হেলিকপ্টার মিলন' থেকে পূর্ণ শিক্ষামন্ত্রী: ১৯০০-২০২৬; বাংলাদেশের রাজনীতির এক অনন্য অধ্যায়
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: বাংলাদেশের শিক্ষা ও রাজনীতির ইতিহাসে আ ন ম এহসানুল হক মিলন একটি আলোচিত নাম। দীর্ঘ দুই দশক পর আবারও তিনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের হাল ধরেছেন, তবে এবার পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে। ১৯০০ সালের বঙ্গভঙ্গ উত্তর রাজনৈতিক জাগরণ থেকে শুরু করে ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত বাংলাদেশের রাজনীতিতে যে আমূল পরিবর্তন এসেছে, মিলনের এই নতুন অভিষেক সেই বিবর্তনেরই একটি বিশেষ অংশ।
বাঙালি জাতির রাজনৈতিক সংগ্রামের ভিত্তি রচিত হয়েছিল বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে। ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ এবং পরবর্তীতে ১৯৪০-এর লাহোর প্রস্তাবের মধ্য দিয়ে স্বাধিকারের যে চেতনা জাগ্রত হয়েছিল, তা পূর্ণতা পায় ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে। স্বাধীনতার পর ১৯৭৫-এর পটপরিবর্তন এবং ১৯৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের পর দেশে সংসদীয় গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু হয়।
২০০১ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের আমলে শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে মিলনের ‘নকল বিরোধী অভিযান’ দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি করেছিল। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার বিপ্লবের পর ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চাঁদপুর-১ আসন থেকে আবারও জয়ী হন তিনি। ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছে শপথ নিয়ে তিনি শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
২০০১-২০০৬ মেয়াদে প্রতিমন্ত্রী থাকাকালীন মিলন এক কেন্দ্র থেকে অন্য কেন্দ্রে দ্রুত পৌঁছাতে নিজের অর্থে হেলিকপ্টার ভাড়া করে ঝটিকা অভিযান চালাতেন। সেই সময় পরীক্ষায় নকল বন্ধে তার কঠোর অবস্থানের কারণে পাসের হার ৪৪ শতাংশে নেমে এসেছিল। সে সময় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম না থাকলেও মানুষের মুখে মুখে তাকে নিয়ে নানা গল্প প্রচলিত ছিল। ২০২৬ সালে তিনি পুনরায় দায়িত্ব পাওয়ার পর নেটিজেনরা মজা করে লিখছেন, “বাচ্চারা পড়তে বসো, মিলন স্যার ফিরেছেন!”
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সচিবালয়ে প্রথম সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী মিলন স্পষ্ট ঘোষণা দেন— “নকল ও প্রশ্নফাঁস আর ফিরে আসবে না।” তিনি আরও জানান, এবার শুধু ‘হাই জাম্প’ নয়, শিক্ষা খাতে ‘পোল ভল্ট জাম্প’ দিতে হবে। তার এই মন্তব্যের পেছনে রয়েছে শপথ নিতে যাওয়ার সময় সংসদে ভিড় ঠেলে ব্যারিকেড টপকে ভেতরে ঢোকার সেই ভাইরাল ভিডিওর রেশ।
শিক্ষা ব্যবস্থাকে ২০২৬ সালের বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার উপযোগী করতে তিনি ন্যানো টেকনোলজি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং রোবটিক্স অন্তর্ভুক্ত করার অঙ্গীকার করেছেন। তার সঙ্গে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ঢাকা-১৩ আসন থেকে নির্বাচিত ববি হাজ্জাজ।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ১৯০০ সালের ঐতিহ্যবাহী রাজনীতি থেকে ২০২৬ সালের প্রযুক্তি-নির্ভর আধুনিক বাংলাদেশের সেতুবন্ধন হতে পারে মিলনের এই নতুন মেয়াদের শিক্ষা সংস্কার। অতীতে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠলেও, এবার ‘নতুন বাংলাদেশে’ জিরো টলারেন্স নীতি বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।
সূত্র: বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস), যুগান্তর, দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস এবং নির্বাচন কমিশন গেজেট ২০২৬।
বিশ্লেষণ: প্রতিবেদনটি আ ন ম এহসানুল হক মিলনের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারকে ১৯০০ সাল থেকে শুরু হওয়া দীর্ঘ রাজনৈতিক ঐতিহ্যের ফ্রেমওয়ার্কে উপস্থাপন করেছে। এতে তাঁর ২০০১ সালের পরিচিতি এবং ২০২৬ সালের নতুন আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গির একটি তুলনামূলক চিত্র ফুটে উঠেছে।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |