প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট: ১৯০০ সালের গোড়ার দিকে ব্রিটিশ শাসনামলে আসাম-বেঙ্গল রেলওয়ে স্থাপনের মাধ্যমে সিলেটের যে বাণিজ্যিক জয়যাত্রা শুরু হয়েছিল, ২০২৬ সালের এই আধুনিক যুগে এসে তা এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে যাচ্ছে। ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার বিপ্লব পরবর্তী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর গঠিত নতুন সরকারের বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির সিলেটে তাঁর প্রথম সরকারি সফরে এক যুগান্তকারী কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সকালে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সরকারি কর্মকর্তা ও দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন তিনি।
বিংশ শতাব্দীর শুরুতে ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ উত্তরকালে সিলেট অঞ্চলের চা ও প্রাকৃতিক সম্পদ ছিল বিশ্ববাজারের অন্যতম আকর্ষণ। ১৯৪৭-এর দেশভাগ এবং ১৯৭১-এর স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রবাসীদের রেমিট্যান্স এক বিশাল শক্তিতে পরিণত হয়। ১৯০০ সালের সেই সনাতনী কৃষি ও ব্যবসা নির্ভর অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে ২০২৬ সালের এই সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী এখন কথা বলছেন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং গ্লোবাল কম্পিটিশন নিয়ে। এটি কেবল সিলেটের নয়, বরং সমগ্র বাংলাদেশের ১২৬ বছরের অর্থনৈতিক বিবর্তনের এক অনন্য প্রতিচ্ছবি।
পবিত্র রমজান মাসকে সামনে রেখে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ে দেশজুড়ে যে উদ্বেগ থাকে, সে প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী আশ্বস্ত করে বলেন, “আমাদের হাতে যে পরিমাণ খাদ্য মজুত রয়েছে, তা বাজারমূল্য স্থিতিশীল রাখার জন্য পর্যাপ্ত।” দায়িত্ব নেওয়ার অল্প সময়ের মধ্যে রোজা চলে আসায় বড় ধরনের সংস্কারের সুযোগ কম থাকলেও বর্তমান মজুত দিয়ে সংকট মোকাবিলার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। ১৯০০ সালের দুর্ভিক্ষ বা ১৯৪৩-এর সেই কালো অধ্যায়গুলোর বিপরীতে ২০২৬ সালের এই সুসংগঠিত খাদ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাংলাদেশের সক্ষমতারই প্রমাণ দেয়।
সিলেট নিয়ে নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, “সিলেটের উন্নয়ন নিয়ে আমার নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে আমি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বিশেষ করে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও আইটি খাতের প্রসারে একটি আন্তর্জাতিক মানের ‘এআই (AI) সেন্টার’ প্রতিষ্ঠা করা হবে।” পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, বর্তমানে বিশ্ব অন্য কারোর প্রতি করুণার দৃষ্টিতে তাকায় না, বরং সক্ষমতা দেখে সম্মান করে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও এআই প্রশিক্ষণের আওতায় আনার কথা জানান তিনি।
সিলেটের আইটি পার্কে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে হলে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং ‘লাল ফিতার দৌরাত্ম্য’ বা প্রশাসনিক জটিলতা কমাতে হবে। বিশেষ করে প্রবাসী ও দেশীয় বিনিয়োগকারীদের জন্য নীতি-সহায়তা নিশ্চিত করার মাধ্যমে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার পরিবেশ তৈরি করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।
এ সময় মন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন সিলেটের সংসদ সদস্য এম এ মালিক, বিভাগীয় কমিশনার খান মো. রেজা-উন-নবী, রেঞ্জ ডিআইজি মো. মুশফেকুর রহমান, মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী, জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী ও ভারপ্রাপ্ত মহানগর সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদীসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা।
সূত্র: বাসস, সিলেট জেলা প্রতিনিধি প্রতিবেদন এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রেস রিলিজ।
বিশ্লেষণ: এই প্রতিবেদনটি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ২০২৬ সালের নতুন সরকার কেবল প্রথাগত রাজনীতি নয়, বরং উচ্চপ্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতি গড়তে আগ্রহী। ১৯০০ সালের ঔপনিবেশিক আমলের অবহেলা কাটিয়ে ২০২৬ সালে সিলেটের এই ‘গ্লোবাল লিডারশিপ’ তৈরির স্বপ্ন বাংলাদেশের সামগ্রিক উন্নয়নের এক ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। বাণিজ্যমন্ত্রীর এই রোডম্যাপ বাস্তবায়িত হলে সিলেট অঞ্চল দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম একটি অর্থনৈতিক হাবে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |