকাকীর্ণ। ১৯৮০-র দশকে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে তার ভূমিকা ছিল অগ্রগণ্য। পরবর্তীতে বিসিএস ক্যাডার হয়ে প্রশাসনে যোগ দিলেও ১৯৯৬ সালে তিনি পুনরায় রাজনীতির মাঠে ফিরে আসেন। ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার বিপ্লবের পর ২০২৬ সালের এই নতুন বাংলাদেশে তার এই উত্থানকে অনেকে ‘মজলুমের বিজয়’ হিসেবে অভিহিত করছেন।
২০১৫ সালের ১০ মার্চ উত্তরা থেকে নিখোঁজ হওয়ার পর তার পরিবার ও দল অভিযোগ করেছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাকে তুলে নিয়েছে। মেঘালয়ের শিলং পাহাড় থেকে উদ্ধার হওয়া এবং দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে ২০২৪ সালের আগস্টে তিনি দেশে ফেরেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসন থেকে চতুর্থবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে তিনি প্রমাণ করেছেন যে, জনগণের হৃদয়ে তার আসন কতটা মজবুত।
১৯৬২ সালে পেকুয়ার এক সম্ভ্রান্ত মৌলভী পরিবারে জন্ম নেওয়া সালাহউদ্দিন আহমেদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ থেকে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন। ছাত্র রাজনীতির সিঁড়ি বেয়ে তিনি কেন্দ্রীয় পর্যায়ে নিজের অবস্থান তৈরি করেন। ২০০১ সালে জোট সরকারের যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী হিসেবে কক্সবাজারের উন্নয়নে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছিলেন তিনি। এবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে তার কাঁধে রয়েছে জাতীয় নিরাপত্তা, সীমান্ত রক্ষা ও দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বিশাল দায়িত্ব।
সালাহউদ্দিন আহমেদের প্রভাবেই এবারের নির্বাচনে কক্সবাজারের চারটি আসনেই বিএনপির জয় সুনিশ্চিত হয়েছে বলে দাবি করেছেন জেলা বিএনপির সভাপতি শাহজান চৌধুরী। তিনি সালাহউদ্দিনকে ‘জাতীয় রাজনীতির মেসি’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, "তার মেধা ও দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা অনন্য। তিনি আগের যেকোনো মন্ত্রীর চেয়ে ভালো করবেন।"
কক্সবাজার জেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক ইউসুফ বদরী বলেন, "গুম থেকে ফিরে আসা এই নেতার নেতৃত্বে কক্সবাজার আজ উজ্জীবিত। ইনশাআল্লাহ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে তিনি দেশের টেকসই উন্নতিতে ভূমিকা রাখবেন।"
সূত্র: ১. মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও বঙ্গভবন প্রেস উইং (১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬)। ২. কক্সবাজার জেলা বিএনপি ও স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের সাক্ষাৎকার। ৩. সালাহউদ্দিন আহমেদের ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক প্রোফাইল। ৪. ১৯০০-২০২৬: বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিবর্তন দলিল।
বিশ্লেষণ: ২০২৬ সালের এই নতুন সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে সালাহউদ্দিন আহমেদের নিয়োগ কেবল একটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং এটি একটি বড় ধরনের সংস্কারের ইঙ্গিত। ১৯০০ সালের ব্রিটিশ দমননীতি থেকে শুরু করে বিগত দেড় দশকের ‘গুম-সংস্কৃতি’—সবকিছুর অবসান ঘটিয়ে একটি মানবিক ও আইনের শাসনভিত্তিক রাষ্ট্র গড়ার চ্যালেঞ্জ এখন তার সামনে। যেহেতু তিনি নিজেই রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের শিকার হয়েছিলেন, তাই মানুষ আশা করছে তার হাত ধরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী একটি জনবান্ধব ও পেশাদার বাহিনীতে রূপান্তরিত হবে। কক্সবাজারের পর্যটন, মাদক নিয়ন্ত্রণ ও রোহিঙ্গা ইস্যু মোকাবিলায় তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা নতুন সরকারের জন্য বিশেষ সম্পদ হতে পারে।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |