রাওয়ালপিন্ডি, পাকিস্তানের ক্রিকেট ইতিহাসে একটি বিশাল নাম—এবং সেই নামের সঙ্গে অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িয়ে আছে শোয়েব আখতার। যার জন্য রাওয়ালপিন্ডি শহর বিশ্বজুড়ে পরিচিত, সেই শোয়েব আখতারকে সব্বাই আদর করে ডাকেন রাওয়ালপিন্ডি এক্সপ্রেস নামে। তার ক্যারিয়ারে রাওয়ালপিন্ডি ক্রিকেট স্টেডিয়ামের গেইটের নামকরণ হয়েছে তার নামে, পাশাপাশি পিসিবির আওতাধীন একটি স্টেডিয়ামের নামও করা হয়েছে শোয়েব আখতার ক্রিকেট স্টেডিয়াম।
কিন্তু আজও, শোয়েব আখতার নামে যদি রাওয়ালপিন্ডির ক্রিকেটকে পরিচিতি দেওয়া হয়ে থাকে, তবে কেন সেই শহরের ক্রিকেট স্টেডিয়ামে তার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি? কেন তার ছবি, অর্জন, নাম কোনো অনার্স বোর্ডে নেই? প্রশ্নটি এতটাই তীব্র হয়ে উঠেছে যে, শোয়েবের নাম এবং তার অতুলনীয় অর্জন মুছে যাওয়ার মতো নয়, কিন্তু রাওয়ালপিন্ডি স্টেডিয়ামের অনার্স বোর্ডে কেন তাকে স্থান দেওয়া হয়নি, তা এক রহস্য হয়ে রয়ে গেছে।
রাওয়ালপিন্ডি ক্রিকেট স্টেডিয়ামে থাকা বিভিন্ন ক্রিকেটারের ছবি এবং তাদের অর্জনের মধ্যে শোয়েব আখতারের নামটি একেবারে অনুপস্থিত। সেখানে নাম তুলেছেন মুশফিকুর রহিম, হাসান মাহমুদ, মেহেদী হাসান মিরাজ, লিটন দাস, যারা নিজেদের কীর্তি সৃষ্টিতে ঐ মাঠে দারুণ পারফর্ম করেছেন। তবে শোয়েব আখতার, যে ক্রিকেটারটি রাওয়ালপিন্ডি ক্রিকেট স্টেডিয়ামে তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের সূচনা করেছিলেন, সেই শোয়েব আখতার কোথাও নেই।
এমনকি, পিন্ডি ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শোয়েব আখতার কোনও ইনিংসে পাঁচ উইকেটও পাননি। যদিও তার ক্যারিয়ারে টেস্ট ও ওয়ানডে মিলিয়ে ষোলোবার ইনিংসে পাঁচ উইকেট নেওয়ার রেকর্ড রয়েছে, এবং ম্যাচে দশ উইকেট পেয়েছেন দুইবার, কিন্তু সেই রাওয়ালপিন্ডি স্টেডিয়ামে কখনোই পাঁচ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেননি। এমনকি, সেখানে তার পনেরোটি উইকেটও রেকর্ড থাকলেও, পাঁচ উইকেট না পাওয়ার কারণে তার নাম অনার্স বোর্ডে জায়গা পায়নি।
রাওয়ালপিন্ডি ক্রিকেট স্টেডিয়ামের প্রেস কনফারেন্স রুমের পাশের লবিতে কত কত ক্রিকেটারের ছবি, অর্জনের গল্প সাজানো। সেখানে মুশফিক, হাসান মাহমুদ, মিরাজদের ছবি দেখা যায়, কিন্তু এক নাম যেন খুঁজে পাওয়া যায় না—শোয়েব আখতার। রাওয়ালপিন্ডির এই ক্রিকেট স্টেডিয়ামই তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের প্রথম পা রেখেছিল, কিন্তু সেখানেই তার অবদান উপেক্ষিত হয়ে রইল। রাওয়ালপিন্ডি এক্সপ্রেস, যিনি বিশ্ব ক্রিকেটে তার গতি এবং তার অসাধারণ দক্ষতা দিয়ে পরিচিত, সেই শোয়েব আখতারকে কি সত্যিই এখানে সম্মানজনক স্থান দেয়া উচিত ছিল না?
রাওয়ালপিন্ডি যদি একটি ক্রিকেটীয় রাজ্য হয়, তবে সেখানে রাজা শোয়েব আখতার। তবে, এ রাজ্যের সবচেয়ে বড় খেলা একজন কিংবদন্তি ক্রিকেটারের শূন্যতা কাটানো হয় না—যতই সেই রাজ্যের নাম রাওয়ালপিন্ডি এক্সপ্রেস নামে হয়ে থাক।
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |